১৫ জানুয়ারী ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ০১:৪৬:০৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ইমাম নিহতের ঘটনায় টার্নারের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ গঠন ম্যানহাটনে মুসলিম মহিলাকে ছুরিকাঘাত, আলবার্টকে ১১ বছরের কারাদণ্ড যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন কর্মকর্তার গুলিতে নারী নিহত, প্রতিবাদে হাজারো মানুষের বিক্ষোভ ট্রাম্পের কড়াকড়িতে অভিবাসী শ্রমিক কমলেও যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শ্রমিকদের বেকারত্ব বেড়েছে ওয়াশিংটনের ন‍্যাশনাল প্রেসক্লাবে বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে সভা মধ্যবর্তী নির্বাচন পরিচালনার নিয়ম বদলাতে মরিয়া ট্রাম্প জামায়াতের সাথে মার্কিন প্রতিনিধিদের বৈঠক নিয়ে নানা গুঞ্জন এক বাসায় অনেক পোস্টাল ব্যালটের ভিডিও ভাইরাল, ব্যবস্থা চায় বিএনপি বাংলাদেশ গাজার জন্য ট্রাম্প প্রস্তাবিত বাহিনীতে থাকতে চায় বাংলাদেশের সঙ্গেও ক্রিকেটে ভারতীদের ভূ-রাজনীতি


আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খালেদা জিয়ার মৃত্যু খবর
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ৩১-১২-২০২৫
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খালেদা জিয়ার মৃত্যু খবর খালেদা জিয়া


সবাইকে ফেলে চলে গেছেন বিএনপির চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবরটি বিশেষভাবে উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতে। বেশিরভাগ বিশ্ব মিডিয়ায় প্রধান খবর হিসেবে ছাপা হয়েছে খবরটি। কোন কোন সংবাদমাধ্যম একাধিক প্রতিবেদন করেছে খালেদা জিয়াকে নিয়ে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এখন পর্যন্ত দুইটা প্রতিবেদন করেছে খালেদা জিয়াকে নিয়ে। একটির শিরোনাম-‘বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ৮০ বছর বয়সে মারা গেছেন।’ আরেকটি খবরের শিরোনাম- ‘খালেদা জিয়া : নিহত এক নেতার বিধবা স্ত্রী থেকে বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী।’

প্রতিবেদন দুটিতে বেগম জিয়ার মৃত্যুর খবরের পাশাপাশি তার জন্ম, রাজনীতিতে প্রবেশ ও প্রথম প্রধানমন্ত্রী হওয়ার খবর গুরুত্ব পেয়েছে। বলা হয়েছে, বেগম জিয়া প্রথমবার জনসমক্ষে আলোচনায় আসেন বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্ত্রী হিসেবে। ১৯৮১ সালের এক সামরিক অভ্যুত্থানে তার স্বামী নিহত হওয়ার পর, খালেদা জিয়া রাজনীতিতে সক্রিয় হন এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নেতৃত্বে উঠে আসেন।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাও খালেদা জিয়াকে নিয়ে দুইটি প্রতিবেদন করেছে। একটির শিরোনাম- ‘বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ৮০ বছর বয়সে মারা গেছেন।’ অপরটির শিরোনাম-‘খালেদা জিয়া : বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী- ক্ষমতা ও প্রতিরোধে ভরা এক জীবন।’

প্রতিবেদনে বলা হয়, বেগম খালেদা জিয়ার জন্ম ১৯৪৬ সালের ১৫ আগস্ট, দিনাজপুরে যা তখন ছিল ব্রিটিশ ভারতের পূর্ববঙ্গ; বর্তমানে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল।

তার বাবা ইস্কান্দার মজুমদার দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ফেনির বাসিন্দা ছিলেন। তিনি এর আগে বর্তমান ভারতের জলপাইগুড়িতে চা ব্যাবসা করতেন। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্তির পর পরিবারসহ পূর্ববঙ্গে চলে আসেন, যা অল্প সময়ের মধ্যেই পূর্ব পাকিস্তানে পরিণত হয়।

রাজনীতিতে খালেদা জিয়ার প্রবেশ কোনও আগাম উচ্চাকাঙ্ক্ষা থেকে নয় বরং একটি গভীর রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়েই ঘটে।

