০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, বুধবার, ১০:৬:২৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ওয়ারেন্ট ছাড়া বাড়িতে প্রবেশের গোপন নীতি আইসের উবার ও লিফট চালকদের অধিকার রক্ষায় ডিঅ্যাকটিভেশন বিল পাস ৩ লাখ অভিবাসী শিশুর খোঁজে ফেডারেল অভিযান, ১.৪৫ লাখ শনাক্ত ৭৫ দেশের অভিবাসনে নিষেধাজ্ঞা : ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা গুলিতে আহত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত যুবক, পুলিশের বক্তব্যে পরিবারের আপত্তি ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত শহরে আইসকে বিক্ষোভে হস্তক্ষেপ না করার নির্দেশ বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য ‘নিরাপত্তা সতর্কতা’ জারি আইস সাতটি নতুন অভিবাসী আটক কেন্দ্র চালুর কথা ভাবছে সুপ্রিম কোর্টের রায় নির্ধারণ করবে ২ হাজার ডলারের স্টিমুলাস চেকের ভাগ্য ৯ ফেব্রুয়ারি বিটিভিতে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান


আমলাতন্ত্রের অভিশাপ মুক্ত হতে পারেনি অন্তর্বর্তী সরকারও
সালেক সুফী
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৪-০২-২০২৬
আমলাতন্ত্রের অভিশাপ মুক্ত হতে পারেনি অন্তর্বর্তী সরকারও বাংলাদেশ সচিবালয়


জুলাই-আগস্ট ২০২৪ রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দায়িত্বপ্রাপ্ত অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম প্রধান কাজ ছিল দুর্নীতি দমনসহ কিছু অপরিহার্য সংস্কার সাধন করা। কিন্তু কয়েকজন উপদেষ্টা মেধা মননের সমন্বয় ঘটিয়ে আন্তরিকভাবে চেষ্টা করেও কাঙ্ক্ষিত সংস্কার করতে পারলেন না। এমনকি বারবার প্রতিশ্রুতি দিয়েও সরকার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন জাতীয় বেতন কাঠামোর গেজেট প্রকাশে সামর্থ্য হচ্ছেন না। 

সরকারের জ্বালানি বিদ্যুৎ, সড়ক, মহাসড়ক এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আক্ষেপ করে বলেছেন ‘মাইলস্টোন নয়, সচিবালয়ে বিমান পড়া দরকার ছিল’। অনুধাবন করতে দুরূহ নয় কতটা বিরক্ত হলে একজন সজ্জন ব্যক্তি এ ধরনের উক্তি করতে পারেন। বেশকিছু দিন আগে জ্বালানি বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কাজে দুর্নীতি দমন বিষয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘সরকারের আমলা এবং রাজনীতিবিদরা দুর্নীতি নির্মূল করতে আগ্রহী না’।

বাংলাদেশের উন্নয়ন কার্যক্রমে অন্যতম প্রধান সংকট দুর্নীতির কালো থাবা। আর এই দুর্নীতির মূলহোতা আমলা নেতৃত্বের অশুভ সিন্ডিকেট। মহাদুর্নীতির কারণেই একসময় বাংলাদেশ পরপর তিনবার বিশ্বের সেরা দুর্নীতিবাজ হিসাবে চিন্নিত হয়েছিল। একই কারণে বিগত সরকারের সময়ে দেশজুড়ে ব্যাপক উন্নয়ন হলেও উন্নয়নের সুফল পৌঁছেনি জনগণের দুয়ার প্রান্তে। দুর্নীতি করে আমলা, রাজনীতিবিদরা দেশের বিপুল অর্থসম্পদ বিদেশে পাচার করছে। আমলাতন্ত্র সরকারকে দুর্নীতি দমন প্রক্রিয়ায় সৎ পরামর্শ না দিয়ে সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করেছে। সরকার পরিবর্তনে রাজনীতিবিদ, ব্যাবসায়ীদের কারাবন্দী এবং বিচারে সাজা হলেও মূল দুর্নীতিবাজ আমলা চক্র কিন্তু ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকেছে।

বর্তমান সরকারের সময়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, বাণিজ্য, জ্বালানি, বিদ্যুৎ, সড়ক, রেল, পরিবেশ মন্ত্রণালয়ে বেশ কিছু সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও সুবিধাবাদী আমলাদের কারসাজিতে বিভিন্ন পর্যায়ে সংস্কার বাধাগ্রস্ত হয়েছে। অধিকাংশ সংস্কার আলোর মুখ দেখেনি। সরকার আর ১০-১২ দিনের মাঝেই নির্বাচনের পর নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে। সরকার কি বলতে পারবে কোন ক্ষেত্রে কার্যকরি কি সংস্কার হয়েছে? সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সুস্পষ্টভাবে আমলাদের অসহযোগিতাকে দায়ী করেছেন।

উপমহাদেশের কোন দেশ আমলাদের প্রভাবমুক্ত হয়। এই আমলাতন্ত্র রেখে গেছে ভারত উপমহাদেশে ব্রিটিশ শাসকরা। ভারতে তবুও তুলনামূলকভাবে গণতন্ত্র শক্তিশালী থাকায় আমলারা নিরংকুশ নিয়ন্ত্রণে নেই। পাকিস্তান এবং বাংলাদেশে দুর্বল গণতন্ত্র বা গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার অভাবে আমলাতন্ত্র জেঁকে বসেছে। দেশে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা বিপর্যস্ত, জ্বালানি বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা সংকটাপন্ন, শিল্প বাণিজ্য, অর্থনীতি ধ্বংসের মুখে। নতুন সরকার আমলাতন্ত্রের নিয়ন্ত্রণ না করলে অথবা সব ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পেশাদারদের দায়িত্ব প্রদানে ব্যর্থ হলে স্বল্প মেয়াদ বা দীর্ঘমেয়াদে সাফল্য অর্জন করতে পারবে না। আইন, বিচার মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করে দুর্নীতি দমন সংস্থাকে সম্পূর্ণভাবে আমলা নিয়ন্ত্রণ মুক্ত করতেই হবে। সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আমলারা পোশাক পাল্টিয়ে ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। এই ধারা ছেদ করতে না পারলে কোনো ক্ষেত্রেই টেকসই উন্নয়ন করা সম্ভব হবে না।

শেয়ার করুন