০২ জুন ২০২৬, মঙ্গলবার, ০৯:৪৫:০৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আজ ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী অ্যাডভান্সড প্যানক্রিয়াটিক ক্যানসার চিকিৎসায় যুগান্তকারী অগ্রগতি ইসলামবিদ্বেষী গ্রাফিতি ঘিরে মুসলিম কম্যুনিটিতে আতঙ্ক যুক্তরাষ্ট্রে মর্টগেজ সুদের হার ৯ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ ইসরায়েল ডে প্যারেড বর্জনের ঘোষণা জোহরান মামদানির ওজনপার্ক মসজিদ আল-আমানের নতুন কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠিত ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিতেই চলবে ভিসা ও অভিবাসন ব্যবস্থা, বললেন রুবিও নিউইয়র্কে ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য এক্সেলসিয়র স্কলারশিপ আবেদন শুরু ৪ লাখ সাশ্রয়ী আবাসনের পরিকল্পনা ঘোষণা মেয়রের উপকূলের ১৯ জেলার প্রাণ-প্রকৃতি ঝুঁকিতে


নির্মাণ ব্যয়ের মেগা মহোৎসব চলছে দেশে : বাসদ নেতৃবৃন্দ
বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৯-০৪-২০২৪
নির্মাণ ব্যয়ের মেগা মহোৎসব চলছে দেশে : বাসদ নেতৃবৃন্দ বাসদের প্রতিবাদ বিক্ষোভ


বাংলাদেশের সমাজতন্ত্রিক দল-বাসদ নেতৃবৃন্দ বলেছেন,, মেট্রোরেল একটি আধুনিক গণপরিবহন যা দেশের জনগণকে সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে পরিচালিত হওয়ার কথা। কিন্তু মেট্রোরেলের শুরু থেকেই সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তে একটি মুনাফালোভি প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার চক্রান্ত শুরু হয়েছে।এখানে যেন নির্মাণ ব্যয়ের মেগা মহোৎসব চলছে। গণপরিবহন মেট্রোরেলে ১৫% ভ্যাট আরোপের অযৌক্তিক ও গণবিরোধী সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার, শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া চালু ও মেগা প্রকল্পের মেগা দুর্নীতি ও লুটপাটের বিচারের দাবিতে সমাবেশে তারা এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশের সমাজতন্ত্রিক দল-বাসদ ঢাকা মহানগর শাখা গত ৭ এপ্রিল রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করে। বাসদ ঢাকা মহানগর শাখার ইনচার্জ নিখিল দাসের সভাপতিত্বে ও ঢাকা মহানগর শাখার সদস্য খালেকুজ্জামান লিপনের সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও বাম গণতান্ত্রিক জোট এর শীর্ষ নেতা বজলুর রশীদ ফিরোজ, বাসদের সহকারী সাধারণ সম্পাদক ও বাম গণতান্ত্রিক জোট এর অন্যতম শীর্ষ নেতা রাজেকুজ্জামান রতন, বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড জুলফিকার আলী, বাসদ ঢাকা মহানগর কমিটি সদস্য জাকির হোসেন, রোখশানা আফরোজ আশা, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক রায়হান উদ্দিন।

নেতৃবৃন্দ বলেন, মেট্রো রেল নির্মাণ ব্যয় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াসহ সকল দেশ থেকে শীর্ষ অবস্থান করছে। দিল্লির ভূ-উপরস্থ মেট্রোরেল নির্মাণে যেখানে প্রতি কি.মি. নির্মাণ ব্যয় ২৯২ কোটি টাকা, দিল্লির ভূ-গর্ভস্থ মেট্রোরেলের নির্মাণ ব্যয় প্রতি কি.মি. ৭২৭ কোটি টাকা, ২৭ কিলোমিটার লাহোর মেট্রোরেলের কিলোমিটার প্রতি নির্মাণ ব্যয় ৬৭১ কোটি টাকা, ৫৮ কিলোমিটার কুয়ালালামপুর-পুত্রজায়া মেট্রোরেল নির্মাণ কিলোমিটার প্রতি ব্যয় মাত্র ১২৭৬ কোটি টাকা। সেখানে বাংলাদেশের মাত্র ২১.২৬ কিলোমিটার মেট্রোরেলের নির্মাণের ব্যয় প্রতি কিলোমিটারে ১৫৭৪ কোটি টাকা। প্রাক্কলিত ব্যয় ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা হলেও বর্তমানে তা দাঁড়িয়েছে ৩৩ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা। শুধুমাত্র মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার নির্মাণ ব্যয় এখন ধরা হয়েছে ১১ হাজার ৫১৪ কোটি টাকা। নির্মাণ এখানে যেন নির্মাণ ব্যয়ের মেগা মহোৎসব চলছে। 

