২৮ মে ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ০৪:৫৯:৩৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
অ্যাডভান্সড প্যানক্রিয়াটিক ক্যানসার চিকিৎসায় যুগান্তকারী অগ্রগতি ইসলামবিদ্বেষী গ্রাফিতি ঘিরে মুসলিম কম্যুনিটিতে আতঙ্ক যুক্তরাষ্ট্রে মর্টগেজ সুদের হার ৯ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ ইসরায়েল ডে প্যারেড বর্জনের ঘোষণা জোহরান মামদানির ওজনপার্ক মসজিদ আল-আমানের নতুন কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠিত ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিতেই চলবে ভিসা ও অভিবাসন ব্যবস্থা, বললেন রুবিও নিউইয়র্কে ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য এক্সেলসিয়র স্কলারশিপ আবেদন শুরু ৪ লাখ সাশ্রয়ী আবাসনের পরিকল্পনা ঘোষণা মেয়রের উপকূলের ১৯ জেলার প্রাণ-প্রকৃতি ঝুঁকিতে মাহমুদ খলিলকে ডিপোর্ট ঠেকাতে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার প্রস্তুতি


কী করলে বঙ্গোপসাগরে বিনিয়োগে আগ্রহী হবেন বিদেশিরা
সালেক সুফী
  • আপডেট করা হয়েছে : ২৭-০৫-২০২৬
কী করলে বঙ্গোপসাগরে বিনিয়োগে আগ্রহী হবেন বিদেশিরা প্রতীকী ছবি


শুভ সিদ্ধান্ত যে বিএনপি জোট সরকার দ্রুততম সময়ে পরিবর্তিত সংশোধিত মডেল পিএসসি দলিল অনুমোদন করে নতুন পিএসসি বিডিং রাউন্ড আহ্বান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গণতান্ত্রিক সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে আসায় এবং বিদ্যমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক তেল কোম্পনিগুলো নতুন করে গ্যাস-তেল অনুসন্ধানে ঝুঁকি বিনিয়োগ করায় আগ্রহী হয়ে ওঠায় এবারে বিড্ডিং রাউন্ডে উৎসাহব্যঞ্জক সাড়া পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পরিবর্তিত মডেল পিএসসিতে গ্যাসের মূল্য, শেয়ার বিভাজন, ডাটা প্যাকেজ মূল্য কমানো এবং অন্যান্য বেশকিছু আকর্ষণীয় প্রণোদনা সংযোজিত হয়েছে। 

পেট্রোবাংলা এবং জ্বালানি মন্ত্রণালয়কে এখন খোলা মনে সব আগ্রহী তেল কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে তাদের স্বচ্ছ এবং নিরপেক্ষভাবে দরপত্র মূল্যায়ন এবং সম্ভাব্য সংক্ষিপ্ত সময়ে সেরা প্রস্তাবদাতাদের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদনের বিষয়ে আশ্বস্ত করতে হবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশের দূতাবাসগুলো বিভিন্ন দেশে থাকা শীর্ষস্থানীয় তেল কোম্পানিগুলোকে আগ্রহী করার বিষয়ে ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে থাকা দূতাবাসগুলোর কাছ থেকে সহায়তা নেওয়া যেতে পারে। 

স্মরণে রাখতে হবে, ভূরাজনৈতিক কারণে বঙ্গোপসাগর এখন স্পর্শকাতর এলাকা। পরাশক্তিগুলো চাইবে প্রভাব বিস্তার করতে। সরকারকে অবস্থান সুস্পষ্ট করতে হবে। পেট্রোবাংলা কাছে থাকা তথ্য উপাত্ত উন্মুক্ত করে দেওয়ার সুপারিশ করবো। শীর্ষস্থানীয় তেল কোম্পনিগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বিষয়ে এবং চুক্তি নেগোসিয়েশন করার জন্য পেট্রোবাংলায় যোগ্য কারিগরি জনবল আছে। এদের সঙ্গে পরামর্শক হিসেবে পেট্রোবাংলার দুয়েকজন অভিজ্ঞ অবসরে যাওয়া কর্মকর্তাদের সংযুক্ত করা যেতে পারে। আমি সুপারিশ করবো সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর মাসে আগ্রহী কোম্পানিগুলো, দাতাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধি, স্থানীয় বিশেষজ্ঞদের আমন্ত্রণ জানিয়ে ঢাকায় একটি রোডশো করার। সেখান থেকে কিছু সুপারিশ গ্রহণযোগ্য হলে বিডিংয়ে অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে। 

