ভাড়া ফ্রিজের সিদ্ধান্তে রেন্ট গাইডলাইনস বোর্ডের সভায় ভাড়াটিয়াদের উল্লাস
নিউইয়র্ক সিটির প্রায় ১০ লাখ ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত অ্যাপার্টমেন্টে ভাড়া বাড়ানো বন্ধের সিদ্ধান্ত গত ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হয়েছে। ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত শুরু বা নবায়ন হওয়া এক ও দুই বছরের ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত লিজে কোনো ভাড়া বৃদ্ধি করা যাবে না। নিউইয়র্ক সিটির রেন্ট গাইডলাইনস বোর্ড (আরজিবি) ২৫ জুন এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
ভাড়া ফ্রিজ কার্যকর হওয়ার দিনই এ সিদ্ধান্তকে ঘিরে আইনি লড়াই নতুন মাত্রা পেয়েছে। একদল বাড়ির মালিক আদালতে মামলার মাধ্যমে রেন্ট গাইডলাইনস বোর্ডের সিদ্ধান্ত বাতিলের চেষ্টা করছেন। তাদের পক্ষে আইনজীবী র্যান্ডি মাস্ট্রো দাবি করেছেন, মেয়র জোহরান মামদানির প্রশাসন সিটির রেন্ট গাইডলাইনস বোর্ডের সঙ্গে অতিরিক্ত যোগাযোগ ও সমন্বয় করেছে এবং এতে বোর্ডের স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
মামলায় সম্প্রতি জমা দেওয়া প্রায় ৩ হাজার পৃষ্ঠার ই-মেইল, টেক্সট বার্তা ও অন্যান্য যোগাযোগের নথি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। আদালতের নির্দেশে এসব নথি সিটি কর্মকর্তাদের ও আরজিবি সদস্যদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়। নথিগুলো প্রকাশের পর মাস্ট্রো দাবি করেন, সিটি হল ও আরজিবির মধ্যে যোগাযোগ ছিল উল্লেখযোগ্য এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের পুরো প্রক্রিয়ায় সমন্বয় হয়েছিল।
তবে এখন পর্যন্ত প্রকাশিত নথিতে সিটি প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তা রেন্ট গাইডলাইনস বোর্ডের সদস্যদের সরাসরি ভাড়া ফ্রিজের পক্ষে ভোট দিতে চাপ দিয়েছেন বলে এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। প্রকাশিত যোগাযোগের বড় অংশই ছিল বৈঠকের সময়সূচি, জনশুনানি, প্রতিবেদন ও তথ্য আদান-প্রদানসংক্রান্ত।
মেয়র মামদানি বলেন, তিনি রেন্ট গাইডলাইনস বোর্ডের সিদ্ধান্তের ওপর আস্থা রাখেন এবং বোর্ড স্বাধীনভাবেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তার প্রশাসন আদালতে এই সিদ্ধান্তের পক্ষে লড়াই চালিয়ে যাবে বলেও তিনি জানান। সিটির প্রধান আইনজীবী স্টিভেন ব্যাংকস আদালতে দেওয়া চিঠিতে বলেন, নথিগুলো আরজিবির সদস্যদের সততা, অখণ্ডতা ও স্বাধীনতার বিষয়টিই তুলে ধরে। তার ভাষায়, আদালতের নথি চাওয়ার আদেশ ছিল অনেকটা ফিশিং এক্সপেডিশন বা অনিয়মের প্রমাণ খোঁজার জন্য বিস্তৃত অনুসন্ধানের মতো।রেন্ট গাইডলাইনস বোর্ড একটি নয় সদস্যের স্বাধীন বোর্ড। মেয়র বোর্ডের সদস্যদের নিয়োগ করেন, তবে বোর্ডের দায়িত্ব হলো গবেষণা, জনশুনানি, ভাড়াটিয়া ও বাড়ির মালিকদের বক্তব্য এবং বিভিন্ন অর্থনৈতিক তথ্য বিবেচনা করে ভাড়া সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া।
২০২৬ সালের সিদ্ধান্তে এক ও দুই বছরের লিজ উভয় ক্ষেত্রেই ভাড়া বৃদ্ধির হার শূন্য শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত যেসব ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত লিজ শুরু বা নবায়ন হবে, সেগুলোর ভাড়া আগের বছরের একই পর্যায়ে থাকবে।
মামলাটি জিতলে বাড়ির মালিকদের দাবি অনুযায়ী বর্তমান ভাড়া ফ্রিজ বাতিল হতে পারে এবং আরজিবিকে নতুন করে প্রক্রিয়া শুরু করতে হতে পারে। তবে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ফ্রিজ কার্যকর রয়েছে এবং আদালত এখনো এটি বাতিল করেনি। গত সপ্তাহে বিচারক ব্রেন্ডন ল্যান্ট্রি জানান, ১ অক্টোবরের আগে মামলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়া সম্ভব নাও হতে পারে। মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী র্যান্ডি মাস্ট্রো সাবেক মেয়র এরিক অ্যাডামসের প্রশাসনে ফার্স্ট ডেপুটি মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি বর্তমানে মামদানির প্রশাসনের বিরুদ্ধে একাধিক আইনি পদক্ষেপে যুক্ত রয়েছেন।
বিতর্কের আরেকটি দিকও সামনে এসেছে। সাবেক আরজিবি চেয়ার ডগ অ্যাপল অভিযোগ করেছেন, গত বছর মাস্ট্রো তখন অ্যাডামস প্রশাসনের ফার্স্ট ডেপুটি মেয়র রেন্ট গাইডলাইনস বোর্ডের সিদ্ধান্তের আগে তাকে কম ভাড়া বৃদ্ধির পক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছিলেন। মাস্ট্রো ওই যোগাযোগের কথা স্বীকার করলেও বলেন, তিনি শুধু বোর্ডকে জানিয়েছিলেন যে মেয়র অ্যাডামস সম্ভাব্য সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত ছিলেন না। তিনি আরজিবির সিদ্ধান্ত পরিচালনা বা নির্ধারণ করার চেষ্টা করেননি বলে দাবি করেন। মামদানি পরে মাস্ট্রোর বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, বর্তমান বোর্ডের স্বাধীনতা নিয়ে তার সমালোচনা করা বিষয়টি বিস্ময়কর।
এদিকে ভাড়া ফ্রিজ নিয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত প্রায় ১০ লাখ ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়াটিয়ারা শূন্য শতাংশ বৃদ্ধির সুবিধা পাবেন। মামলাটি শেষ পর্যন্ত কীভাবে নিষ্পত্তি হয়, তার ওপর এ ভাড়া ফ্রিজ ভবিষ্যতেও বহাল থাকবে কি না, তা নির্ভর করছে।