ভোটারদের লাইন (ফাইল ফটো)
ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র কয়েকদিন। ১২ ফেব্রুয়ারি। জন আকাঙ্খা প্রতিফলনের দিন। দীর্ঘ আন্দোলন, বিপ্লব, জীবন ও রক্তদানসহ বহু ত্যাগ তীতিক্ষার পর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দিন। কিন্তু বহুল আকাঙ্ক্ষিত ঐ দিন প্রত্যাশিত ভোট কী আদৌ অনুষ্ঠিত হবে, এমন প্রশ্ন এখন মুখে মুখে। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই একটি উৎসবমুখর নির্বাচন আয়োজনের যে আশ্বাস দিয়েছিলেন, নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে এসেও সেরকম কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। মানুষের মাঝে ঐ স্থানে বিরাজ করছে একধরনের হতাশা। মানুষ বলতে শুরু করেছে, নির্বাচন কী আদৌ হবে? হলে কিভাবে হবে। এ নির্বাচন কি পাতানো কোনো ছক বাস্তবায়নের, নাকি নির্বাচন পিছিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ বৃদ্ধি হতে পারে!
আপাতত এসব প্রশ্নের উত্তর নেই। ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের পর শুরু হবে ব্যাপক প্রচারণা। ওই পর্বে কিছুটা আঁচ করা যেতে পারে হয়তো।
নির্বাচন কমিশনের উপর প্রেসার তৈরি
দেশে জামায়াত ও এনসিসি প্রশাসনের কেউ কেউ একটি দল তথা বিএনপিকে অতিরিক্ত সুবিধা দেয়া হচ্ছে বলে সরাসরি অভিযোগ করে যাচ্ছে। প্রথম তারা অভিযোগ তুলো লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড না হওয়ার। এখন আবার বাড়তি সুবিধা প্রদান। জামায়াত সমর্থিত এনসিপির নির্বাচন বিষায়ক মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া গত ১৮ জানুয়ারি সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, নির্বাচন কমিশন আপিলের রায়ে বিএনপি প্রার্থীদের ‘অন্যায্য ও নিয়মবহির্ভূত সুবিধা’ দিচ্ছে। এতে করে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর হুমকি দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির মুখপাত্র ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ওইদিন আরো বলেন, ‘আমাদের সংশয়টা আজ আরও স্পষ্ট হয়েছে। এই পরিস্থিতি যদি চলতে থাকে, তাহলে অবশ্যই একটা শঙ্কা তৈরি হবে। জাতীয় নাগরিক পার্টি ও আরও যারা স্টেকহোল্ডার (অংশীজন) আছে, আমরা নির্বাচনে অংশ নেব কি না, সেটা পুনর্বিবেচনার পরিস্থিতি আসতে পারে। তবে আমরা চাই নির্বাচন যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হোক। আমরা যথাযথ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চাই এবং বাংলাদেশে বহুল প্রতীক্ষিত গণতান্ত্রিক উত্তরণ যেন সঠিকভাবে শেষ হয়, সেটাই আমাদের ফার্স্ট প্রায়োরিটি।’ তিনি বিএনপি ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়ে আসিফ বলেন, আপিল শুনানির শেষ দিনে তারা (বিএনপি) বাইরে মব তৈরি করে রেখেছে। এক্সটার্নাল প্রেশার তৈরি করে রেখেছে।
আসিফ মাহমুদ জানান, রায় ঘোষণার আগমুহূর্তে নির্বাচন কমিশন ১৫ মিনিটের বিরতির কথা বলে দেড় ঘণ্টা সময় নিয়ে বিএনপির প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেছে। ওই প্রতিনিধি দলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ছিলেন বলেও জানান তিনি। এনসিপির এ নেতা বলেন, বিএনপির প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকের পর দেওয়া রায় কিছুতেই নিরপেক্ষ হতে পারে না। এটা গণতন্ত্রের জন্য অশনি সংকেত। আসিফ মাহমুদ আরও অভিযোগ করেন, বিএনপির অন্তত ২০ জন প্রার্থী দ্বৈত নাগরিকত্বের ক্ষেত্রে ইসির বিধান যথাযথভাবে প্রতিপালন না করেই প্রার্থী হচ্ছেন।
