১৯ মার্চ ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ০৪:২৮:৪৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
মামদানি ও তাঁর স্ত্রীকে ঘিরে বিতর্ক যে কারণে ট্রাম্প প্রশাসনের সীমান্ত টহল প্রধান গ্রেগ অবসরে যাচ্ছেন অগ্রাধিকার পাচ্ছে ডিফেন্স ইকোনমিক জোন প্রতিষ্ঠা ফিল্মিস্টাইলে ডাকাতির কৌশলে ইমিগ্রেশন সুবিধা : ১১ ভারতীয় গ্রেফতার ঢাকা কলেজের ৮৫ প্রাক্তনদের ইফতার মাহফিল মিলনমেলায় পরিণত মার্কিন প্রতিবেদনে আরএসএস ও র’র ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সুপারিশ নিউইয়র্কে ৫০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে কংগ্রেসম্যানের মুসলিমবিরোধী মন্তব্যে তীব্র বিতর্ক ও সমালোচনা তারেক রহমানের ম্যাজিক কর্মসূচিতে মুগ্ধ মানুষ বাংলাদেশের অবিসংবাদিত নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের ১০৬তম জন্মবার্ষিকী আজ


নির্বাচিত সরকারের বঙ্গবন্ধু ভীতি কীসে
সালেক সুফী
  • আপডেট করা হয়েছে : ১৮-০৩-২০২৬
নির্বাচিত সরকারের বঙ্গবন্ধু ভীতি কীসে শেখ মুজিবুর রহমান


কায়েমি-স্বার্থবাদীদের মদতপুষ্ট অনির্বাচিত অন্তর্বর্তী সরকার না হয় আওয়ামী লীগ ভীতি, স্বাধীনতা বিরোধিতা, বঙ্গবন্ধু ভীতি ছিল। কিন্তু নির্বাচিত বাংলাদেশি জাতীয়তা দলের নেতৃত্বের জোট সরকারের কেন বঙ্গবন্ধু ভীতি? কেন এখনো জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে স্বীকৃতি দিয়ে তাকে যথাযথ মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করছে না বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান তারেক জিয়া সরকার? কেন স্বাধীন বাংলাদেশে স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু নিষিদ্ধ হয়ে থাকবে? কেন বাংলাদেশের মানুষ ৭ মার্চ উপলক্ষে মুক্তভাবে বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করতে পারবে না? জানতে চাই কেন ইউনেস্কো ঐতিহ্য বলে নন্দিত বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চ ১৯৭১ রমনা রেসকোর্স ময়দানে দেওয়া ঐতিহাসিক ভাষণ বাজানোর অপরাধে বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ-তরুণীদের গ্রেফতার করা হলো? 

কেন বঙ্গবন্ধুকে, স্বাধীনতাকে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা হচ্ছে? বাংলাদেশের অত্যন্ত জনপ্রিয় তারেক জিয়ার পিতা সেক্টর কমান্ডার, বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নিজে ৭ মার্চের ভাষণকে মুক্তিযুদ্ধে যোগদানের অনুপ্রেরণা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। বেগম জিয়া জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে ভাষণে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। এমতাবস্থায় তারেক জিয়া নেতৃত্বের বিএনপি জোটের সরকার আমলে ৭ মার্চ, বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ যথাযথ মর্যাদা পাবে না এটি মেনে নেয়া যায় না। তোষামোদকারীদের প্রভাবে খালেদা জিয়া একসময়ে ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর প্রয়াণ দিবসে জন্মদিন পালন করে নিন্দিত হয়েছিলেন। ব্যক্তিগত বিষয়ে প্রতিশোধ স্পৃহায় ড. ইউনূস স্বাধীনতাবিরোধীদের প্ররোচণায় ৭ মার্চকে জাতীয় দিবসের তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে। দেশজুড়ে মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযুদ্ধবিরোধী সব কর্মকাণ্ড পৃষ্ঠপোষকতা করেছে। বিএনপি নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের দল হিসেবে বিবেচনা করলে ইতিহাস স্বীকৃত ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুকে যথাযথ মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করতে অনীহা থাকবে কেন?

সমগ্র বিশ্বের মতো বাংলাদেশ এখন গভীর অর্থনৈতিক সংকটের দিকে দ্রুত ধাবিত হচ্ছে। ক্রমশ বিস্তৃত হতে থাকা প্রলয়ঙ্করী যুদ্ধ ইতিমধ্যেই আঞ্চলিক যুদ্ধে পরিণত হয়ে বিশ্বযুদ্ধের আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। ভেঙে পড়ছে জ্বালানি নিরাপত্তা। বাংলাদেশ এমনিতেই জ্বালানি সংকটে ছিল। সদ্য রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসীন তারেক জিয়া সরকারের উচিত ন্যূনতম কর্মসূচির ভিত্তিতে জাতীয় ঐক্য পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করা। দেশে সুস্থ রাজনৈতিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনা। পরশ্রীকাতর, প্রতিশোধপরায়ণ ইউনূস সরকারের সব অসংবিধানিক কার্যক্রম জনস্বার্থে পুনর্বিবেচনা করে বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করা। কায়েমি স্বার্থবাদী গোষ্ঠী বঙ্গবন্ধু, স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ আওয়ামী লীগকে গুলিয়ে ফেলেছে। কিছু অর্বাচীন তরুণ ভুল ন্যারেটিভ সৃষ্টি করে অযথা ফাঁকা আস্ফালন করছে। সময়ের কঠিন বাস্তবতায় এদের নির্মম পরিণতি হবে। ইতিহাসের অমোঘ বাস্তবতায় অনৈতিক বিষয়গুলো একসময় মহাপ্লাবনে ভেসে যাবে। জানি, বিএনপিতেও অনেক বীর মুক্তিযোদ্ধা আছে। আশা করি, তারেক জিয়া অবহিত আছেন তাদের পরিবারের স্থিতিশীলতা পুনঃস্থাপনের জন্যও বঙ্গবন্ধুর অবদান আছে। 

অনুরোধ করবো যেন ২০২৪ আগস্ট থেকে ২০২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশব্যাপী মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন ধ্বংস, মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান অপদস্ত করার যত ঘটনা ঘটেছে, সেগুলোর নির্মোহ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। স্বাধীন দেশে সব দল-গোষ্ঠী যেন মুক্তভাবে মতপ্রকাশ করতে পারে। কারো যেন সাংবিধানিক অধিকার বঞ্চিত না করা হয়। 

তারেক জিয়া ইতিমধ্যেই তার জীবনঘনিষ্ঠ নির্বাচনী অঙ্গীকার পালন করতে শুরু করে প্রশংসিত হচ্ছেন, সরকারের জনপ্রিয়তার স্থায়িত্বের স্বার্থে অযথা আওয়ামীভীতি, ভারতভীতি থেকে বেরিয়ে এসে জনগণের নারীর স্পন্দন অনুভব করে সরকার যেন ব্যতিক্রর্মী ভূমিকায় দেশ পরিচালনা করে। কঠিন সময়ে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে বিভেদ বজায় রাখা আত্মঘাতী হবে। দেশবিরোধী শক্তি আশকারা পাবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা বাধাগ্রস্ত হবে।

শেয়ার করুন