ইউএস ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট ফর দ্য ওয়েস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব টেক্সাস-এ টেক্সাস
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস স্টেটে সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত স্কুল ভাউচার প্রোগ্রাম থেকে ইসলামিক স্কুলগুলোকে বাদ দেওয়ার অভিযোগে একদল অভিভাবক ও একাধিক ইসলামিক স্কুল ১ মার্চ ইউএস ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট ফর দ্য ওয়েস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট অফ টেক্সাসে টেক্সাস অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটন, টেক্সাস কম্পট্রোলার এবং শিক্ষা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলায় দাবি করা হয়েছে, ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে ইসলামিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনী অনুযায়ী ধর্মীয় বৈষম্যের শামিল।
অভিযোগে বলা হয়, টেক্সাস ও ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের গভর্নররা কাউন্সিল অন আমেরিকান ইসলামিক রিলেশনসকে (কেয়ার) বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। এর ফলে কিছু ইসলামিক স্কুলকে ভাউচার প্রোগ্রাম থেকে বাদ দেওয়ার ভিত্তি তৈরি হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে কেয়ার এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো সন্ত্রাসবাদ সংক্রান্ত অভিযোগ বা প্রমাণ নেই এবং তারা যুক্তরাষ্ট্র সরকারের তালিকাভুক্ত কোনো সন্ত্রাসী সংগঠনও নয়।
টেক্সাস প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভাউচার প্রোগ্রামে অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ও আইনি যাচাই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে। কর্মকর্তাদের দাবি, কোনো প্রতিষ্ঠান যদি কোনো নিষিদ্ধ বা সন্ত্রাসবাদ সংশ্লিষ্ট সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকে বলে প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তাদের সরকারি সুবিধা থেকে বাদ দেওয়ার ক্ষমতা স্টেটের রয়েছে। ফ্লোরিডা স্টেটেও একই ধরনের আইন কার্যকর করা হয়েছে। সেখানে গভর্নর রন ডিস্যান্টিস একটি আইন স্বাক্ষর করেছেন, যেখানে বলা হয়েছে কোনো স্কুল যদি বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্কিত বা প্রভাবিত বলে বিবেচিত হয়, তবে তারা সরকারি অর্থায়ন বা ভাউচার সুবিধা পাবে না।
এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে মুসলিম নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলো তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। তারা বলছে, ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আলাদা করা সংবিধানবিরোধী এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রের ধর্মনিরপেক্ষ নীতির পরিপন্থী।টেক্সাসের এক অভিভাবক ও ইসলামিক স্কুলে সন্তানদের পাঠানো এক মামলাকারী বলেন, এই সিদ্ধান্তের কারণে তাদের বছরে হাজার হাজার ডলার অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হচ্ছে। মামলায় আরো বলা হয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে ইসলামিক স্কুলগুলোকে ভাউচার প্রোগ্রাম থেকে বাদ দেওয়ার কারণে শিক্ষার্থীরা সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, যেখানে অন্যান্য ধর্মীয় স্কুলগুলো সুবিধা পাচ্ছে।
অন্যদিকে স্টেট কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, এই প্রক্রিয়া ধর্মের ওপর ভিত্তি করে নয় বরং নিরাপত্তা ও আইনগত যাচাইয়ের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হচ্ছে। তাদের মতে, যে কোনো স্কুল যদি নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ করে এবং কোনো সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত না থাকে, তাহলে তারা ভাউচার প্রোগ্রামে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।মামলাটি দায়েরের পর আদালত বিষয়টি প্রাথমিক শুনানির জন্য গ্রহণ করেছে এবং আগামী ২৪ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে প্রথম আনুষ্ঠানিক শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি অর্থে বেসরকারি ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সহায়তা দেওয়া দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্কিত বিষয়। সংবিধানের প্রথম সংশোধনী অনুযায়ী সরকার কোনো নির্দিষ্ট ধর্মকে সমর্থন বা বৈষম্য করতে পারে না। তবে বাস্তবে এই নীতির ব্যাখ্যা নিয়ে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান দেখা যায়। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মামলার ফলাফল ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা নীতি ও ধর্মীয় স্বাধীনতার ব্যাখ্যায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে সরকারি ভাউচার প্রোগ্রাম এবং ধর্মীয় স্কুলগুলোর সম্পর্ক নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত হতে পারে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো অভিযোগ করছে, এই ধরনের পদক্ষেপ মুসলিম সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আচরণকে আরো উৎসাহিত করতে পারে। অন্যদিকে স্টেট প্রশাসন বলছে, এটি জাতীয় নিরাপত্তা ও শিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার অংশ।এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ধর্মীয় স্বাধীনতা, শিক্ষা নীতি এবং সরকারি অর্থায়নের ব্যবহার নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশেষ করে টেক্সাস ও ফ্লোরিডার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে বিষয়টি এখন জাতীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক আলোচনায় পরিণত হয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষাবিদদের মতে, আদালতের রায় শুধু এই মামলার ফলাফল নির্ধারণ করবে না, বরং ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সরকারি সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।