নির্বাচন কমিশন আসলেই প্রচুর চাপে। এর আগেও প্রতীক প্রাপ্তির ক্ষেত্রে ব্যাপক চাপ প্রয়োগ করে শাপলা ছাড়া ইলেকশনই করবে না এমনটা জানিয়ে শেষ পর্যন্ত শাপলা কলি নতুন বরাদ্দ দিলে সব জায়েজ হয়ে যায়। একই ইস্যুতে নির্বাচন বয়কটের ও হুমকি দিয়েছে। জামায়াত বারবার অভিযোগের পর প্রধান উপদেষ্টার কাছেও এ ইস্যুতে নালিশ করেছে।
বিএনপিও প্রশাসনে ঘাপটি মেরে থাকা জামায়াতের লোকজন পক্ষপাতদুষ্ট কাজ করছে বলে অভিযোগ করছে। পোস্টালভোটে যে ব্যালট পেপার আলফাবেট আকারে সাজানোর অজুহাতে ধানের শীষ কে নাজুক একটা স্থানে রাখা হয়েছে। যা ইসির ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা কারোর ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকান্ডের বহিঃপ্রকাশ বলে দাবি করছে। ফলে এখানে পক্ষ বিপক্ষ মত রয়েছে। যা ক্ষুণ্ন করছে ইসির নিরপেক্ষতা। এখানেও কমছে মানুষের আস্থা।
বিদেশীদের দৌড়ঝাঁপ
নির্বাচন এলেই বিদেশিদের তৎপরতা বেড়ে যায়। এবারো তাই হচ্ছে। বাংলাদেশে বিভিন্ন দেশের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ রয়েছে। ফলে বিদেশীরা চায় একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন। যেখানে সব দল থাকবে। এবং নির্বাচনের পর সুষ্ঠুভাবে বিজয়ী দল দেশ চালাবে। এতে করে বিভিন্ন দেশের যে সব বিনিয়োগ সেগুলো যেন লাভসহ তারা ফেরত নিতে পারেন নির্বিঘ্নে। অন্তর্ভূক্তিমূলক নির্বাচন না হলে দেশে অস্বস্থি তৈরি হয়। জনমনে থাকে অশ্বস্থি। যেমনটা আওয়ামী লীগের ১৬ বছরের বেশিরভাগ সময় ছিল অমনটা।
তাহলে কী করতে হবে? অন্তর্ভূক্তিমূলক নির্বাচন করার অর্থ আওয়ামী লীগকেও সুবিধা দিতে হবে নির্বাচন করার। কিন্তু সেটা আদৌ কী সম্ভব? জুলাই হত্যাকান্ডের পর আওয়ামী লীগের সকল কার্যক্রম নিষিদ্ধ। এমন একটা দলকে চাইলেই নির্বাচনে ফিরিয়ে আনা ও সুযোগদান এটা অনেকেই মানবে না। এখানে হয়তো উভয়সঙ্কট বিরাজ করছে।
বাংলাদেশ নির্ভরশীল দেশের রপ্তানীপণ্য ও রেমিটেন্সের উপর। ফলে দুটিতেই বিদেশী দেশসমূহের উপর নির্ভর ও তাদের নানা সুপারিশমালা শুণতেই হয়। বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেশ ও বিদেশের এই সঙ্কটে প্রচণ্ড চাপে থাকার কথা অন্তর্বর্তী সরকার। একই সঙ্গে তারা এমনটাও বলছে, যদি একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনমনে স্বস্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরে না আসে, তাহলে ওইরকম নির্বাচন অর্থহীন। অন্তর্বর্তী সরকারও সেটা বুঝাচ্ছেন।
বাংলাদেশের রাজনীতির শুধু যে অভ্যন্তরীণ ইস্যু জড়িত তা নয়। বহু আগ থেকেই এখানে ভূ-রাজনীতিও ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। পতিত শেখ হাসিনাও বারবার সে কথা উচ্চারণ করতেন। তাছাড়া একই ইস্যুতে বিগত সরকারের আমলে বিশ্বের ক্ষমতাধর বহু দেশকেও প্রতিনিয়ত বাংলাদেশে আসতে দেখা গেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এমনটা না দেখা গেলেও সে সব কাজের ধারাবাহিকতা নেই এটা ভাবনা ভুল।
ফলে সাধারণ মানুষ যা চাইবে সেটাই হয়ে যাবে, মানুষ এখন আর সেটা বিশ্বাস করে না।
সাধারণ মানুষের ভাবনা
বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ স্বপ্ন দেখেছিল আওয়ামী শাসন থেকে মুক্ত হয়ে একটি সুন্দর সমাজ ও পরিবেশের। কিন্তু জুলাই আগস্টের আন্দোলনের লুট হওয়া অস্ত্র ফেরাতে ব্যর্থতা রয়েছে সরকারের। এ নিয়ে আতংক রয়েছে নির্বাচনী মাঠে। সাধারণ মানুষ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে পিষ্ঠ। শেখ হাসিনার সরকারের পতন হওয়ার পর বাজার সিন্ডিকেট ভেঙ্গে নিত্যদিনের দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে ফিরবে বলে আশা