১৮ এপ্রিল ২০২৬, শনিবার, ৬:৪০:৫৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার পেলেন সেই শিক্ষিকা মাহেরীন চৌধুরী আজ ১৭ এপ্রিল, ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস টাইম ম্যাগাজিনে বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খালেদা জিয়া সহ দেশের ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও পাঁচ প্রতিষ্ঠানকে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬’ পদক প্রদান যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েল নিয়ে জনমত বদলাচ্ছে টেক্সাসে পাঠ্যক্রমে ইসলাম ও সংখ্যালঘু ইতিহাস পরিবর্তন ঘিরে তীব্র বিতর্ক ট্রাম্প অ্যাকাউন্টস : চার মিলিয়নের বেশি শিশু নিবন্ধিত নিউ ইয়র্কে ২-কে চাইল্ড কেয়ার হবে পূর্ণ দিবস ও বছরব্যাপী ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থীদের ডিপোর্টেশন ঠেকানোর রায় দেওয়ায় দুই অভিবাসন বিচারককে বরখাস্তের অভিযোগ ইমিগ্রেশন আপিল বোর্ডে মাহমুদ খলিলের আপিল খারিজ


স্বনির্ভর অর্থনীতির রূপরেখা প্রণয়ন কারী
মুহিত ছিলেন সাদা মনের আলোকিত মানুষ
সালেক সুফী
  • আপডেট করা হয়েছে : ৩০-০৪-২০২২
মুহিত ছিলেন সাদা মনের আলোকিত মানুষ


সাদা মনের বিজ্ঞ আলোকিত মানুষ ছিলেন সদ্য প্রয়াত বাংলাদেশের প্রাক্তন অর্থমান্ত্রী। আমলা থেকে রাজনীতিবিদ আবুল মাল আব্দুল মুহিত। বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে অনেক অবদান আছে। বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক উন্নয়নে নীরবে সরবে অনেক অবদান রেখেছেন। মহান এই দেশপ্রেমী মানুষটির মহাপ্রয়াণে আমি গভীরভাবে শোকাভিভূত। পবিত্র রমজান মাসের শেষ লগ্নে মৃত্যুবরণ করা এই দেশপ্রেমিক নিঃসন্দেহে মহান আল্লাহতালার বিশেষ অনুগ্রহ প্রাপ্ত। আমি করুনাময়ের কাছে তাঁর আত্বার শান্তি প্রদানের কামনা করছি। মহান আল্লাহতালা তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস বরাদ্ধ করুন। 

সিলেটের একটি সভ্রান্ত পরিবারে জন্ম গ্রহণকারী মুহিত সাহেব ছিলেন ডাক সাইটে আমলা, কূটনীতিক। ছাত্র জীবনে বাম রাজনীতি করতেন। পাকিস্তান সুপেরিয়র সার্ভিসের অর্থনীতি কাদের অফিসার ছিলেন। ১৯৭১ মহান মুক্তিযুদ্ধের সূচনায় ছিলেন ওয়াশিংটন পাকিস্তান দূতাবাসে ইকোনমিক মিনিস্টার। যুদ্ধু শুরু হলে পদত্যাগ করে প্রবাসী সরকারের প্রতিনিধি  হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক জনমত গড়ে তুলেন। স্বাধীনতার পর প্ল্যানিং কমিশন , বৈদেশিক সম্পদ বিভাগ সচিবের পদে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

সিলেটের কৃতি সন্তান এরশাদ সরকারের মন্ত্রী ছিলেন। আওয়ামী সরকারে দীর্ঘ দিন অর্থ মন্ত্রীর দায়িত্ব প্লান করেছেন। জাতীয় সংসদে একাধারে দীর্র্ঘদিন  বাজেট পেশ করেছেন। বিদেশ নির্ভর অর্থনীতি থেকে স্বনির্ভর অর্থনীতির রূপরেখা প্রণয়ন করেছেন তিনি। তবে কিছু কিছু বিষয়ে তার প্রচন্ড দ্বিমত থাকায় স্বেচ্ছায় চলে যেতে চেয়েছেন। কিন্ত প্রধানমন্ত্রী শ্রদ্ধাভরে তাকে ধরে রেখেছেন। কিন্ত বয়সের ভারে রাজনীতি থেকে স্বেচ্ছায় অবসর নিয়েছেন। 

লিখেছেন, কিছু সুলিকিহিতো রচনা মূলক গ্রন্থ। তাঁর মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী হারালেন আরো একজন অভিভাবক। করোনা আক্রান্ত হয়েও সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন। অবশেষে বিধাতার ডাকে সাড়া দিয়ে দেশের ক্রান্তি লগ্নে চলে গেলেন পরপারে। জীবদ্দশায় দেখে গেছেন অনুন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের স্বীকৃতি। 

সম্পর্কে আমার বোন প্রয়াত মোস্তারী জামানের মামা শশুর মুহিত মামার সাথে আমার ঘনিষ্ট যোগাযোগ হয়েছিল সিলেট অঞ্চলে কিছু গ্যাস অবকাঠামো নির্মাণ কাজের সমস্যা সংকট নিরসনের জন্য। উনি সম্পৃক্ত থাকুন আর নাই থাকুন, অনেক সহায়তা করেছেন। অত্যন্ত সরল মনের সাদা মানুষটি সরাসরি কথা বলতেন। কোথাও কোনো গড়মিল দেখলে বলে উঠতেন ‘রাবিশ’। ।

ক্রমান্বয়ে বহুবছর অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের পর নিজে থেকে বয়সের কারণে রাজনীতি থেকে অবসর নিয়েছিলেন। তার স্থলে রাজনীতিতে  এসেছেন, তার অনুজ আব্দুল মোমেন যিনি এখন বিদেশ মন্ত্রী।

শেয়ার করুন