০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, বুধবার, ১০:৬:৩০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ওয়ারেন্ট ছাড়া বাড়িতে প্রবেশের গোপন নীতি আইসের উবার ও লিফট চালকদের অধিকার রক্ষায় ডিঅ্যাকটিভেশন বিল পাস ৩ লাখ অভিবাসী শিশুর খোঁজে ফেডারেল অভিযান, ১.৪৫ লাখ শনাক্ত ৭৫ দেশের অভিবাসনে নিষেধাজ্ঞা : ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা গুলিতে আহত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত যুবক, পুলিশের বক্তব্যে পরিবারের আপত্তি ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত শহরে আইসকে বিক্ষোভে হস্তক্ষেপ না করার নির্দেশ বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য ‘নিরাপত্তা সতর্কতা’ জারি আইস সাতটি নতুন অভিবাসী আটক কেন্দ্র চালুর কথা ভাবছে সুপ্রিম কোর্টের রায় নির্ধারণ করবে ২ হাজার ডলারের স্টিমুলাস চেকের ভাগ্য ৯ ফেব্রুয়ারি বিটিভিতে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান


৭৫ দেশের অভিবাসনে নিষেধাজ্ঞা : ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৪-০২-২০২৬
৭৫ দেশের অভিবাসনে নিষেধাজ্ঞা : ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা ইউনাইটেড স্টেটস ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট ফর দ্য সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব নিউইয়র্ক


যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিকে কেন্দ্র করে আবারও আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা অনুমোদন স্থগিত করার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র সচিব মার্কো রুবিও ও স্টেট ডিপার্টমেন্টের বিরুদ্ধে গত সোমবার ম্যানহাটনের ইউনাইটেড স্টেটস ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট ফর দ্য সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব নিউইয়র্কে এ মামলা করেন একদল মার্কিন নাগরিক, অভিবাসন বিষয়ক অলাভজনক সংস্থা ও আইনি সংগঠন। মামলার বাদীদের মধ্যে রয়েছে ক্যাথলিক লিগ্যাল ইমিগ্রেশন নেটওয়ার্ক, ন্যাশনাল ইমিগ্রেশন ল’ সেন্টার, ডেমোক্রেসি ফরওয়ার্ড, দ্য লিগ্যাল এইড সোসাইটি, ওয়েস্টার্ন সেন্টার অন ল’ অ্যান্ড পভার্টি এবং সেন্টার ফর কনস্টিটিউশনাল রাইটস, আফ্রিকান কমিউনিটিজ টুগেদার।

এছাড়া অ্যাগনেস কিয়েরেমা, প্যাট্রিসিয়া রিচার্ডসন, সিজার আন্দ্রেদ আগুইরে, মারু মাহমুদ হাসান, মুনথাজ মাহমুদ হাসান, অ্যাড্রিয়ান মিচেল, হুয়ান ডেভিড বুইত্রাগো কাগুয়া, আলেহান্দ্রা আলসেন্দ্রা মস্কোটে, আন্দ্রেস আলফোনসো মেদিনা রামিরেজ, ফের্নান্দো লিজকানো লোসাদা এবং লিনা মার্গারিটা অ্যাঙ্গুলো পেন্যারান্ডা সহ আরো কয়েকজন ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকজন মার্কিন নাগরিক ও অভিবাসী পরিবারও মামলায় যুক্ত হয়েছেন।

মামলায় দাবি করা হয়, এই ভিসা নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের দশকের পর দশক ধরে প্রতিষ্ঠিত অভিবাসন আইনকে কার্যত ধ্বংস করার চেষ্টা। বাদীপক্ষের অভিযোগ, স্টেট ডিপার্টমেন্টের এই নীতির মাধ্যমে জাতীয়তা ও সম্পদের ভিত্তিতে বৈষম্যমূলক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে, যার অনুমোদন কখনোই কংগ্রেস দেয়নি। মামলায় বলা হয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞার ফলে ইতোমধ্যে বহু পরিবার বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বাদীদের একজন নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডের বাসিন্দা ও মার্কিন নাগরিক সিজার আন্দ্রেদ আগুইরে। তিনি স্ত্রী দানিয়া মারিয়েলা এসকোবার ও কন্যাকে নিয়ে গুয়াতেমালায় গিয়েছিলেন ভিসা সাক্ষাৎকারের জন্য। সেখানে জানানো হয়, তার স্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রে ফিরতে পারবেন না। দম্পতির ছোট মেয়ে এখনো মায়ের দুধ পান করছে এবং টার্নার সিনড্রোমে আক্রান্ত হলেও পর্যাপ্ত চিকিৎসার অভাবে গুয়াতেমালাতেই আটকে আছে।

