প্রতীকী ছবি
জাতীয় নির্বাচন ২০২৬ বাংলাদেশের অগ্নিপরীক্ষা। অনির্বাচিত অন্তর্বর্তী সরকার বিদ্ধমান সংবিধানের অধীনে শপথ নিয়ে সংবিধানের ধারা লংঘন করেই জাতীয় নির্বাচন এবং একই দিনে সংবিধান সংস্কারের ধারা সম্বলিত জুলাই সনদের উপর গণভোট অনুষ্ঠান করছে। নির্বাচনে দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে অংশ গ্রহণ করতে দেয়া হচ্ছে না। ভেবে দেখুন নির্বাচনে আছে ১৯৭১ স্বাধীনতা যুদ্ধে হানাদার পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে সহায়তাকারী জামাতে ইসলামী অথচ নেই মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্ব দানকারি দল আওয়ামী লীগ। মিডিয়ায় সয়লাব নির্বাচনে জামাত নেতৃত্বের জোটের বিজয় সম্ভাবনা পূর্বাভাসে। কি বিচিত্র এই বাংলাদেশ।
দেশে চলছে নির্বাচনী প্রচার জোরে সরে। প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি জোট এবং জামাত জোটের বিরুদ্ধে। দুটি দলের মূল পুঁজি অন্তত বাহ্যিকভাবে ভারত বিরোধিতা, আওয়ামী বিরোধিতা। দুই দলের আবার অতীতে যুগপৎ রাজপথে আন্দোলন এবং সরকার পরিচালনার ইতিহাস আছে। ২০২৪ জুলাই আগস্ট ছাত্র আন্দোলনের পরিণতিতে মেটিকুলাস ডিজাইনে সরকার পরিবর্তনের কৃতিত্ব দুটি দল দাবি করলেও এর পিছনে যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডিপ স্টেটের মূল ভূমিকা ছিল সেটি এখন দিনের আলোর মত পরিষ্কার।
গত ১৮ মাসে বাংলাদেশ থেকে মহান মুক্তিযুদ্ধের অধিকাংশ অর্জন মুছে ফেলার সর্বাত্মক চেষ্টা করা হয়েছে। স্বাধীনতার সপ্নদষ্টা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশে এখন নিষিদ্ধ নাম। ধানমন্ডি ৩২ নাম্বার মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মাটিতে মিশিয়ে ফেলা হয়েছে। ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ অবমূল্যায়িত। মামলা বাণিজ্য, চাঁদাবাজি, মবসন্ত্রাস, টার্গেট কিলিং কবলিত দেশে মানুষের জীবন যাত্রা অনিশ্চিত। এমনি অবস্থায় ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন হতে চলেছে বাংলাদেশের অগ্নিপরীক্ষা।
মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম হিসাবে বাংলাদেশের বর্তমান নিয়ে শংকিত, ভবিষ্যৎ নিয়ে আতংকিত। তবুও আশা করি নতুন প্রজন্ম, নতুন ভোটাররা দীর্ঘ দিন পরে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দেয়ার সুযোগ পেলে নির্বাচনে বিপ্লব ঘটাবে। সৎ, দেশপ্রেমিক জন ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের নিজেদের প্রতিনিধি হিসাবে বেছে নেবে। নির্বাচনকে সামনে রেখে নানা দল নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। বাংলাদেশে অতীতে নির্বাচনে জয়ী কোন দল প্রতিশ্রুতি রাখে নি। তাই চরম মুহূর্তে বার্থ দলগুলোকে ক্ষমতা থেকে বিতাড়িত হতে হয়েছে।
আশা করি ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়েছে ক্ষমতা প্রত্যাশী রাজনৈতিক দলগুলো। দেশের অর্থনীতি নাজুক, শিল্প কারখানাগুলো পুঁজির অভাবে এবং জ্বালানি বিদ্যুৎ সংকটে বন্ধ হয়ে যাবার উপক্রম। চাকরি হারিয়ে প্রচুর মানুষ বেকার, সমাজে বৈষম্য আরো বিস্তৃত হয়েছে।
নানা গাল ভরা বুলি শোনা গেলেও কোন রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে দেশের মৌলিক সমস্যাগুলো সমাধানের পথ নকশা দেখছি না। তবুও চাই স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ, বিশ্বাষযোগ্য নির্বাচন হোক। দেশে শান্তির পরিবেশ ফিরে আসুক। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হোক। তাই বলছি আসন্ন নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য অগ্নিপরীক্ষা।