ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানে প্রো-প্যালেস্টাইন আন্দোলন
ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানের বিরুদ্ধে প্রো-প্যালেস্টাইন ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে নজরদারি, হয়রানি ও প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থার অভিযোগ এনে ফেডারেল আদালতে মামলা করেছেন এক কৃষ্ণাঙ্গ মুসলিম শিক্ষার্থী। মামলাটি ২৯ মে যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানের ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট ফেডারেল কোর্টে দায়ের করা হয়। মামলার বাদী জোসাইয়া ওয়াকার অভিযোগ করেছেন, গাজা যুদ্ধবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে তার সক্রিয় ভূমিকার কারণে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একটি বেসরকারি নিরাপত্তা কোম্পানির সঙ্গে মিলে তার ওপর গোপন নজরদারি, অনুসরণ, রেকর্ডিং এবং হয়রানিমূলক অভিযান চালিয়েছে। ওই নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ডেট্রয়েটভিত্তিক সিটি শিল্ডকে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ এবং ২০২৫ সালে ক্যাম্পাসজুড়ে চলা প্রো-প্যালেস্টাইন বিক্ষোভের সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রায় ৮ লাখ মার্কিন ডলার ব্যয় করে বেসরকারি নিরাপত্তা কন্ট্রাক্টর নিয়োগ দেয়, যারা আন্ডারকভার তদন্তকারীর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছিল। মামলায় বলা হয়েছে, বিশেষভাবে ছাত্র সংগঠন স্টুডেন্টস অ্যালাইড ফর ফ্রিডম অ্যান্ড ইক্যুয়ালিটি সেফ এর সদস্য ও নেতাদের লক্ষ্য করে নজরদারি চালানো হয়েছিল, যারা ক্যাম্পাসে ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনের অন্যতম সক্রিয় অংশ ছিল। বাদী জোসাইয়া ওয়াকার অভিযোগ করেন, তাকে একাধিকবার অনুসরণ করা হয়েছে, ব্যক্তিগতভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে এবং তার ধর্মীয় ও রাজনৈতিক পরিচয়কে ভিত্তি করে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তার মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দমন করতে রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি সম্পদ ব্যবহার করেছে, যা সংবিধান লঙ্ঘনের শামিল।
মামলায় আরো অভিযোগ করা হয়েছে যে, তাকে কোনো যুক্তিসঙ্গত সন্দেহ ছাড়াই আটক করা হয়েছে, শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয়েছে এবং বিভিন্ন সময় অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের শিকার করা হয়েছে। পাশাপাশি তার ব্যক্তিগত সম্পদ ও ধর্মীয় সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর পুলিশ রিপোর্ট তৈরি করেছে, যা পরে তার ব্যক্তিগত ইলেকট্রনিক যোগাযোগ ও ডিজিটাল তথ্য অনুসন্ধানের জন্য সার্চ ওয়ারেন্ট পাওয়ার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়।
মামলা দায়েরের পর এক বিবৃতিতে জোসাইয়া ওয়াকার বলেন, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দায়িত্ব হলো মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা করা, দমন করা নয়। তার মতে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তার রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে তাকে শাস্তি দিয়েছে, যা একটি প্রাতিষ্ঠানিক বিশ্বাসভঙ্গ এবং গুরুতর অন্যায়। কাউন্সিল অন আমেরিকান ইসলামিক রিলেশনস এর মিশিগান শাখার আইনজীবী অ্যামি ডুকুরি বলেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সংবিধানের প্রথম ও চতুর্দশ সংশোধনী মানতে বাধ্য। তার মতে, একটি মুসলিম ও কৃষ্ণাঙ্গ শিক্ষার্থীকে রাজনৈতিক মতের কারণে নজরদারি ও শাস্তির মুখে ফেলা সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক। মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রো–প্যালেস্টাইন আন্দোলনের সময় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভূমিকা, ক্যাম্পাস নজরদারি এবং শিক্ষার্থীদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে চলমান আইনি বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।