১৯ মার্চ ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ০৪:৩৭:১৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
মামদানি ও তাঁর স্ত্রীকে ঘিরে বিতর্ক যে কারণে ট্রাম্প প্রশাসনের সীমান্ত টহল প্রধান গ্রেগ অবসরে যাচ্ছেন অগ্রাধিকার পাচ্ছে ডিফেন্স ইকোনমিক জোন প্রতিষ্ঠা ফিল্মিস্টাইলে ডাকাতির কৌশলে ইমিগ্রেশন সুবিধা : ১১ ভারতীয় গ্রেফতার ঢাকা কলেজের ৮৫ প্রাক্তনদের ইফতার মাহফিল মিলনমেলায় পরিণত মার্কিন প্রতিবেদনে আরএসএস ও র’র ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সুপারিশ নিউইয়র্কে ৫০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে কংগ্রেসম্যানের মুসলিমবিরোধী মন্তব্যে তীব্র বিতর্ক ও সমালোচনা তারেক রহমানের ম্যাজিক কর্মসূচিতে মুগ্ধ মানুষ বাংলাদেশের অবিসংবাদিত নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের ১০৬তম জন্মবার্ষিকী আজ


ট্রাম্প প্রশাসনের সীমান্ত টহল প্রধান গ্রেগ অবসরে যাচ্ছেন
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ১৮-০৩-২০২৬
ট্রাম্প প্রশাসনের সীমান্ত টহল প্রধান গ্রেগ অবসরে যাচ্ছেন সীমান্ত টহলপ্রধান গ্রেগ বোভিনো


যুক্তরাষ্ট্রের বর্ডার পেট্রোল বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির অন্যতম মুখপাত্র গ্রেগ বোভিনো ঘোষণা দিয়েছেন যে তিনি মার্চ মাসের শেষে অবসরে যাচ্ছেন। ডানপন্থী সংবাদমাধ্যম ব্রেইটবার্ট নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, অবসরের সিদ্ধান্ত নিলেও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেননি। প্রায় তিন দশকের কর্মজীবনে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত নিরাপত্তা ও অভিবাসন দমন অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ১৯৯৬ সালে তিনি ইউএস কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশনের অধীন ইউএস বর্ডার প্যাট্রোলে যোগ দেন এবং দীর্ঘ সময় ক্যালিফোর্নিয়া-মেক্সিকো সীমান্ত এলাকায় দায়িত্ব পালন করেন।

ট্রাম্প প্রশাসনের সময় অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ কঠোর করার নীতির অংশ হিসেবে বোভিনোকে দেশের ভেতরে বিশেষ অভিযান পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি ডেমোক্র‍্যাট-নিয়ন্ত্রিত শহর যেমন লস অ্যাঞ্জেলেস, শিকাগো এবং মিনিয়াপোলিসে পরিচালিত ফেডারেল অভিযানের নেতৃত্ব দেন, যার লক্ষ্য ছিল অবৈধ অভিবাসন দমন এবং অপরাধে জড়িত অভিবাসীদের গ্রেফতার করা। তবে এসব অভিযানের কারণে প্রশাসনের অভিবাসন নীতি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয় এবং মানবাধিকার সংগঠন ও স্থানীয় নেতারা অভিযোগ করেন যে এসব অভিযান অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কঠোর ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

বিশেষ করে মিনেসোটায় পরিচালিত এক অভিযানে ফেডারেল এজেন্টদের সঙ্গে সংঘর্ষে দুই মার্কিন নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় বড় ধরনের সমালোচনা শুরু হয়। নিহত ব্যক্তিরা হলেন রেনি গুড এবং অ্যালেক্স প্রেটি। ঘটনাটি দেশজুড়ে প্রতিবাদ ও রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দেয় এবং দুদলের রাজনীতিবিদরাও এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এর পরপরই বোভিনোকে মিনেসোটায় তার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং তিনি ক্যালিফোর্নিয়ায় ফিরে যান। তার স্থলাভিষিক্ত হন সীমান্ত নিরাপত্তা বিষয়ক কর্মকর্তা টম হোমান, যিনি প্রশাসনের অভিবাসন দমন কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।

বোভিনো আরেকটি বিতর্কেও জড়িয়ে পড়েন। মার্কিন গণমাধ্যম সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, একটি ফোন কলে তিনি ইহুদি ধর্মাবলম্বী এক ফেডারেল কর্মকর্তাকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। সেই বৈঠকে উপস্থিত থাকার কথা ছিল মিনেসোটার প্রসিকিউটর ড্যানিয়েল রোজেনের, কিন্তু তিনি ধর্মীয় কারণে সাবাথ পালন করায় বৈঠকে অংশ নিতে পারেননি। এ বিষয়টি জানার পর বোভিনোর মন্তব্যকে অনেকেই অসম্মানজনক বলে সমালোচনা করেন।

এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসন নীতি আরো কঠোরভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রশাসনিক পর্যায়ে বেশ কিছু পরিবর্তন এনেছে। সম্প্রতি ক্রিস্টি নোয়েমকে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা সংস্থাটির কাঠামোতে বড় ধরনের রদবদলের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ট্রাম্প তার নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যাপক হারে অবৈধ অভিবাসীদের বহিষ্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এবং সেই নীতি বাস্তবায়নে প্রশাসন সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার ও অভ্যন্তরীণ অভিযান বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

নিজের অবসরের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে বোভিনো বলেন, সীমান্তে এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করা সীমান্ত টহল কর্মকর্তাদের সঙ্গে কাজ করা তার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মানের বিষয়। তিনি বলেন, এসব কর্মকর্তাকে কঠিন পরিস্থিতিতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাতে দেখা তার জন্য অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ক ছিল। প্রায় ৩০ বছরের কর্মজীবনের সমাপ্তি টানতে গিয়ে তিনি সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তবে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতি নিয়ে জনমত এখনো বিভক্ত। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা যায়, ৬১ শতাংশ আমেরিকান অবৈধ অভিবাসীদের বহিষ্কারের পক্ষে মত দিলেও ৫৮ শতাংশ মনে করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ ইস্যুটি যেভাবে পরিচালনা করছেন তা তারা সমর্থন করেন না। ফলে অভিবাসন প্রশ্নটি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে এখনো একটি অত্যন্ত বিতর্কিত ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে রয়ে গেছে।

শেয়ার করুন