বাদীপক্ষের অভিযোগ, ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইন এবং অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ প্রসিডিউর অ্যাক্ট পরিপন্থী। তাদের দাবি, জাতীয়তা ভিত্তিক এই সামগ্রিক নিষেধাজ্ঞা বৈষম্যমূলক এবং এর ফলে হাজারো পরিবার বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। অনেক মার্কিন নাগরিক তাদের স্বজনদের যুক্তরাষ্ট্রে আনতে পারছেন না, আবার কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

আরেক বাদী রচেস্টারের বাসিন্দা মার্কিন নাগরিক মুনথাজ মাহমুদ হাসান। তার দুই কিশোর সন্তানের ভিসা আবেদন অনুমোদিত ও ফি পরিশোধ করা হলেও তারা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারছে না। এছাড়া কলম্বিয়ার খ্যাতনামা চিকিৎসক ও এন্ডোক্রিনোলজিস্ট ফের্নান্দো লিজকানো লোসাদাও এই মামলার বাদী। তিনি হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলে গবেষণা চালিয়ে বিভিন্ন ক্যানসারের চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে নতুন নীতির কারণে তার সেই সুযোগ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

গত জানুয়ারিতে ঘোষিত এবং এক সপ্তাহের মধ্যেই কার্যকর হওয়া এই নীতির আওতায় ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা অনুমোদন স্থগিত করা হয়। এসব দেশের মধ্যে ৮৫ শতাংশের বেশি ইউরোপের বাইরে অবস্থিত এবং সেসব দেশের জনগোষ্ঠীতে অশ্বেতাঙ্গ মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। স্টেট ডিপার্টমেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানায়, এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এমন অভিবাসীদের আগমন ঠেকাতে, যারা অগ্রহণযোগ্য হারে আমেরিকানদের কল্যাণ তহবিল (ওয়েলফেয়ার) ব্যবহার করে। সংস্থাটি আরো দাবি করে, এসব দেশের অভিবাসীরা প্রায়ই পাবলিক চার্জে পরিণত হন, অর্থাৎ সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। তবে মামলাটি দায়ের করা ন্যাশনাল ইমিগ্রেশন ল’ সেন্টারসহ ছয়টি আইনি সংগঠন এই দাবিকে ‘প্রমাণহীন ও স্পষ্টভাবে মিথ্যা’ বলে উল্লেখ করেছে। তাদের বক্তব্য, অধিকাংশ অভিবাসী ভিসা আবেদনকারী বহু বছর পর্যন্ত নগদ কল্যাণ সুবিধা পাওয়ার যোগ্যই হন না।

নাশনাল ইমিগ্রেশন ল’ সেন্টারের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জোয়ানা কুয়েভাস ইনগ্রাম বলেন, নতুন এই নিষেধাজ্ঞা ১৯২০-এর দশকের বর্ণভিত্তিক অভিবাসন কোটার সঙ্গে অদ্ভুতভাবে মিল রয়েছে, যা নাগরিক অধিকার আন্দোলনের সময় বাতিল করা হয়েছিল। তার মতে, এই নীতির আড়ালে কংগ্রেস অনুমোদিত আইনকে পাশ কাটিয়ে আবারও পুরোনো বর্ণভিত্তিক কোটা ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।মামলায় আদালতের কাছে ভিসা নিষেধাজ্ঞাকে অবৈধ ঘোষণা করে তা বাতিল করার আবেদন জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, কংগ্রেস কখনোই জাতীয়তা বা সম্পদের ভিত্তিতে এমন সামগ্রিক নিষেধাজ্ঞার অনুমোদন দেয়নি।

মামলাকারীরা আদালতের কাছে জরুরি ভিত্তিতে নিষেধাজ্ঞা বা প্রাথমিক ইনজাংশন জারির আবেদন জানিয়েছেন, যাতে মামলার শুনানি চলাকালীন ভিসা প্রক্রিয়া পুনরায় শুরু করা যায়। আদালত যদি আবেদনটি গ্রহণ করেন, তাহলে সরকারকে আবারও ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া চালু করতে হতে পারে।

ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নাগরিকদের মধ্যে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হওয়ার ঝুঁকি বেশি,এই যুক্তিতে ভিসা প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। তবে সমালোচকদের মতে, এই ব্যাখ্যা তথ্যভিত্তিক নয় এবং এটি মূলত অভিবাসন সীমিত করার একটি রাজনৈতিক পদক্ষেপ।অন্যদিকে স্টেট ডিপার্টমেন্টের এক মুখপাত্র বলেন, ভিসা কোনো অধিকার নয়, বরং একটি বিশেষ সুযোগ। তিনি জানান, পররাষ্ট্র সচিব মার্কো রুবিও স্পষ্ট করে বলেছেন, অভিবাসীদের অবশ্যই আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হতে হবে। তার দাবি, এতে বিলিয়ন ডলারের অপচয় ও জালিয়াতি রোধ হবে এবং আমেরিকান নাগরিকদের জন্য সরকারি সুবিধা সুরক্ষিত থাকবে।এই মামলাকে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় আইনি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

শেয়ার করুন