১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, শনিবার, ০৫:০৫:৩৮ পূর্বাহ্ন


যোগ্য এক রাষ্ট্রনায়কের প্রতিচ্ছবি তারেক রহমান
মোহাম্মদ মাসুদ
  • আপডেট করা হয়েছে : ১১-০২-২০২৬
যোগ্য এক রাষ্ট্রনায়কের প্রতিচ্ছবি তারেক রহমান তারেক রহমান


তারেক রহমান নিজেই বলেছেন, সরকারের খুব কাছে থেকেও সরকারে অংশগ্রহণ করিনি আমি। তবে দেশের এ প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে তথা তৃণমূলে চষে বেড়িয়েছেন সে সময়। তখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তার মা, বেগম খালেদা জিয়া। আজ তিনি বেঁচে নেই। তার স্থানে জাতীয়তাবাদী দলের হাল ধরেছেন তারেক রহমান, চেয়ারম্যানের পদ অলকৃত করার মধ্যদিয়ে। 

আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১৬ বছরে নির্বাসনে থাকতে হয় তাকে সুদূর লন্ডনে। সেখানে থেকেও বিএনপিকে তিনি তৃণমূল পর্যন্ত দেখাশুনা করে দলকে ভয়াবহ ষড়যন্ত্র ও ভাঙন থেকে রক্ষা করেছেন। সেটাতেই তার নেতৃত্বের প্রতি অগাধ আস্থা নেতাকর্মীদের। কিন্তু দেশে ফেরার পর তার বিভিন্ন অঙ্গনে বৈঠক, বিদেশী সংবাদ মাধ্যমে বক্তব্য প্রদান থেকে শুরু দলীয় নির্বাচনি জনসভায় যেসব বক্তব্য প্রদান করে আসছেন, তাতে ৬০ বছর বয়সি এ বিএনপি নেতা নিজেকে উপস্থাপিত করতে সক্ষম হয়েছেন ভিন্ন ধারার এক রাজনীতিবিদ হিসেবে। গতানুগতিক সে নির্বাচনি জনসভা করেননি। এ যেন এক আলোচনার মঞ্চ। যেখানে উপস্থিত হাজার হাজার মানুষের প্রশ্ন ও উত্তরদান ও তাদের সমস্যার সমাধানে সরাসরি নেতার সঙ্গে গণমানুষের কথোপকথন অনুষ্ঠানে রূপ দেন। 

তার নির্বাচনি ইশতিহারও একটু ব্যাতিক্রম। প্রতিটা সেক্টর তিনি স্পর্শ করে সেখানে সমাধান ও তার প্রধানমন্ত্রী হলে সমাধান উল্লেখ করেছেন। এবং প্রতিটা সেক্টরের সমস্যার পরিসংখ্যানটাও তিনি তুলে ধরেছেন। এতে মানুষ সহজেই বুঝতে পেরেছেন সবকিছু। এতে সাধারন মানুষ মুগ্ধ। ভোট তাকে তারা দেবেন কি দেবেন না সেটা পরের কথা। ব্যাক্তি তারেক রহমান দীর্ঘ ১৭ বছরে যে অনেক পরিণত ও একজন ভবিষ্যতের রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে নিজেকে গুছিয়ে প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছেন এটাই তিনি দেশের মানুষকে ইতিমধ্যে প্রমাণ দিতে সক্ষম হয়েছেন। ফলে ভবিষ্যতে তারেকের কাছে রাষ্ট্র নিরাপদ সেটা ইতিমধ্যে তারেকের চীর শত্রুরাও বলতে শুরু করেছেন। 

সম্প্রতি এক সাক্ষাতকার দিয়েছেন রয়টার্সকে। বিভিন্ন মিডিয়ায় সাক্ষাতকার দেয়ার পাশাপাশি রয়টার্সের ওই সাক্ষাতকারের বিশ্লেষণ ব্যাপক। অল্প কথায় ভবিষ্যতে তার প্ল্যান ও পরিকল্পনা, রাজনীতিতে তার দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রতিবেশী রাষ্ট্রসমূহ থেকে শুরু করে ভবিষ্যতে বন্ধুপ্রতীম রাষ্টের সঙ্গেও কী সম্পর্ক হবে তার একটা ইঙ্গিত তিনি দিয়ে দিয়েছেন। 