১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে একটি ব্যর্থ সামরিক বিদ্রোহের সময় তার স্বামী ও তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হন। এই হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশকে গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দেয়।

জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর ভাইস প্রেসিডেন্ট আবদুস সাত্তার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হন এবং পরে নির্বাচনে বিজয়ী হন। তবে কয়েক মাসের মধ্যেই, ১৯৮২ সালের মার্চে তৎকালীন সেনাপ্রধান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ কোনও রক্তপাত ছাড়াই এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেন এবং দেশে সামরিক আইন জারি করেন।

এই অস্থির প্রেক্ষাপটেই যখন আবারও সেনাবাহিনী রাষ্ট্রক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং রাজনৈতিক দলগুলো টিকে থাকার সংগ্রামে লিপ্ত হয়— খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উত্থান শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে তিনি স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ জানানো অন্যতম প্রধান বেসামরিক নেত্রী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।

খালেদা জিয়া ১৯৮২ সালের জানুয়ারিতে বিএনপিতে সাধারণ সদস্য হিসেবে যোগ দেন। ১৯৮৩ সালে তিনি দলের ভাইস চেয়ারম্যান হন এবং ১৯৮৪ সালের আগস্টে দলের চেয়ারপার্সন নির্বাচিত হন। পরবর্তী কয়েক দশকে তিনি তিনবার নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রী হন।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের শিরোনাম- ‘বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ৮০ বছর বয়সে মারা গেছেন।’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেগম জিয়া দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। সম্প্রতি তাকে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছিলো। আরও বলা হয়, ২০০৬ সালের পর থেকে ক্ষমতার বাইরে থাকলেও এবং কয়েক বছর কারাবন্দি বা গৃহবন্দি অবস্থায় কাটালেও খালেদা জিয়া ও তার নেতৃত্বাধীন বিএনপি দেশজুড়ে উল্লেখযোগ্য জনসমর্থন ধরে রেখেছিল। এছাড়া

আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপিকেই সম্ভাব্য বিজয়ী এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমানের প্রায় ১৭ বছর নির্বাসনে থাকার পর গত সপ্তাহে দেশে ফেরার বিষয়টিও প্রতিবেদনে গুরুত্ব পেয়েছে।

ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিও খালেদা জিয়াকে নিয়ে দুইটি প্রতিবেদন করেছে। একটির শিরোনাম- ‘বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া ৮০ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেছেন।’ অন্যটির শিরোনাম- ‘বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল।’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘খালেদা জিয়ার ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক জন্ম থেকেই। কারণ তিনি ১৯৪৫ সালে জলপাইগুড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। অবশ্য সেসময় জলপাইগুড়ি ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি -অবিভাজ্য দিনাজপুর জেলার অন্তর্গত ছিল। দেশ ভাগের পর, তার পরিবার বাংলাদেশের দিনাজপুর শহরে স্থানান্তরিত হন। তিনি প্রথমে দিনাজপুর মিশনারি স্কুলে পড়াশোনা শুরু করেন এবং পরে ১৯৬০ সালে দিনাজপুর গার্লস স্কুলে ভর্তি হন। খালেদা জিয়া ১৯৯১ সাল থেকে তিনবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডনের শিরোনাম-‘বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দীর্ঘকালীন অসুস্থতার পর ৮০ বছর বয়সে মারা গেছেন।’

মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি’র শিরোনাম- ‘বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং শেখ হাসিনার প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী খালেদা জিয়া ৮০ বছর বয়সে মারা গেছেন।

সিএনএনের শিরোনাম- ‘বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও শেখ হাসিনার মূল রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী খালেদা জিয়া ৮০ বছর বয়সে মারা গেছেন।’

এছাড়া পাকিস্তানের জিও নিউজ, ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকা, টাইমস অব ইন্ডিয়া, হিন্দুস্থান টাইমসসহ বিশ্বের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে খালেদা জিয়ার মৃত্যুর সংবাদটি। 

এর বাইরেও অনেক দেশের সংবাদ মাধ্যম গুরুত্বের সঙ্গে সংবাদ পরিবেশন করেন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর বিষয়টি। ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, নিউজিল্যান্ড সহ বিভিন্ন দেশ, যাদের সঙ্গে বাংলাদেশের রয়েছে কোনো না কোনো সম্পর্ক।

শেয়ার করুন