ছিল। কিন্তু সে আশায় গুড়েবালি। মানুষের নাভিশ্বাস বর্তমান বাজার মূল্যে। সিন্ডিকেট ভাঙ্গা তো দূরে থাক, আরো ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেছে। এ নিয়ে সরকারের কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই। সর্বশেষ, আমদানিকৃত এলপিজি গ্যাস মানুষ ক্রয় করতে বাধ্য হচ্ছে দ্বিগুণ দামে। ভোক্তা অধিকার দিয়ে লোক দেখানো যে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে সেটা নিতান্ত হাস্যকর। একজন এলপিজি ডিলার অন্তত ২ থেকে ৩ হাজার সিলিন্ডার ফেলে রেখেছে। আমদানি না করে কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করে দ্বিগুণ দাম নিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। ভোক্তা অধিকার জরিমানা করছে কোথাও ১০ হাজার, কোথাও ৫০ হাজার। যা ডিলার দশ থেকে ১৫ টি সিলিন্ডার বিক্রি করেই ক্ষতি পুষিয়ে নিচ্ছে।
ফলে মানুষের মধ্যে চরম হতাশা। মানুষ প্রত্যাশা করছে একটা নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার আসুক। সাধারণ ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সর্বত্র থমকে রয়েছে। সবার মুখেই নির্বাচনটা হয়ে যাক- এরপর। কিন্তু সে নির্বাচনটা যথা সময় হওয়া এখন বাঞ্জনীয় হয়ে গেছে ওইসকল মানুষের কাছে। কারণ নির্বাচিত সরকারের রয়েছে জবাবদীহীতা। এ অন্তর্বর্তী সরকার তো জনগণের ভোটে নির্বাচিত না, তাদের দায় দায়িত্বও সেভাবে নেই।
জামায়াত বিএনপির মধ্যে অবিশ্বাসের দোলাচল
আওয়ামী লীগের অবর্তমানে দেশে প্রধান দুই রাজনৈতিক দল বিএনপি ও জামায়াত। দীর্ঘদিন এদের মধ্যে সখ্যতা ছিল। জোট ছিল। এক সঙ্গে সরকার পরিচালনা করারও অভিজ্ঞতা রয়েছে। কিন্তু এখন আওয়ামী লীগের অবর্তমানে যেখানে দুই দল এক হয়ে কাজ করার সুযোগ সেখানে এক দল অন্যের কঠিন প্রতিপক্ষ। এখানেও কোনো কূটকৌশল কাজ করে থাকতে পারে। বেশ কিছুদিন ধরে জামায়াত জোটে ভাঙন। এনসিপি এলডিপি জামায়াত জোটে যোগদান সবকিছুই কোনো পরিকল্পনার হয়তো অংশ বিশেষ।
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন
গণভোটের মাধ্যমে হ্যাঁ ভোট জয়যুক্ত করতে সরকারি প্রচারণা চলছে। এ ব্যাপারে সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারিদেরও যুক্ত করা হয়েছে। সদ্য প্রধান উপদেষ্টা যে ভাষণ দিয়েছেন তাতে সব ছাড়িয়ে হ্যাঁ ভোট দেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। যেহেতু বিষয়টি সাধারণ মানুষের হাতে, তারাই বুঝবেন। এখানে সরকারি প্রচারণার কারণ একটাই বিপ্লবের পর অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বভার গ্রহণ ও সেটার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ। এর বাইরে অন্যকিছু থাকার কথা না। বিএনপিও বলছে তারা হ্যাঁ ভোটের পক্ষে। এনসিপি জামায়াত তো আছেই। কিন্তু এরপরও কিসে ভয় যার জন্য, হ্যাঁ ভোটের আহ্বান বারবার। এ নিয়ে নানা আলোচনার ডালপালা মেলতে শুরু করেছে। তবে এটা ঠিক, হ্যাঁ ভোট জয়যুক্ত হওয়ার পরও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের অনেক কাজ। সেটা শুধু নির্বাচিত সরকার ও সংসদ করবে সেটাও ঠিক না। এরসঙ্গে হয়তো অন্তর্বর্তী সরকারেরও সহযোগিতা থাকবে বা লাগবে বৈ কি! সনদ তৈরিতে যখন সরকার, সংস্কার কমিটি ও রাজনৈতিক দলসমূহ মিলে করেছে। বাস্তবায়নেও সবার সহযোগিতা লাগতেই পারে, যা অসম্ভব কিছু না।
নির্বাচনের গাড়ি
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদের বিষয়ে গণভোটের বিষয়ে সারাদেশে প্রচারণার লক্ষ্যে যাত্রা শুরু করেছে দশটি ভোটের গাড়ি সুপার ক্যারাভান। ১৯ জানুয়ারি সোমবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করেছে সুপার ক্যারাভান।
অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত থেকে ফিতা কেটে ভোটের গাড়ির উদ্বোধন করেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এবং প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভিডিও বার্তায় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় অতিক্রম করছে। সামনে আমাদের জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের ওপর গণভোট।
তিনি বলেন, এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে যাত্রা শুরু করেছে ১০টি ভোটের গাড়ি সুপার ক্যারাভান। এসব গাড়ি দেশের ৬৪টি জেলা ও ৩০০টি উপজেলায় ঘুরে বেড়াবে। তারা মানুষের দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে নির্বাচন ও গণভোট সম্পর্কে তথ্য পৌঁছে দেবে, ভোটাধিকার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করবে এবং গণতন্ত্রের বার্তা ছড়িয়ে দেবে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “ভোটাধিকার কারো দয়া নয়- এটি আমাদের সাংবিধানিক অধিকার। এই অধিকার প্রয়োগের মাধ্যমেই আমরা ঠিক করি, আমাদের ভবিষ্যৎ কোনপথে যাবে। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়; এটি রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব।”
তিনি বলেন, “এই সুপার ক্যারাভান কেবল একটি গাড়িই নয়- এটি গণতন্ত্রের আনন্দবানী বহনকারী বহর। এটি জানিয়ে দেবে, আপনার একটি ভোট কতটা গুরুত্বপূর্ণ। এটা মনে করিয়ে দেবে নিষ্ক্রিয়তা নয়, অংশগ্রহণই গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে।” তিন বলেন, “আমি বিশেষভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি তরুণ সমাজ, নারী ভোটার এবং প্রথমবারের ভোটারদের প্রতি- আপনারা এগিয়ে আসুন। প্রশ্ন করুন, জানুন, বুঝুন এবং ভোট দিন। আপনার সিদ্ধান্তই গড়ে উঠবে আগামী দিনের বাংলাদেশ- নতুন বাংলাদেশ।”
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আমরা এমন একটি নির্বাচন চাই, যেখানে থাকবে না ভয়, থাকবে না বাধা থাকবে কেবল জনগণের মুক্তও নির্ভীক মতপ্রকাশ। সরকার সেই পরিবেশ নিশ্চিতকরতে বদ্ধপরিকর।” তিনি বলেন, “আপনি দেশের মালিক। এদেশ আগামী পাঁচ বছর আপনার পক্ষে কে চালাবে সেটা আপনি ঠিক করে দিবেন। আপনার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিন। সৎ ও সমর্থ প্রার্থী বেছে ভোট দিন। চিন্তা ভাবনা করে ভোটদিন।”
তিনি বলেন, “এবারের নির্বাচনে আপনি আরো একটি ভোট দিবেন। জুলাই সনদে ভোট দিবেন। দীর্ঘ ৯ মাস ধরে সকল রাজনৈতিক দলের সঙ্গে দিনের পর দিন বৈঠককরে এই সনদ তৈরি হয়েছে। এই সনদ দেশের মানুষ পছন্দ করলে দেশ আগামী বহুবছরের জন্য নিরাপদে চলবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। আপনি যদি এই সনদ সমর্থন করেন তবে গণভোটে অবশ্যই হ্যাঁ ভোট দিন।”
তিনি বলেন, “চলুন, আমরা সবাই মিলে এই গণতান্ত্রিক যাত্রাকে সফল করি। চলুন, ভোট দিই-নিজের জন্য, দেশের জন্য, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য, নতুন পৃথিবীর জন্য।”
সবশেষ
নির্বাচন উৎসবমুখর করতে সরকার আন্তরিকতার সঙ্গে কাজগুলো করে গেলেও আমেজ নেই। মানুষ নীরব নিস্তব্দ। এবং সতর্কতার সঙ্গে পরিস্থিতি বিশ্লেষণ কষছে। এর সঙ্গে এক ধরনের ভয় শঙ্কা তাদের মধ্যে। ওই অবস্থান থেকে উত্তরণ ঘটানোই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ। সেটা যেমনটা অন্তর্বর্তী সরকারের, তেমনি নির্বচনে অংশ নেয়া প্রার্থী ও দলসমূহেরও। এখনও তো কিছু সময় বাকি। প্রচারণা শুরু হলে পরিস্থিতি কোথায় দাঁড়ায় সেটা দেখার অপেক্ষা।