০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, বুধবার, ১১:৩৮:০১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
আজ পালিত হবে পবিত্র শবে বরাত জামায়াতের নারী কর্মীদের কাছে তারেক রহমানের প্রশ্ন নিপা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবকে ঘিরে ভারতে অনুষ্ঠিতব্য টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে অনিশ্চিয়তা ‘উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে মার্কিনঘাঁটিগুলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের নাগালের মধ্যেই রয়েছে’ এনসিপির ৩৬ দফার ইশতেহার, কী আছে তাতে? ১২ ফেব্রুয়ারী ধানের শীষের পাশাপাশি হ্যা ভোট দেয়ারও আহ্বান তারেক রহমানের আন্তর্জাতিক আদালতে বাংলাদেশের জয়, নাইকোকে ৫১৬ কোটি টাকা জরিমানা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ প্রচার সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য দণ্ডনীয় অপরাধ- ইসি স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে হবে- জাহাঙ্গীর তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ আসন্ন সংসদের প্রথম অধিবেশনে পাশের আহ্বান


সরকারের নিরপেক্ষতার প্রশ্ন জোরালো হচ্ছে
সালেক সুফী
  • আপডেট করা হয়েছে : ২১-০১-২০২৬
সরকারের নিরপেক্ষতার প্রশ্ন জোরালো হচ্ছে


সরকার ঘোষিত আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সাধারণ নির্বাচন সূচি এখন চার সপ্তাহের কম সময় দূরে। সরকারপ্রধান থেকে শুরু করে, উপদেষ্টামণ্ডলী, নির্বাচন কমিশন বারবার নির্বাচনকালে সব প্রতিদ্বন্দ্বী দল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য লেভেল প্লে-গ্রাউন্ড সৃষ্টির নিশ্চয়তা দিলেও বাস্তবে ইতিমধ্যেই একটি দলকে বাড়তি সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ উঠছে, যা সরকারের নিরপেক্ষ ভাবমূর্তি দারুণভাবে ক্ষুণ্ন করছে। 

বর্তমান সরকার ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পটভূমিতে একটি মেটিক্যালস ডিজাইনের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসেছে সে কথা কিন্তু সরকারপ্রধান নিজেই পরিষ্কার করে বলেছেন। তিনি ছাত্র-যুবকদের নিজের নিয়োগকর্তা অবহিত করেছেন। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় জুলাই আন্দোলনের একটি অংশ রাজনৈতিক দল গঠন করে নির্বাচন কমিশনের রেজিস্ট্রেশন নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। অনেকে বলছেন, জুলাই আন্দোলনের সক্রিয় মাঠ কর্মীরা বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়ায় নবগঠিত দলটি পায়ের নিচে মাটি খুঁজে পায়নি। অনেকের দাবি সরকারের নির্দেশেই মূলস্রোতের দুই রাজনৈতিক দল-বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর দুয়ারে ধরনা দিয়ে শেষ পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামী জোটে শামিল হয়েছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে নির্বাচন হবে দুই শক্ত জোট-বিএনপি জোট এবং জামায়াতে ইসলামী জোটের মধ্যে। স্মরণে রাখতে হবে একই দিনে জুলাই চার্টার-সনদ বাস্তবায়ন বিষয়ে গণভোট হবে যেখানে সাধারণ ভোটাররা হ্যাঁ অথবা না ভোট দেবে। বিষয়টি দেশ এবং জাতির ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং গুরুত্বপূর্ণ।

একটি আন্দোলনের পরিণতিতে সরকার গঠিত হলেও নোবেল লরিয়েট ড. ইউনূসের সরকার কিন্তু শপথ নিয়েছে দেশে বিদ্যমান সংবিধানের অধীনে রাষ্ট্রপতির কাছে। এই সরকার কিন্তু ইতিমধ্যে সংবিধান লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ আছে। সংবিধানে বঙ্গবন্ধুকে জাতির জনক এবং স্বাধীনতার ঘোষক বলে স্বীকৃতি দেওয়া আছে। সরকারপ্রধান মেজর জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন। পাঠ্যপুস্তকে পরিবর্তন আনা হয়েছে। যে সংবিধান রক্ষার শপথ নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় সে সংবিধান পরিবর্তনের জন্য মরিয়া সরকারপ্রধান সংবিধানকেই অনর্থের মূল বলেছেন সাম্প্রতিক তার এক ভাষণে।

