২৬ মার্চ ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ০২:৫০:২১ পূর্বাহ্ন


বাংলাদেশের জন্য অভিবাসী ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ২৫-০৩-২০২৬
বাংলাদেশের জন্য অভিবাসী ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত যুক্তরাষ্ট্রের ঢাকাস্থ দূতাবাস


যুক্তরাষ্ট্রের ঢাকাস্থ দূতাবাস গত ২৩ মার্চ একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে। দূতাবাস জানিয়েছে যে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা জারি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে এবং বাংলাদেশ এ তালিকার মধ্যে রয়েছে। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, স্থগিতাদেশের উদ্দেশ্য হলো নিশ্চিত করা যে অভিবাসীরা যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কল্যাণ সুবিধা অবৈধভাবে গ্রহণ না করে এবং আমেরিকান জনগণের ওপর আর্থিক বোঝা সৃষ্টি না করে। দূতাবাস আরো সতর্ক করেছে যে, পর্যটক বা শিক্ষার্থী ভিসার ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব নেই এবং আবেদনকারীরা স্বাভাবিকভাবে ভিসা সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে পারবেন।

ডিপার্টমেন্ট অব স্টেট গত ২১ জানুয়ারি থেকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা জারি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। এ সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের নাগরিকদের আবেদনও প্রভাবিত হয়েছে। ডিপার্টমেন্টের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো নিশ্চিত করা যে অভিবাসীরা সরকারি কল্যাণ সুবিধা অবৈধভাবে গ্রহণ না করে বা আমেরিকানদের ওপর আর্থিক বোঝা না হয়ে দাঁড়ায়। ডিপার্টমেন্ট অব স্টেট জানিয়েছে, স্থগিতাদেশ শুধুমাত্র অভিবাসী ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, পর্যটক বা শিক্ষার্থী ভিসায় এর কোনো প্রভাব নেই। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে সকল স্ক্রিনিং ও যাচাই প্রক্রিয়া পূর্ণাঙ্গভাবে পুনঃমূল্যায়ন করা হবে, যাতে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ দেশের নাগরিকরা যুক্তরাষ্ট্রে অনৈতিকভাবে সরকারি কল্যাণ সুবিধা গ্রহণ করতে না পারে।

স্টেট যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যেই স্পষ্ট করেছেন, অভিবাসীরা স্বনির্ভর হতে হবে এবং আমেরিকানদের ওপর আর্থিক বোঝা সৃষ্টি করতে পারবে না। তিনি আরো জোর দিয়ে বলেছেন, আমরা চাই অভিবাসীরা তাদের আর্থিক দায়িত্ব নিজে বহন করবে এবং কোনোভাবে আমেরিকান জনগণকে অতিরিক্ত বোঝা তৈরি করবে না।

স্টেট ডিপার্টমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, স্থগিতাদেশের আওতায় থাকা দেশের মধ্যে রয়েছে আফগানিস্তান, আলবেনিয়া, আলজেরিয়া, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, বাহামা, বাংলাদেশ, বার্বাডোস, বেলারুশ, ভুটান, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, ব্রাজিল, মিয়ানমার, কম্বোডিয়া, কামেরুন, কিউবা, ইরান, ইরাক, জর্ডান, নেপাল, পাকিস্তান, সিরিয়া, তানজানিয়া, থাইল্যান্ড, ইয়েমেনসহ মোট ৮০টিরও বেশি দেশ।

স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, প্রভাবিত দেশের নাগরিকরা এখনো আবেদনপত্র জমা দিতে এবং ভিসা সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে পারবে। তবে, যদি কোনো ব্যক্তির দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকে এবং তার অন্য দেশের বৈধ পাসপোর্ট থাকে, তাহলে সেই আবেদন এ স্থগিতাদেশের আওতায় পড়বে না। এছাড়া মার্কিন নাগরিকদের দ্বারা দত্তক নেওয়া শিশুদের ক্ষেত্রে ‘জাতীয় স্বার্থ ব্যতিক্রম’ প্রযোজ্য হতে পারে। এ ব্যতিক্রম প্রয়োগ হলে অভিভাবকরা স্বাভাবিক দত্তক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে পারবে। স্থগিতাদেশের কারণে কোনো বৈধ অভিবাসী ভিসা বাতিল করা হয়নি। পর্যটক বা শিক্ষার্থীদের ভিসা চলমান রয়েছে ।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এ পদক্ষেপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র অভিবাসী নীতি আরো কঠোর করছে এবং সরকারি সহায়তার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে চাইছে। এই সময়ে সকল প্রক্রিয়া পুনর্মূল্যায়ন করা হবে, যাতে অভিবাসীরা আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হয় এবং দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বজায় থাকে। ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র বলেন, আমরা চাই যে অভিবাসীরা যুক্তরাষ্ট্রে আসার সময় সম্পূর্ণভাবে স্বনির্ভর হোক। আমাদের লক্ষ্য হলো অভিবাসী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, নিরাপত্তা ও আমেরিকান জনগণের স্বার্থের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

শেয়ার করুন