নেতৃবৃন্দ বলেন, এই অত্যধিক নির্মাণ ব্যয়ের কারণ দেশবাসীর অজানা নয়। এভাবে মেগা প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধির চমক আর ব্যয় বৃদ্ধির চক্রান্ত কত কাল চলবে? এই অত্যধিক ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাবে গণপরিবহনে ভাড়া নির্ধারণে যে গণচরিত্র থাকার কথা ছিল বাস্তবে তা সম্পূর্ণতই উপেক্ষিত হয়েছে। শুরুতেই যে সর্বনিম্ন ভাড়া ২০ টাকা ও প্রতি কিলোমিটার ভাড়া ৪ টাকা ৭০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে তাও দেশের অন্যান্য গণপরিবহন ও পার্শ্ববর্তী দেশসমূহের তুলনায় অত্যাধিক। ঢাকা ও চট্টগ্রাম শহরে গণপরিবহন (বাস) ভাড়া প্রতি কিলোমিটার ২. ৪২ টাকা, আন্তঃজেলায় ২.১২ টাকা এবং সর্বনি¤œ ভাড়া বাসে ১০ টাকা ও মিনি বাসে ৮ টাকা। সেখানে মেট্রোরেলের সর্বনিম্ন ভাড়া ২০ টাকা ও প্রতি কিলোমিটারে ৪.৭০ টাকা করা কতটা যৌক্তিক। আর অন্যান্য দেশের সাথে তুলনা করলে কলকাতা মেট্রোরেলের সর্বনিন্ম ভাড়া বাংলাদেশি মুদ্রায় ৬ টাকা, দিল্লিতে ৬ টাকা ও পাকিস্তানের লাহোরে ৭ টাকা। এখন ১৫% ভ্যাট আরোপ হলে এই ভাড়া আরো বৃদ্ধি পাবে। শুধুমাত্র মিরপুর থেকে যিনি নিয়মিত চলাচল করেন তাকে প্রতি মাসে বাড়তি ৪২১ টাকা ব্যয় করতে হবে। এভাবে জনগণের করের টাকায় নির্মিত মেট্রোরেল উচ্চ মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্তের বিলাসী পরিবহনে পরিণত করা হচ্ছে।

সমাবেশ নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, মেট্রোরেলকে উচ্চ মাধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্তদের বিলাসী পরিবহনের পরিবর্তে সাধারন মানুষের গণপরিবহনে পরিণত করা, শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া চালু করতে হবে যা পার্শ্ববর্তী দেশসমূহে চালু আছে। মেট্রো রেলের ভাড়া বৃদ্ধি নয় বরং চলতি ভাড়া কমানোর দাবি করে নেতৃবৃন্দ ১৫% ভ্যাট আরোপের অযৌক্তিক ও গণবিরোধী সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহার করার দাবি জানান। অন্যথায় ঢাকাবাসীকে নিয়ে এই গণবিরোধী সিদ্ধান্ত বাতিলে গণআন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করেন। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল জাতীয় প্রেসক্লাব, তোপখানা রোড, পল্টন মোড় ঘুরে সেগুনবাগিচা হাইস্কুলের সামনে শেষ হয়।

শেয়ার করুন