আমি পেট্রোবাংলার হয়ে বাংলাদেশে কর্মরত আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানির কাজ মনিটরিং করেছি, নানা সময় চুক্তি নেগোসিয়েশনে জড়িত ছিলাম। পেট্রোবাংলার কর্মকর্তাদের অস্ট্রেলিয়ায় প্রশিক্ষণে সংযুক্ত ছিলাম। আমি ব্যক্তিগতভাবে নিম্ন বর্ণিত কর্মকর্তাদের পিএসসি বিড মূল্যায়ন অ্যান্ড চুক্তি নেগোসিয়েশন কাজে সংযুক্ত করার সুপারিশ করছি। 

ড. রফিকুল ইসলাম, পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন), পেট্রোবাংলার পরিচালক (পিসিডি), ইঞ্জিনিয়ার শাহনেওয়াজ পারভেজ, ফারহানা শাওন এবং ইঞ্জিনিয়ার আইনুল কবিরকে। এদের সঙ্গে পেট্রোলিয়াম অ্যাকাউন্টিং কাজে অভিজ্ঞ একজন এবং একজন বিজ্ঞ আইনবিশারদকে সম্পৃক্ত করে শক্তিশালী কমিটি গঠন করা উচিত। 

মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশ এখন মহাজ্বালানি সংকটে। জুন ২০২৭ নাগাদ কয়েকটি পিএসসি সম্পাদন সম্ভব হলে ২০৩৪-৩৫ নাগাদ সুফল মিলবে। স্মরণে রাখতে হবে গভীর সাগরে গ্যাস আবিষ্কার হলে পাইপলাইন দিয়ে গ্যাস উপকূলে আনতে হবে। বাংলাদেশের কিন্তু সাগরে গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণ বা পরিচালনা বিষয়ে অভিজ্ঞতা শূন্য। পিএসসি নেগোসিয়েশন সময়ে পাইপলাইন নির্মাণ বিষয়টি সুস্পষ্ট করতে হবে। অনুসন্ধান কাজে বাপেক্সের সম্পৃক্ততা এবং গ্যাস সঞ্চালনের কাজে জিটিসিএলের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করতে হবে। 

পিএসসি কিন্তু বিদেশি কোম্পানিকে মালিকানা দেয় না। বাংলাদেশের পক্ষে পেট্রোবাংলা মালিক হিসাবে তেল কোম্পানিগুলোর সঙ্গে মালিকানা চুক্তি করে। তেল কোম্পানি গ্যাস-তেল অনুসন্ধান এবং উন্নয়নে ঝুঁকি বিনিয়োগ করে। সাফল্য পেলে সরবরাহ করা গ্যাস থেকে নির্দিষ্ট হরে বিনিয়োগ তুলে নেয়। অবশিষ্ট গ্যাস পেট্রোবাংলাকে বিনা মূল্যে সরবরাহ করে। পেট্রোবাংলাকে তেল কোম্পানির অংশের গ্যাসচুক্তি নির্ধারিত মূল্যে কিনে নিতে হয়। 

বাংলাদেশের সাগরসীমায় সন্নিহিত এলাকায় অনুসন্ধান চালিয়ে মায়ানমার এবং ভারত সাফল্য পেয়েছে। বাংলাদেশ সাগরে ১৯৭৪ সালে প্রথম অনুসন্ধান শুরু করেও পরবর্তী সরকারগুলোর ব্যর্থতায় বঞ্চিত থেকেছে। 

শেয়ার করুন