মেয়েকে নিয়ে সিনেমা দেখতে যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
নাটক দেখতে গিয়েছিলেন বেইলি রোডে স্ত্রী-কন্যাসহ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর আগে মেয়ে জাইমা রহমানকে হলিউড সিনেমা দেখে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন আছে, হচ্ছে আলোচনা। তোলা হচ্ছে চা’য়ের কাপে ঝড়। বলা হচ্ছে এমন সব ঘটনার নেপথ্যে কি-ইবা আছে? না-কি শুধু বিনোদন? কারো কারো মতে, বেইলি রোড়ে নাটক এলাকায় গিয়ে নাটক দেখা কিংবা মাল্টি কমপ্লেক্সে গিয়ে সিনেমা দেখাতে-ও রাজনৈতিক সামাজিক এবং এর পাশাপাশি একটি সাংস্কৃতিক বার্তা দিচ্ছেন তিনি।
গত শনিবার (১১ এপ্রিল) অনেকটা আচমকাই তিনি সেখানে যান। অন্যদিকে এর আগে আরেক সপ্তাহের ১০ এপ্রিল শুক্রবার রাতে মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়ে ঢাকার একটি মাল্টিপ্লেক্সে হলিউড সিনেমা ‘প্রজেক্ট হেইল মেরি’ দেখে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাজধানীর বেইলি রোডে মহিলা সমিতি মিলনায়তনে গিয়ে দেখেছেন শিশুতোষ নাটক ‘কবি চিতাবাঘ’ । তার সঙ্গে স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমান রয়েছেন।
এব্যাপারে যা জানা গেলো
জানা গেলো যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১১ এপ্রিল বেইলি রোডে মহিলা সমিতি মঞ্চে তার স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে এসেছেন। সন্ধ্যা ৭টায় তিনি সেখানে এসেছেন। এর আগে ৩ এপ্রিল সাপ্তাহিক ছুটির দিন সন্ধ্যায় রাজধানীর ধানমন্ডির সীমান্ত সম্ভার সিনেমা হলে হলে যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার মেয়ে জাইমা রহমান। সেখানে ইংরেজি সিনেমা ‘প্রোজেক্ট হেইল মেরি’ দেখেন তারা।
এব্যাপারে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা গেলো প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নাটক দেখতে আসায় মিলনায়তনে প্রবেশের পর শিশু দর্শক ও অভিভাবক জানার পর তাদের মধ্যে এক অন্যরকম অনুভূতি সৃষ্টি হয়। প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবার যখন মঞ্চে উঠেন তখন পুরো মিলনায়তনে দর্শকরা করতালি দিয়ে অভিনন্দন জানায়।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, ‘নাটক দেখা বিনোদনের জন্য নয়, মূলত প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যরা শিশু শিল্পীদের উৎসাহ দিতেই এখানে এসেছেন। পরে প্রধানমন্ত্রী শিশু শিল্পীদের সঙ্গে ফটোসেশনেও অংশ নেন।’শিকড় চিলড্রেন থিয়েটার প্রযোজনায় নওশিন আফসানা বৃষ্টির গল্পের এই শিশুতোষ নাটকটি নাট্যরুপ দিয়েছেন তপু চন্দ্র দাস। অন্যদিকে ঢাকার একটি মাল্টিপ্লেক্সে হলিউড সিনেমা ‘প্রজেক্ট হেইল মেরি’ দেখার ব্যাপারে আতিকুর রহমান জানান ছুটির দিনে বিনোদনের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী প্রেক্ষাগৃহে ছবি দেখতে এসেছিলেন। ওইদিন সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে শো শুরু হয়ে শেষ হয়েছে রাত ১০টা ১০ মিনিটে।
কি বার্তা দিচ্ছেন তারেক রহমান
নাটক সিনেমা দেখে কি বার্তা দিচ্ছেন তারেক রহমান? কারো কারো মতে, এটা হয়তবা স্বাভাবিক ঘটনা। কারো মনে হয়েছে বক্স অফিসে ঝড় তোরো ছবিটি তিনি ও তার মেয়েতো সিনেমা হলে গিয়ে তা-তো দেখতেই পারেন। কেননা মুক্তির পরই বিশ্বজুড়ে ১৪০ দশমিক ৯ মিলিয়ন ডলার আয় করে ২০২৬ সালের সবচেয়ে বড় ওপেনিংয়ের রেকর্ড গড়েছে ‘প্রজেক্ট হেইল মেরি’। তাছাড়া ছবিতে তো বিজ্ঞান নিয়ে বিস্ত কৌতুহলী কাহিনী ও মহাকাশ অভিযানের দৃশ্যের পাশাপাশি রোমাঞ্চ আর মানবিক আবেগে গড়া সিনিমা।’ এজন্য হয়তো তিনি ও তার পরিবার বড় পর্দায় দেখে এসেছেন।
সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বার্তা দিলেন তিনি