গত ৬ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার রয়টার্সকে দেয়া সাক্ষাতকারে তার ভবিষ্যত চিন্তাধারায় বাংলাদেশে একটা অর্ন্তভূক্তিমূলক রাজনীতি, অতি ডানপন্থি নয় মধ্যপন্থী উদারগনতন্ত্রী রাজনীতির ধারক ও বাহক হবে তার দল সেটাই তিনি প্রকাশ করেন। 

 আওয়ামী লীগকে নিয়ে যা বললেন 

বিএনপি বারবার বলে আসছে কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া সমার্থন করে না বিএনপি। মির্জা ফখরুল এভাবেই আওয়ামী লীগ ইস্যুতে বিএনপির চিন্তাধারা প্রকাশ করেন। এরপর রয়টার্সের সঙ্গে চেয়ারম্যান তারেক রহমান আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে বেশ কৌশলেই কথা বলেছেন। 

 প্রশ্ন ছিল শেখ হাসিনার সন্তানেরা বিদেশ থেকে ফিরে এসে রাজনীতিতে যুক্ত হতে পারবেন কি না? এ প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, ‘যদি কাউকে মানুষ গ্রহণ করে, যদি মানুষ তাঁদের স্বাগত জানায়, তাহলে যে কারও রাজনীতি করার অধিকার রয়েছে।’ তারেকের এমন কথায় শেখ হাসিনাকে গ্রীন সিগনাল দিচ্ছে কি না, এ নিয়ে চলছে জল্পনা কল্পনা। কারণ শেখ হাসিনার সন্তানেরা এখনও রাজনীতি করার পর্যায়ে সেভাবে অ্যাক্টিভ না। শেখ হাসিনা এখনও দলের ফ্রন্টলাইনার। ফলে তারেকের কথায় কোনো ইঙ্গিত আছে কিনা হাসিনাকে ফেরানোর সেটার অর্ন্তনিহীত খোঁজার চেষ্টা হচ্ছে। যদিও শেখ হাসিনা এখন ফাঁসির আসামী। তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা। তাকে এগুলো আগে ফেস করতে হবে। তাছাড়া হাসিনার বয়সও একটা ফ্যাক্টর। এতো ঝাক্কিঝামেলা শেখ হাসিনা নিতে দেশে আসবেন কি না সেটাও বড় প্রশ্ন। ফলে তারেক রহমানের ওই কথা, ত্রায়োদশ জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী ভোটার নিজের বাক্সে টানার কৌশল কি না সেটাও বোঝার চেষ্টা করছেন অনেকে। 

জামায়াতের সঙ্গে জোট গড়া নাকচ 

কথিত আছে জামায়াত বহু আগ থেকেই অর্থাৎ খালেদা জিয়া জীবিত থাকা অবস্থাতেই বিএনপির সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলার আপ্রাণ চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন। বিশেষ করে জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্ব বহুবার তারেক রহমানের সঙ্গে একটি কার্যকরি বৈঠকের চেষ্টা করেও সেভাবে আলোচনার টেবিলে বসতে পারেনি। খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পরও জামায়াতের নেতৃবৃন্দ পুরানো ইস্যু নিয়ে আগ্রহী ছিলেন। কিন্তু বরাবরই বিএনপি তথা তারেক রহমানের পক্ষ থেকে কোনো রকম গ্রীন সিগনাল পাননি। এ প্রসঙ্গে রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ঐক্য সরকারের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, ‘আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে (জামায়াত) কীভাবে আমি সরকার গঠন করি, তাহলে বিরোধী দল কে হবে?’ 

আসন্ন নির্বাচনে ৩০০ সংসদীয় আসনের দুই–তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয় লাভের বিষয়ে বিএনপি আশাবাদী। নির্বাচনে ২৯২টি আসনে বিএনপির প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বাকি আসনগুলোতে তাঁদের জোট শরিকেরা লড়ছেন। নির্বাচনে বিএনপি কত আসনে জয় পেতে পারে, সে সংখ্যা বলতে চাননি তারেক রহমান। তবে তিনি বলেন, ‘আমরা আত্মবিশ্বাসী, সরকার গঠনের জন্য পর্যাপ্তসংখ্যক আসন আমাদের থাকবে।’ 

