০৪ জুন ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ৬:৪৭:৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
মাত্র এক ডোজেই কমতে পারে ৬২ শতাংশ পর্যন্ত খারাপ কোলেস্টেরল নিউ ইয়র্কের ফোনমুক্ত স্কুলে কমেছে বুলিং আরবি ভাষা ও শিক্ষা যুক্তরাষ্ট্রে জনপ্রিয় হচ্ছে গ্রিনকার্ডের আবেদন নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অপব্যাখ্যার পর পুনঃব্যাখ্যা, মামলার প্রস্তুতি বিশ্ব কূটনীতির সর্বোচ্চ মঞ্চে আবারো বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন ভিসা : দুইবারের বেশি দূতাবাসে যেতে হবে না অনলাইন জুয়ার বিস্তার উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে বড়রা এ প্রজন্মকে হাটে নিয়ে বিক্রি করে দিয়েছে খালেদা জিয়ার নামে নামকরণ : তারেক রহমানের ‘না’ সাক্ষাৎকার ছাড়াই দ্রুত আশ্রয় আবেদন বাতিলের পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনের


আবাসন সহায়তা কাটছাঁটের প্রস্তাব
নিউ ইয়র্কে প্রায় ৪.৩৯ লাখ মানুষ ক্ষতির মুখে
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৩-০৬-২০২৬
নিউ ইয়র্কে প্রায় ৪.৩৯ লাখ মানুষ ক্ষতির মুখে যুক্তরাষ্ট্রের হাউজিং অ্যান্ড আরবান ডেভেলপমেন্ট


যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল রেন্টাল সহায়তা কর্মসূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত নীতিমালায় কঠোর সময়সীমা ও কাজের শর্তবা ওয়ার্ক রিকোয়ারমেন্ট আরোপ করা হলে প্রায় ৩ দশমিক ৭ মিলিয়ন মানুষ যাদের অর্ধেকেরও বেশি শিশু আবাসন সহায়তা হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে সেন্টার অন বাজেট অ্যান্ড পলিসি প্রায়োরিটিজ (সিবিপিপি)-এর বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে। এ নীতি বাস্তবায়িত হলে বহু নিম্নআয়ের পরিবার উচ্ছেদের মুখে পড়বে এবং গৃহহীনতার হার আরো বাড়তে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের হাউজিং অ্যান্ড আরবান ডেভেলপমেন্ট বিভাগ সম্প্রতি আবাসন সহায়তা ব্যবস্থায় স্বনির্ভরতা বৃদ্ধি করার লক্ষ্য নিয়ে নতুন কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে। তবে সমালোচকরা বলছেন, এ পরিবর্তন দীর্ঘদিন ধরে চলমান ভাড়াভিত্তিক সহায়তা কর্মসূচিকে দুর্বল করে তুলবে এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে ফেলবে। সিবিপিপির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, নতুন নিয়ম কার্যকর হলে হাউজিং চয়েস ভাউচার, পাবলিক হাউজিং এবং প্রজেক্ট বেসড রেন্টাল অ্যাসিস্ট্যান্স কর্মসূচির আওতায় থাকা লাখ লাখ মানুষ কঠোর শর্তের মধ্যে পড়বে। প্রস্তাবিত নিয়মে দুই বছরের বেশি সময় সহায়তা গ্রহণকারী পরিবার বা প্রতি প্রাপ্তবয়স্কের জন্য সপ্তাহে ৪০ ঘণ্টা কাজের শর্ত পূরণে ব্যর্থ ব্যক্তিরা সহায়তা হারানোর ঝুঁকিতে থাকবেন।

নীতির সমর্থকরা দাবি করছেন, এ পরিবর্তনের লক্ষ্য দীর্ঘমেয়াদি ভর্তুকি নির্ভরতা কমিয়ে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং স্বনির্ভরতা নিশ্চিত করা। তবে আবাসন অধিকারকর্মীদের মতে, এটি বাস্তবে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য বিপরীত ফল বয়ে আনবে এবং গৃহহীনতা আরো বাড়াবে।

সিবিপিপির বিশ্লেষণে আরো বলা হয়েছে, এ প্রস্তাবের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়বে নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে। কেবল নিউ ইয়র্কেই প্রায় ৪ লাখ ৩৮ হাজার ৯০০ জন মানুষ আবাসন সহায়তা হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ১ লাখ ৮৭ হাজার শিশু রয়েছে। আবাসন সংকটের বর্তমান পরিস্থিতিতে এ সংখ্যা রাজ্যের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

নিউ ইয়র্ক সিটির আবাসন অধিকার সংস্থাগুলো বলছে, শহরে ভাড়া ইতিমধ্যেই অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। এমন অবস্থায় ফেডারেল সহায়তা কমে গেলে বহু পরিবার আবার আশ্রয়কেন্দ্র বা রাস্তায় ফিরে যেতে বাধ্য হবে। প্রস্তাবিত নীতিতে কিছু ক্ষেত্রে বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ছাড়ের কথা বলা হলেও অনেক যোগ্য ব্যক্তি বাস্তবে এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। একইভাবে নিম্নআয়ের কর্মজীবী পরিবারগুলোও কঠোর শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ার ঝুঁকিতে থাকবে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রস্তাবিত নিয়ম কার্যকর হলে প্রায় ২ দশমিক ