০২ জুন ২০২৬, মঙ্গলবার, ০৮:৪২:২২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আজ ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী অ্যাডভান্সড প্যানক্রিয়াটিক ক্যানসার চিকিৎসায় যুগান্তকারী অগ্রগতি ইসলামবিদ্বেষী গ্রাফিতি ঘিরে মুসলিম কম্যুনিটিতে আতঙ্ক যুক্তরাষ্ট্রে মর্টগেজ সুদের হার ৯ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ ইসরায়েল ডে প্যারেড বর্জনের ঘোষণা জোহরান মামদানির ওজনপার্ক মসজিদ আল-আমানের নতুন কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠিত ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিতেই চলবে ভিসা ও অভিবাসন ব্যবস্থা, বললেন রুবিও নিউইয়র্কে ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য এক্সেলসিয়র স্কলারশিপ আবেদন শুরু ৪ লাখ সাশ্রয়ী আবাসনের পরিকল্পনা ঘোষণা মেয়রের উপকূলের ১৯ জেলার প্রাণ-প্রকৃতি ঝুঁকিতে


এই বাজেট অর্থনৈতিক সংকট দূর করবে না-বাসদ
নিজস্ব প্রতিনিধি
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৭-০৬-২০২৪
এই বাজেট অর্থনৈতিক সংকট দূর করবে না-বাসদ


বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ এর সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ এক বিবৃতিতে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটকে সংকটের চক্রে ঘূর্ণায়মান দিশাহীন বাজেট বলে আখ্যায়িত করে বলেছেন বিগত বছরের অর্থনৈতিক সংকটের কারণ চিহ্নিত করে দূর না করার দিক নির্দেশনা বাজেটে না থাকায় অর্থনীতি সংকটের চক্রেই ঘুরপাক খেতে থাকবে। তিনি বলেন, সরকারের দুর্নীতি, অপচয় ও লুণ্ঠনমূলক নীতির দায় জনগণের উপর চাপিয়ে  কর ও ভ্যাট বৃদ্ধির বাজেট জনজীবনে দুর্ভোগ আরও বহুগুন বাড়াবে।

আই এম এফ এর পরামর্শ মেনে আগামী অর্থবছরের জন্য ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে, যা জিডিপির ১৪ দশমিক ২০ শতাংশ। জিডিপির অনুপাতে এটি গত এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ছোট বাজেট। বাজেট ছোট হলেও সরকারী ব্যয় কমবে না বরং জনগণের উপর কর ভ্যাটের বোঝা চাপিয়ে আয় বাড়ানোর নানামুখী পদক্ষেপ নেয়া হবে। গত অর্থবছরে জনজীবনে দুর্ভোগ বয়ে নিয়ে এসেছিল  দ্রব্যমুল্য, মূল্যস্ফীতি, টাকার মানের অবনমন, ডলার সংকট ও ডলার পাচার, বিদেশী ও দেশি ঋণ এবং তাদের সুদাসল পরিশোধ খাতে ব্যয় বৃদ্ধি, রিজার্ভ সংকট ও ব্যাংক খাতে লুটপাট। এসব নিয়ে এতো আলোচনার পরও এই সংকট নিরসনে পদক্ষেপ না নেয়ায় এবং বাজেটেও সমাধানে কোন দিক দিশা না থাকায় সংকট আরও ঘনীভূত হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী তিন মাসেই ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩৬ হাজার কোটি টাকার বেশি। গত মার্চের শেষে ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ৮২ হাজার ২৯৫ কোটি টাকা, যা বিতরণ করা মোট ঋণের ১১ দশমিক ১১ শতাংশ। গত ডিসেম্বরে খেলাপি ঋণের হার ছিল ৯ শতাংশ। অর্থনীতিবিদদের মতে খেলাপী ঋণের পরিমাণ বাস্তবে ৪ লক্ষ কোটি টাকার বেশি। দেশে এর আগে খেলাপি ঋণ বেড়ে কখনো এতটা হয়নি। একদিকে ঋণ খেলাপি বাড়ছে অন্যদিকে সরকার বাজেটে দেশের ব্যাংক থেকে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ফলে দেশের অর্থনীতিতে বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হবে।

একদিকে ডিজিটাল থেকে স্মার্ট বাংলাদেশের শ্লোগান অন্যদিকে ক্রমাগত মুঠোফোনে কথা বলা ও ইন্টারনেট সেবার উপর ক্রমবর্ধমান ভ্যাট আরোপের নিন্দা করে তিনি বলেন, ১০০ টাকার টক টাইম পেতে এখন গ্রাহককে দিতে হবে ১৩৯ টাকা। বহুল প্রচারিত মেট্রো রেলেও ভ্যাট আরোপ করা হচ্ছে। যা জনজীবনে ভোগান্তি বাড়াবে।

শিক্ষা, কৃষি, স্বাস্থ্য ও কর্ম সংস্থানকে প্রধান গুরুত্ব দেয়ার দাবি থাকলেও এসব খাতে গতানুগতিক বরাদ্দের নিন্দা করে তিনি বলেন, এর ফলে বিদেশ নির্ভরতা আরও বাড়বে এবং সাধারণ মানুষের জীবন দুর্ভোগ বাড়বে।  

দুর্নীতি, মূল্যস্ফীতি, টাকা পাচার, ব্যাংক লুটের যে মিলিত চক্রে দেশের মানুষের দুর্দশা বাড়িয়েছে তা নিরসনে কোন উদ্যোগ না নিয়ে জনগণের উপর কর-ভ্যাটের বোঝা চাপানোর প্রতিবাদ করে বলেন, বাজেট নিয়ে সরকারী মহলের বাগাড়ম্বর দিয়ে অর্থনীতির সংকট দূর হবে না।

তিনি ঋণ নির্ভর ঘাটতি বাজেট না করে গণমুখী বাজেট প্রণয়নের দাবি জানান।

শেয়ার করুন