বিএনপির পররাষ্ট্রনীতি

তারেক রহমানের বিভিন্ন সময়ে দেয়া বক্তব্যে সবার সাথে বন্ধুত্ব, কারোর সাথে বৈরিতা নয় এমন নীতিই প্রকাশ পেয়েছে। তবে সরকার গঠনের সুযোগ পেলে বিএনপিকে বেশ কঠিন বাস্তবতার সম্মুখীনই হতে হবে। কারণ ভূ-রাজনীতিতে বাংলাদেশ এক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে। এখানে বাংলাদেশকে পেতে চায় বিশ্বের পরাশক্তি সব দেশই। যেমনটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া কানাডা প্রমুখ দেশ। তেমনি ভারত, চীন, রাশিয়াসহ সমমনা অন্যসব দেশও। এটা নতুন কিছু না। শেখ হাসিনাও বহু কৌশলে এসব মোকাবেলা করেও কূলকিনারা করতে পারেনি। এর কারন বাংলাদেশ দরিত্র এক দেশ। এখানে সবার সহযোগিতা দরকার প্রায় বিশ কোটি মানুষকে যথার্থ নিরাপত্তা, আহার, বাসস্থান নিশ্চিতকরনে। ফলে এ চ্যালেঞ্জটা ভীষন। 

রয়টার্স লিখেছে ঢাকায় একটি আদালত গত বছর শেখ হাসিনাকে ক্র্যাকডাউনে ভূমিকার জন্য মৃত্যুদণ্ড দিলেও নয়াদিল্লি তাকে আশ্রয় দেয়ায় বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। অন্যদিকে, এই সুযোগে চীন তাদের বিনিয়োগ ও রাজনৈতিক প্রভাব বাড়ানোর সুযোগ পাচ্ছে।

নির্বাচনে জিতলে ভারত থেকে মুখ ফিরিয়ে চীনের দিকে ঝুঁকবেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের ১৭ কোটি মানুষের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য উপযুক্ত অংশীদার প্রয়োজন। তিনি বলেন, আমরা যদি ক্ষমতায় যাই, তবে তরুণদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে হবে। দেশে বিনিয়োগ আনতে হবে যাতে মানুষের জীবনমান উন্নত হয়। সুতরাং, বাংলাদেশের স্বার্থ এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে যারা আমার জনগণের জন্য উপযুক্ত প্রস্তাব দেবে, আমরা তাদের সঙ্গেই বন্ধুত্ব করব; কোনো বিশেষ দেশের সঙ্গে নয়।

রোহিঙ্গা ইস্যু 

বাংলাদেশের সবচে চ্যালেঞ্জিং ইস্যু রোহিঙ্গা। মিয়ানমারের সঙ্গে এ ইস্যুতে সম্পর্কের অবনতি। বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ এবং উচ্চ দারিদ্র্যপীড়িত বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিচ্ছে। তারা মিয়ানমারের সামরিক দমনপীড়নের মুখে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছিল। অন্তর্বর্তী সরকার গত বছর জানায়, দেশের বর্তমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে শরণার্থীদের জন্য অতিরিক্ত সম্পদ বরাদ্দ দেয়া তাদের পক্ষে সম্ভব নয় এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে প্রত্যাবাসনে সহায়তা করার আহ্বান জানিয়েছিল। তারেক রহমান বলেন, তিনিও চান রোহিঙ্গারা তাদের দেশে ফিরে যাক, তবে সেটি অবশ্যই নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত হওয়ার পর। তিনি বলেন, আমরা এই বিষয়টি নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করবো যাতে এই মানুষগুলো তাদের নিজ ভূমিতে ফিরে যেতে পারে। তাদের ফিরে যাওয়ার জন্য পরিস্থিতি নিরাপদ হতে হবে। যতক্ষণ পরিস্থিতি নিরাপদ না হচ্ছে, তারা এখানে থাকতে পারবেন, তাদের স্বাগতম। 

এছাড়াও তারেক রহমান তার টেলিভিশন ও বেতারে দেয়া ভাষনেও বেশ কিছু বিষয়ের অবতরণা করেন। এরমধ্যে অন্যতম ছিল- 