সরকারপ্রধান ছাত্র-যুবকদের রাজনৈতিক দলের প্রতি সহানুভূতিশীল ঠিক আছে। কিন্তু সেই দলের কেউ কেউ নির্বাচনে জিতবে এই কথা প্রকাশ্যে বলা তার পক্ষে শোভনীয় নয়। তিনি আবার গণভোটে সবাইকে হ্যাঁ বলার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। এগুলো কিন্তু তার নিরপেক্ষ ভূমিকার সঙ্গে যায় না। সরকারপ্রধান এবং সরকার জনগণকে বিপুল সংখ্যায় ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে এবং গণভোটে অংশগ্রহণের জন্য আহ্বান করতে পারে। জনগণ কোথায় ভোট দেবে, কাকে দেবে, সেটি তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার। সরকারের উচিত নিরপেক্ষ অবস্থানে থেকে অবাধ, শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করে জনমনে আস্থা ফিরিয়ে আনা। সেই পরিবেশ সৃষ্টি এখনো হয়েছে বলা যাবে না। 

স্মরণে রাখতে হবে বিদ্যমান সংবিধানে অনির্বাচিত অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের বিধান নেই। আর সংবিধানে গণভোট করারও কোনো সংস্থান নেই। তবুও বিদ্যমান পরিস্থিতিতে বিশেষ ব্যবস্থায় যখন একই দিন জাতীয় নির্বাচন এবং গণভোট হতে চলেছে তাই সরকারকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করা অত্যাবশ্যক। আরো স্মরণে রাখতে হবে সরকারি সিদ্ধান্তে আওয়ামী লীগের মতো মূল স্রোতের একটি রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারছে না।

দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নাজুক। নির্বাচনী পরিবেশ বিনষ্ট করার জন্য কিছু টার্গেট কিলিং হয়েছে। জুলাই-আগস্ট ২০২৪ আন্দোলনের সময় অনেক অস্ত্র, গোলাবারুদ লুট হয়েছে, অনেক সন্ত্রাসী, দণ্ডিত আসামি পালিয়ে গেছে। অস্ত্রসমূহ উদ্ধার হয়নি। অনেক সন্ত্রাসী মুক্ত হয়ে সমাজে অনাসৃষ্টি করছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দিলেও বাস্তবে প্রতিফলন সীমিত। দেখলাম আদালতে অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন স্থগিত রাখার জন্য রিট করা হয়েছে। কয়েকদিনের মধ্যেই রিট আদালতে মীমাংসা হবে।

সাধারণ জনসাধারণ ভারতসহ সব দেশের সঙ্গে সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান চায়। বিশেষ করে ভারত তোষণ বা ভারত বৈরী কিছু চায় না। কিছু অর্বাচীন মানুষের কারণে সেই পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। ভারত বা বাংলাদেশ কারো জন্যই পরিস্থিতি সুখকর পরিণতি আনবে না। 

জাতি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে একটি অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচন দেখার অধীর অপেক্ষায় আছে। এবার অনেক নতুন ভোটার আছে। অনেকেই গত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে ভোট প্রদানের সুযোগ পাননি। এবারের নির্বাচন কিন্তু জুলাইযোদ্ধাসহ অন্তর্বর্তী সরকারের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। জুলাই সনদ হ্যাঁ ভোটে জয়ী হলে দেশের রাজনৈতিক প্রশাসনিক দৃশ্যপট পাল্টে যাবে। আশা করি সরকার নির্বাচন সময়ে নির্বাচন কমিশনকে সব ধরনের সহায়তা প্রদান করবে।

শেয়ার করুন