০২ জুন ২০২৬, মঙ্গলবার, ১০:৪৪:০১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আজ ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী অ্যাডভান্সড প্যানক্রিয়াটিক ক্যানসার চিকিৎসায় যুগান্তকারী অগ্রগতি ইসলামবিদ্বেষী গ্রাফিতি ঘিরে মুসলিম কম্যুনিটিতে আতঙ্ক যুক্তরাষ্ট্রে মর্টগেজ সুদের হার ৯ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ ইসরায়েল ডে প্যারেড বর্জনের ঘোষণা জোহরান মামদানির ওজনপার্ক মসজিদ আল-আমানের নতুন কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠিত ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিতেই চলবে ভিসা ও অভিবাসন ব্যবস্থা, বললেন রুবিও নিউইয়র্কে ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য এক্সেলসিয়র স্কলারশিপ আবেদন শুরু ৪ লাখ সাশ্রয়ী আবাসনের পরিকল্পনা ঘোষণা মেয়রের উপকূলের ১৯ জেলার প্রাণ-প্রকৃতি ঝুঁকিতে


বর্তমান সমাজের তৈলচিত্র
লিটু আনাম
  • আপডেট করা হয়েছে : ২৯-০৩-২০২২
বর্তমান সমাজের তৈলচিত্র


জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘সাহেব ও মোসাহেব’ কবিতার প্রথম চরণ দুটি হচ্ছে-

সাহেব কহেন, চমৎকার! সে চমৎকার!

মোসাহেব বলে, চমৎকার সে হতেই হবে যে!

হুজুরের মতে অমত কার?

এটাই আজ আমাদের সমাজ। সফলদের পা চাটতে এবং কারো কোনো ভুলত্রুটি পেলে তাকে চাটি মারতে দ্বিধা বোধ করে না। আবার সেই সমাজেরই ভালো-মন্দ পরিমাপের কিছু মাপকাঠি রয়েছে।

একটি সত্য ঘটনা বলি তাতে আশা করি পরিষ্কার হবে আমাদের সমাজের দ্বৈতরূপ। আমি একজনকে চিনি এমন। আমাদের প্রতিবেশী। নাম বলবো না। আমার পাঠকের মধ্যে অনেকে তাকে চিনবেন। ছোটবেলায় মা যার উদাহরণ দিয়ে আমাদের পড়তে বলতেন। তাদের পূর্ব পুরুষের জমিদারি থাকা সত্ত্বেও বাবা মারা যাওয়ার পর তাদের ন্যায্য ভাগ কেউ দেয় নাই। তার মা চাচাদের বাসায় কাজ করে ছেলেমেয়ের পড়ালেখা করিয়েছেন। আজ সে বাংলাদেশের বড় অফিসার। বলতে পারেন আমাদের এলাকার সবচেয়ে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। আজ সমাজ তাকে তোষামোদী করে। চায়ের দোকানে তার প্রশংসা কেটলির পানির সাথে ফোটে।

এবার আসি এই সমাজের মোসাহেবগিরির মাপকাঠি কি? বিসিএস ক্যাডার, জাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, আমেরিকান প্রবাসী, ইউনিভার্সিটির শিক্ষক, গুগল, ইন্টেল, মাইক্রোসফটে চাকরিধারী,  পিএইচডিহোল্ডারসহ সমাজের উচ্চপদস্থ সব কুতুব। আমার এক ক্লাসমেট বাংলাদেশের প্রথমসারির একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। দুর্ভাগ্যক্রমে তারই এক ছাত্রের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়। বললাম, আমার ক্লাসমেট তোমার শিক্ষক ও বলল ক্লাসমেট কেন বন্ধু না? বললাম, ক্লাসমেট হলেই সবাই বন্ধু হয় না, সে কি আগের মতোই আছে, নাকি সময়ের সাথে বদলে একটু স্মার্ট হয়েছে? ও যে জবাব দিলো তার জন্য আমি প্রস্তুত ছিলাম- ‘উনি যেমন ক্ষেত, উনার পারসোনালিটি তেমন চিপ।’ কিন্তু এই সমাজের সে কিন্তু সাহেব। প্রফেসর হবে, প্রফেসর থেকে ডিপার্টমেন্টের চেয়ারম্যান হবে, কিন্তু ওর স্বভাব কি বদলাবে? তেমনি বউ পিটানো ডাক্তার, স্ত্রী-সন্তানের খোঁজ না করা আমেরিকার বড় প্রফেসর, প্রতিবন্ধী সন্তানের খোঁজ না নেয়া সমাজকর্মীর অভাব নেই। নাম বলবো? নাম বললে চাকরি থাকবে না। শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আফসার আহমেদ, তানভীরসহ ছাত্রী নির্যাতনকারী বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শত শত শিক্ষক কিন্তু এই সমাজেরই সাহেব সেজে বসে আছেন। মানবাধিকারকর্মীর গৃহকর্মী পেটানোর ঘটনায় আমরা পত্রিকায় দেখি। আর বাংলাদেশের দুর্নীতির যে অবস্থা, তাতে সরকারি আমলাদের সম্পর্কে আমার আর কিছুই বলার নাই।

মানুষ সামাজিক জীব, সমাজ ছাড়া আমরা বাঁচতে পারি না। এই ডাহা মিথ্যা কথা ছোটবেলা থেকেই আমাদের ভিতরে ঢুকিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু প্রকৃত অর্থে সমাজ হচ্ছে মোসাহেব, সমাজ হচ্ছে একচোখা, সমাজ হচ্ছে স্বার্থপরতার লীলাভূমি। যাকে বলে শক্তের ভক্ত, নরমের যম কিংবা তথাকথিত সমাজের নিজস্ব তৈরি পারদে সফলদের অনুগত, যেখানে সত্য-মিথ্যার কোনো মূল্য নাই। এই সমাজ কি বদলাবে না?

শেয়ার করুন