১৫ জানুয়ারী ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ০৭:৩২:৪৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ইমাম নিহতের ঘটনায় টার্নারের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ গঠন ম্যানহাটনে মুসলিম মহিলাকে ছুরিকাঘাত, আলবার্টকে ১১ বছরের কারাদণ্ড যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন কর্মকর্তার গুলিতে নারী নিহত, প্রতিবাদে হাজারো মানুষের বিক্ষোভ ট্রাম্পের কড়াকড়িতে অভিবাসী শ্রমিক কমলেও যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শ্রমিকদের বেকারত্ব বেড়েছে ওয়াশিংটনের ন‍্যাশনাল প্রেসক্লাবে বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে সভা মধ্যবর্তী নির্বাচন পরিচালনার নিয়ম বদলাতে মরিয়া ট্রাম্প জামায়াতের সাথে মার্কিন প্রতিনিধিদের বৈঠক নিয়ে নানা গুঞ্জন এক বাসায় অনেক পোস্টাল ব্যালটের ভিডিও ভাইরাল, ব্যবস্থা চায় বিএনপি বাংলাদেশ গাজার জন্য ট্রাম্প প্রস্তাবিত বাহিনীতে থাকতে চায় বাংলাদেশের সঙ্গেও ক্রিকেটে ভারতীদের ভূ-রাজনীতি


যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি ক্রয়ের শীর্ষে চীনারা
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ২৩-০৭-২০২৫
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি ক্রয়ের শীর্ষে চীনারা


যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশীদের বাড়ি ক্রয়ের তালিকার শীর্ষ ১০ দেশের প্রথম স্থানে রয়েছে চীন। চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত ১২ মাসে চায়নিজরা যুক্তরাষ্ট্রে ১৩.৭ বিলিয়ন ডলার মূল্যের ১১৭০০টি বাড়ি ক্রয় করেছে। এ সময়ে সারাবিশ্বের মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি ক্রয় করেছেন ৫৬ বিলিয়ন ডলার মূল্যের মোট ৭৮১০০টি। 

একক দেশ হিসেবে গত কয়েক বছর ধরেই শীর্ষে রয়েছেন চায়নিজরা। আমেরিকাস্থ ‘ন্যাশনাল এসোসিয়েশন অব রিয়েল্টর্স’ (এনএআর) ২১ জুলাই সোমবার এ তথ্য দিয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী আগের বছরের চেয়ে এ বছর বিদেশীদের যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি ক্রয়ের প্রবণতা বেড়েছে ৮৩%। 

এনএআর জানিয়েছে, চায়নিজরা মোট ক্রেতার ১৫%। দ্বিতীয় শীর্ষে রয়েছে কানাডিয়ানরা-১৪%, তৃতীয় মেক্সিকো-৮%, চতুর্থ ভারত ৬% এবং পঞ্চম শীর্ষে থাকা ব্রিটিশরা ক্রয় করেছে ৪% বাড়ি। আরো উল্লেখ করা হয়েছে, সবচেয়ে বেশী দামে বাড়ি ক্রয় করেছে চায়নিজরা। একেকটির গড় মূল্য দাঁড়িয়েছে ১১৬৮৮০০ ডলার করে। 

এনএআরের বিজনেস অ্যান্ড কঞ্জ্যুমার রিসার্চ সম্পর্কিত পরিচালক ম্যাট ক্রিস্টোফারসন মনে করছেন, চীনে আবাসন সেক্টরে সংকটের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি ক্রয়ের আগ্রহ বেড়েছে। অনেকে বাড়ি ক্রয়ের মধ্যদিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসতি গড়ার কথাও ভাবছেন। 

উল্লেখ্য, চীনের আবাসন সেক্টরে চায়নিজদের অবদান হচ্ছে ২৫%-যা বার্ষিক আয়ের ৩৮%। গত কয়েক দশক থেকেই আবাসন সেক্টরের এমন তৎপরতা চীনের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে অসাধারণ অবদান রাখছিল বলেও মন্তব্য করেছেন ম্যাট ক্রিস্টোফারসন। তবে করোনা পরবর্তী সময়ে অর্থাৎ ২০২১ সালে চীনের অর্থনীতিতে কিছুটা নড়বড়ে অবস্থা পরিলক্ষিত হলে আবাসন সেক্টরেও অস্থিরতা দেখা দেয়। ব্যবসায়ীরা আগের মত নিরাপদবোধ করছিলেন না এখাতে ব্যাপক বিনিয়োগে। এমন অবস্থায় কঠোর শ্রমে অর্জিত অর্থ চীনের পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগে আগ্রহী হয়েছেন চায়নিজরা। যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির ভাড়া বৃদ্ধির ব্যাপারটিও চায়নিজদের উৎসাহিত করেছে বাড়ি ক্রয়ে। চায়নিজরা বাড়ির মূল্য পুরোটাই নগদে পরিশোধ করছেন বলেও জানা গেছে। ফলে ব্যাংকিং সেক্টরও স্বাচ্ছন্দবোধ করছে। আবাসন ব্যবসায়ীরা এক্ষেত্রে বাড়ির মূল্য কিছুটা কম রাখতেও দ্বিধা করছেন না। 

উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কর্তৃক চীনের পণ্য আমদানির ওপর শুল্ক বৃদ্ধির পর বর্তমান অবস্থা কতটা সুখকর তা এখনো জানা সম্ভব হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, শুল্ক বৃদ্ধির বিরুপ প্রভাব এ সেক্টরকেও আঘাত করবে। 

এনএআরের তথ্য অনুযায়ী, চায়নিজদের বাড়ি ক্রয়ের প্রথম পছন্দের স্থান হচ্ছে ক্যালিফোর্নিয়া। এরপরের অবস্থানে রয়েছে ম্যারিল্যান্ড স্টেট এবং নিউইয়র্ক সিটি। হাওয়াই, জর্জিয়া, আইডাহো, লুইঝিয়ানা, নর্থ ক্যারলিনা, ওয়াশিংটন, আরিজোনা, দেলওয়ার এবং ফ্লোরিডাতেও চায়নিজরা আবাসন খাতে বিনিয়োগ করেছেন। আমেরিকায় বিদেশীদের অধিক হারে বাড়ি ক্রয়ের তালিকার অপর দেশসমূহ হচ্ছে ব্রাজিল, কলম্বিয়া, নাইজেরিয়া, দুবাই এবং ইসরাইলের অধিবাসী। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস, জর্জিয়া, ওয়াশিংটনসহ বিভিন্ন স্টেটে অর্ধ শতাধিক ‘চায়না টাউন’ গড়ে উঠেছে-যেখানে ৮০% এর অধিক বাড়ি-ব্যবসার মালিক চায়নিজরা।

শেয়ার করুন