০৮ অক্টোবর ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ০৫:৪৪:১৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
মেডিকেইড হারানোর শঙ্কায় ৯ লাখ নিউইয়র্কবাসী নিউইয়র্কে ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষের ফাফসা ট্যাপ ও স্টেমের আবেদন শুরু লং আইল্যান্ডে তিন দিনের অভিযানে ৩৪ নিখোঁজ শিশু ও কিশোর উদ্ধার ৬০ মিলিয়ন শিশুর নামে স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলেছে ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট সোশ্যাল সিকিউরিটি কর্মকর্তা সেজে প্রতারণা : বাংলাদেশি আবু সালেহ গ্রেফতার এআই নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের নতুন সুপার ইন্টেলিজেন্স ফোর্স আইস সেজে নারীকে নির্বাসনের হুমকিতে আতিকুলের দোষ স্বীকার বাংলাদেশি অধ্যুষিত ওজনপার্কে খলিল বিরিয়ানি চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন তিন বিজ্ঞানী মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের এজেন্ডা নিয়ে মাঠে রিপাবলিকানরা


এআই নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের নতুন সুপার ইন্টেলিজেন্স ফোর্স
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৭-১০-২০২৬
এআই নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের নতুন সুপার ইন্টেলিজেন্স ফোর্স ডোনাল্ড ট্রাম্প


কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশ, সম্ভাব্য ঝুঁকি এবং যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক নেতৃত্ব নিশ্চিত করতে নতুন একটি ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স ফোর্স’ গঠন করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত ৪ অক্টোবর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে সুপার ইন্টেলিজেন্স ফোর্স গঠনের ঘোষণা দেন। জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক জে ক্লেটনকে এই নতুন ফেডারেল টাস্কফোর্সের প্রধান করা হয়েছে। তার সঙ্গে থাকছেন ফেডারেল ট্রেড কমিশনের চেয়ারম্যান অ্যান্ড্রু ফার্গুসন, পেন্টাগনের গবেষণা ও প্রকৌশলবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি এমিল মাইকেল এবং অফিস অব পারসোনেল ম্যানেজমেন্টের পরিচালক স্কট কুপার।

টাস্কফোর্সকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ঝুঁকি ও সম্ভাবনা পর্যালোচনা করে ১২০ দিনের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে এআইয়ের কারণে সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় সরকারের করণীয়, বিদ্যমান ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং ফেডারেল সরকারের এআই খাতে কী ধরনের ভূমিকা থাকা উচিত,এসব বিষয় পর্যালোচনা করা হবে।

ট্রাম্প প্রশাসনের ভাষায়, নতুন উদ্যোগের লক্ষ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রকে সুপার ইন্টেলিজেন্স প্রযুক্তিতে বিশ্বে নেতৃত্বের অবস্থানে রাখা। টাস্কফোর্সটি শুধু সরকারি সংস্থার সঙ্গে কাজ করবে না; প্রযুক্তি কোম্পানি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ভোক্তা সংগঠন, নাগরিক অধিকার ও অন্যান্য জনস্বার্থভিত্তিক সংগঠন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো পরিচালনাকারীদের সঙ্গেও আলোচনা করবে। টাস্কফোর্স সরাসরি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার চিফ অব স্টাফ সুসি ওয়াইলসের কাছে প্রতিবেদন দেবে।

জে ক্লেটন বলেছেন, চীনসহ অন্যান্য দেশ দ্রুত এআই উন্নয়নে এগিয়ে যাওয়ার সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের পিছিয়ে পড়া বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসন এআই উন্নয়নকে জাতীয় নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখছে। তবে এআই নিয়ন্ত্রণ কতটা কঠোর হওয়া উচিত, তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক ও প্রযুক্তি মহলে বিতর্ক রয়েছে। ট্রাম্প অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে সতর্ক থাকার অবস্থান নিয়েছেন।

নতুন টাস্কফোর্স গঠনের আগে হোয়াইট হাউসে শীর্ষ প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠক করেন ট্রাম্প। ওই বৈঠকের পর বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এআইয়ের নিরাপদ ও দায়িত্বশীল উন্নয়নের বিষয়ে একটি স্বেচ্ছামূলক চুক্তিতে সম্মত হয়। চুক্তিটি আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক নয়।এদিকে বিজ্ঞান ও গবেষণায় এআই ব্যবহারের বিষয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। জাপানের কিয়োটোতে গত ৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রসহ ১৭টি দেশ কিয়োটো ভিশন ফর আ গোল্ডেন এজ অব সায়েন্স ঘোষণায় সমর্থন দিয়েছে। এতে বৈজ্ঞানিক গবেষণার প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা, গবেষণায় সুপার ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে নতুন প্রতিভা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে এআই প্রযুক্তির সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে নিউইয়র্কেও আইনপ্রণেতাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিল গত ৫ অক্টোবর এআই নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে একটি বিশেষ শুনানির আয়োজন করেছে। শুনানিতে প্রযুক্তি খাতের বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের পাশাপাশি সাবেক অ্যানথ্রপিক গবেষক জ্যাকব কক্সন সাক্ষ্য দেওয়ার কথা রয়েছে। ওপেনএআই, অ্যানথ্রপিক, গুগল ও মেটার প্রতিনিধিদেরও শুনানিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

সিটি কাউন্সিল এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে একাধিক নতুন আইন প্রস্তাব করেছে। এর মধ্যে রয়েছে বিপজ্জনক এআই কার্যক্রম প্রকাশকারী হুইসেলব্লোয়ারদের সুরক্ষা ও আর্থিক পুরস্কার, এআই ব্যবস্থার স্বাধীন তৃতীয় পক্ষের যাচাই এবং এআই ব্যবহারের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের আইনি প্রতিকার নিশ্চিত করার উদ্যোগ। কিছু প্রস্তাবে গুরুতর ঝুঁকির ক্ষেত্রে এআই ব্যবস্থাকে বন্ধ করার সক্ষমতা রাখার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।

জ্যাকব কক্সন সম্প্রতি অ্যানথ্রপিক থেকে পদত্যাগ করে এআইয়ের সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, এআই শিল্পের কিছু গবেষক প্রযুক্তিটির দ্রুত বিকাশকে অত্যন্ত বিপজ্জনক মনে করছেন এবং কিছু উন্নয়নমূলক সিদ্ধান্ত জননিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তবে তার এসব বক্তব্যের সবগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

ফলে একদিকে ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের এআই নেতৃত্ব ধরে রাখতে দ্রুত উন্নয়ন ও বৈজ্ঞানিক গবেষণায় প্রযুক্তিটির ব্যবহার বাড়াতে চাইছে, অন্যদিকে নিউইয়র্কসহ বিভিন্ন পর্যায়ে আইনপ্রণেতারা এআইয়ের নিরাপত্তা, জবাবদিহি ও নাগরিক সুরক্ষার জন্য নতুন বিধিনিষেধের কথা ভাবছেন। যুক্তরাষ্ট্রে এখন এআই নীতির মূল বিতর্ক দাঁড়িয়েছে যে প্রযুক্তির অগ্রগতি কত দ্রুত হবে এবং সেই অগ্রগতির সঙ্গে নিরাপত্তার সুরক্ষা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে।

শেয়ার করুন