০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ৬:০০:৩০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ওয়ারেন্ট ছাড়া বাড়িতে প্রবেশের গোপন নীতি আইসের উবার ও লিফট চালকদের অধিকার রক্ষায় ডিঅ্যাকটিভেশন বিল পাস ৩ লাখ অভিবাসী শিশুর খোঁজে ফেডারেল অভিযান, ১.৪৫ লাখ শনাক্ত ৭৫ দেশের অভিবাসনে নিষেধাজ্ঞা : ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা গুলিতে আহত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত যুবক, পুলিশের বক্তব্যে পরিবারের আপত্তি ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত শহরে আইসকে বিক্ষোভে হস্তক্ষেপ না করার নির্দেশ বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য ‘নিরাপত্তা সতর্কতা’ জারি আইস সাতটি নতুন অভিবাসী আটক কেন্দ্র চালুর কথা ভাবছে সুপ্রিম কোর্টের রায় নির্ধারণ করবে ২ হাজার ডলারের স্টিমুলাস চেকের ভাগ্য ৯ ফেব্রুয়ারি বিটিভিতে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান


সীমান্ত পেরোনো অভিভাবকহীন শিশুদের উদ্ধারে ট্রাম্প প্রশাসন
৩ লাখ অভিবাসী শিশুর খোঁজে ফেডারেল অভিযান, ১.৪৫ লাখ শনাক্ত
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৪-০২-২০২৬
৩ লাখ অভিবাসী শিশুর খোঁজে ফেডারেল অভিযান, ১.৪৫ লাখ শনাক্ত সীমান্তে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য অভিভাবকহীন শিশুরা


বাইডেন প্রশাসনের সময় সরকারের নজরদারির বাইরে চলে যাওয়া লাখো অভিবাসী শিশুর সন্ধানে ব্যাপক অভিযান শুরু করেছে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ। বর্ডার জার টম হোমান জানিয়েছেন, পূর্ববর্তী প্রশাসনের সময় হারিয়ে যাওয়া বা অগোচরে থাকা ৩ লাখের বেশি অভিভাবকহীন অভিবাসী শিশুর মধ্যে ইতোমধ্যে ১ লাখ ৪৫ হাজারের বেশি শিশুকে শনাক্ত করা হয়েছে। আইস ও এফবিআই-এর যৌথ তৎপরতায় চালানো এই অভিযানের লক্ষ্য হলো তাদের অবস্থান নিশ্চিত করা। ৩০ জানুয়ারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে হোমান বলেন, ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস), এফবিআই এবং হেলথ অ্যান্ড হিউম্যান সার্ভিসেস বিভাগের অফিস অব রিফিউজি রিসেটেলমেন্ট একসঙ্গে কাজ করে এখনও ৩ লাখেরও বেশি ‘অসংগী’ বা অভিভাবকবিহীন অভিবাসী শিশুর খোঁজ চালাচ্ছে। তার অভিযোগ, এসব শিশুকে যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই বিভিন্ন স্পনসর বা অভিভাবকের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল এবং পরে তাদের অবস্থান সম্পর্কে প্রশাসন কার্যত কোনো খোঁজখবর রাখেনি।

এই অনুসন্ধানের পেছনে গত বছরের আগস্টে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (ডিএইচএস) অফিস অব ইন্সপেক্টর জেনারেলের একটি প্রতিবেদন বড় ভূমিকা রাখে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে ৩ লাখ ২৩ হাজারেরও বেশি অবৈধ অভিবাসী শিশুর অবস্থান অজানা ছিল। এর মধ্যে প্রায় ২ লাখ ৯১ হাজার শিশুকে আইস আদালতে হাজিরার নোটিশই দেয়নি। আরো ৩২ হাজার শিশুকে আদালতে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হলেও তারা নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হয়নি।

ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষমতায় আসার পর থেকেই এসব শিশুকে খুঁজে বের করার ব্যাপারে জোরালো উদ্যোগ নেয়। গত ডিসেম্বর মাসে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোয়েম জানান, তখন পর্যন্ত ১ লাখ ২৯ হাজারের বেশি শিশুর অবস্থান শনাক্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, এই শিশুদের অনেকেই শোষণ, পাচার ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে। প্রত্যেকটি শিশুকে নিরাপদে না পাওয়া পর্যন্ত আমাদের অভিযান বন্ধ হবে না।

ডিএইচএস সেক্রেটারি নোয়েম আরো জানায়, গত নভেম্বর থেকে আইস স্টেট ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় ৪ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি শিশুর বাসস্থানে সরাসরি ওয়েলফেয়ার চেক বা খোঁজখবর অভিযান শুরু করেছে। এসব শিশুকে পূর্বে যথাযথ যাচাই ছাড়াই স্পনসরদের কাছে রাখা হয়েছিল। সংস্থার দাবি, এর মাধ্যমে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মানবপাচার বা শ্রম ও যৌন নির্যাতন থেকে রক্ষা করাই প্রধান লক্ষ্য।

ডিএইচএসের সহকারী সেক্রেটারি ট্রিসিয়া ম্যাকলাফলিন বলেন, বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিদর্শন চালিয়ে ইতোমধ্যে ২৪ হাজার ৪০০-এর বেশি শিশুকে শনাক্ত করা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সীমান্ত পার হয়ে একা আসা বহু শিশুকে এমন স্পনসরদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল, যাদের মধ্যে কিছু মানবপাচারকারী বা যৌন অপরাধ চক্রের সঙ্গে জড়িত ছিল। তাই প্রশাসন এখন উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদার করেছে।

হোমান বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এই শিশুদের খুঁজে বের করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং ফেডারেল, অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। প্রশাসনের দাবি, এসব পদক্ষেপের লক্ষ্য শুধু আইন-প্রয়োগ নয়, বরং ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের সুরক্ষা এবং তাদের পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলন নিশ্চিত করা।

ডিএইচএসের সহকারী সেক্রেটারি ট্রিসিয়া ম্যাকলাফলিন আরো বলেন, সীমান্ত পেরিয়ে একা আসা বহু শিশু মানব পাচারকারী ও যৌন শোষণচক্রের হাতে পড়ে গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়েছে। তাই এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে প্রশাসন ফেডারেল, অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় আইন-প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে নিখোঁজ ও ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের খুঁজে বের করা, উদ্ধার করা এবং তাদের নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা জোরদার করেছে সরকার । ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা শুধু একটি নীতিগত অগ্রাধিকার নয়, বরং এটি মানবিক দায়িত্ব ও জননিরাপত্তার অপরিহার্য অংশএ লক্ষ্যেই তাদের চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে।

শেয়ার করুন