জেন জি ইস্যু

 বিটিভি ও বেতার ভাষণে তিনি নির্বাচনি ইশতেহারের সব কিছু দেয়ার পরও তিনি সংক্ষিপ্ত আকারে আবারও তার অবতারণা ঘটান। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য জেন জি ও বেকার সমস্যা। সেখানে তিনি বলেন, বেকার সমস্যা নিরসনের লক্ষ্যে ব্যাংক, বীমা, পুঁজিবাজারসহ দেশের অর্থনৈতিক খাতের সার্বিক সংস্কার, অঞ্চল ভিত্তিক অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা এবং শিল্প ও বাণিজ্যে দেশী বিদেশী বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশে বিদেশে এক কোটি কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যমার্তা নির্ধারণ করা হয়েছে। এভাবে পর্যায়ক্রমিকভাবে এক কোটি কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য কয়েকটি সেক্টরকে বিশেষভাবে চিহ্নিত করে নতুন কর্মসংস্থান তৈরির উপায় এবং কর্মকৌশল নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই অংশ হিসাবে দেশব্যাপী কারিগরি এবং ব্যবহারিক শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে বেকার জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরিত করা হবে। কলেজ, মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয় বিনামূল্যে স্কিলস ডেভেলপমেন্ট, ফ্রিল্যান্সিং এবং আউটসোর্সিং প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে, যাতে করে বেকার যুবক কিংবা তরুণ-তরুণীরা দেশে বিদেশে উচ্চ বেতনের চাকরির জন্য প্রস্তুত হয়ে সরাসরি কর্মক্ষেত্রে কর্মসংস্থানে যুক্ত হতে পারেন। প্রতিটি অঞ্চলভিত্তিক স্থানীয়ভাবে বিখ্যাত এবং ঐতিহ্যবাহী পণ্যের উৎপাদন এবং বাজারজাতকরণের জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে। স্থানীয় কুটির শিল্প ও এসএমই খাত বিকশিত করার জন্য সহজ এবং স্বল্পসুদে ঋণ সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে। বৈষয়ক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের পণ্য রপ্তানির লক্ষে বেসরকারি শিল্প সম্প্রসারণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির সহায়ক উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সাইবার নিরাপত্তা আউটসোর্সিং, ডাটা প্রসেসিং, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, সেমিকন্ডাক্টরসহ আইটি সেক্টরে নতুন শিল্প গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এইসব সেক্টরে প্রতিবছর সরাসরি ২ লক্ষ এবং ফ্রিল্যান্সিং ক্রিয়েটিভ ইন্ডাস্ট্রি ও কন্টেইন ক্রিয়েশন এর মাধ্যমে পরোক্ষভাবে আরো ৮ লক্ষ কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। 

সবশেষ

তারেক রহমান এভাবে তার নির্বাচনি ইশতেহার ও বিভিন্ন স্থানে দেয়া বক্তব্যে সত্যিকার অর্থেই বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষকে স্বপ্ন দেখাতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি এটাও বলেছেন, তিনি নিজে ও তার দল বিএনপি ও তিনি সরকার গঠন করলে তার সরকার যেসব কাজ করতে পারবেন, শুধু সেটুকুই তিনি বলেছেন। বাড়তি একটুও তিনি বলেননি। সাধারণ মানুষ তার এ কথাগুলো ও প্রতিশ্রুতির গুরুত্ব দিচ্ছে। মানুষ আশা করছে এমন পরিকল্পনায় দেশ এগিয়ে গেলে বাংলাদেশ অদূর ভবিষ্যতে একটা সুখী সমৃদ্ধশালী দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করবে। যেখানে ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে মানুষ একে অপরের সঙ্গে মিলে মিশে একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হবেন। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশেষ করে খালেদা জিয়ার ইন্তেকাল, শেখ হাসিনার বিদেশে চলে যাওয়া এমনি মুহূর্তে দেশ অনেকটাই নেতৃত্বশুন্য। যারা রাজনীতি ব্যাক্তিত্ব রয়েছেন সবার পক্ষে অন্তত খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনার তুল্য প্রশাসন পরিচালনাসহ দেশ চালানো সম্ভবপর বা পরীক্ষিত নন। তারেকও অনভিজ্ঞ। তবুও ক্ষমতার কাছাকাছিই তিনি ছিলেন তার মা খালেদা জিয়ার পাশে। বাবা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে বলীয়ান ও দেশ প্রেমিক ও আপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার তত্ত্বাবধায়নে বেড়ে ওঠা তারেকের উপর আস্থা রাখতে চান অনেকেই!

শেয়ার করুন