কিন্তু সুক্ষ্মভাবে দেখতে গেলে বিষয়টি আসলে তা নয়। খুব ভালোভাবে বিশ্লেষণ করলে এখানে মিলবে অনেক কিছু। ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর একটি গোষ্ঠী সারা দেশ জুড়ে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানাতে গিয়ে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে একের পর এক ঘটনা বিচলিত করে তোলে। অন্যদিকে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা নেওয়ার পর থেকে একটি মহল নানান ধরনের ইস্যুতে দেশের ঐতিহ্যবাহি প্রতিষ্ঠানে আঘাত হেনে যাচ্ছিল। আঘাত হানা হচ্ছিল দেশের বিভিন্ন স্থানে মাজার-মন্দিরসহ ঐতিহ্যবাহী এ ভবন ও সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটে।
এদিকে সবচেয়ে বড়ো আঘাত আসে ওসমান হাদির মৃত্যুর পর। বিশেষ করে ২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর সবচেয়ে বড়ো ধাক্কা দেওয়া হয় সাংস্কৃতি অঙ্গনে। পাকিস্তানি শাসকদের বাধা উপেক্ষা করে ১৯৬১ সালে রবীন্দ্রজন্মশতবর্ষ উদযাপন এবং তার সূত্র ধরে পরে যে সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানটের জন্ম তাতে আঘাত আসে। বাঙালি সংস্কৃতি চর্চার ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানট ভবনে হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়েছিল। দেওয়া হয়েছে আগুন। দেশের ঐতিহ্যবাহি উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করা হয়। হামলা করে গুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমকেও। অথচ হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের মধ্যে সহিংসতা পরিহার করার আহ্বান জানিয়েছে তার সংগঠন ইনকিলাব মঞ্চ। এসব কর্মকান্ডে বলা চলে সারা জাতির সামনে প্রশ্ন দেখা দেয় আসলে বাংলাদেশ কি তার মুক্ত সাংস্কৃতিক চর্চার ক্ষেত্রে কঠিন বাধায়। কেননা বাংলাদেশে একের পর এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বন্ধ, নাট্যমঞ্চে বাধার মুখে পড়া এবং ছায়ানট, উদীচীর মতো ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনায় চরম আতঙ্কে সংস্কৃতিকর্মীরা। রাজধানীর মহিলা সমিতিতে বাধার মুখে নাটক বন্ধ হয়েছে। ফরিদপুরে কনসার্টে হামলা হয়েছে। এই ঘটনাগুলোতে মৌলবাদী গোষ্ঠী বা বিশেষ মব জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছিল। তা-ই কারো কারো মতে বেইলি রোডে নাটক ও মাল্টিপ্লেক্সে হলিউড সিনেমা ‘প্রজেক্ট হেইল মেরি’ দেখে সিনেমা দেখার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে উৎসাহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
পারিবারিক বন্ধনেও বার্তা
এদিকে কারো কারো মতে, পুরো পরিবারকে নিয়ে সিনেমা দেখতে যাওয়ার মধ্যদিয়েও প্রধানমন্ত্রী জাতিকে একটি বার্তা দিয়েছেন। কেননা স্ত্রী-কন্যাসহ-ই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সিনেমা ও নাটক দেখেছেন। এতে তিনি বার্তা দিলেন যে সুস্থ সুন্দর পরিবেশে একসময়ে এদেশের জনগণ কিভাবে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের পাশে ছিলেন। এবং কিভাবে পুরো পরিবারকে নিয়ে তারা এসব উপভোগ করতো। বিভিন্ন সুস্থ্য সুন্দর সাংস্কৃতি অনুষ্ঠানে পুরো পরিবার নিয়েই যে উপভোগে আলাদা প্রশান্তিও তা-ও তুলে ধরলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী আরও বার্তা দিলেন যে বাংলাদেশে পারিবারিক বন্ধন অটুট রাখা মানসিক প্রশান্তি সামাজিক নিরাপত্তা, নৈতিকতা শিক্ষা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার জন্য অপরিহার্য। এটি যৌথ পরিবার ব্যবস্থায় নিরাপত্তা ও সুখ বৃদ্ধি করে, সন্তানদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে এবং বয়স্কদের একাকীত্ব দূর করে। বার্তা দিলেন বিশ্বায়নের যুগে পারিবারিক মূল্যবোধ টিকিয়ে রাখতে এটি গুরুত্বপূর্ণ।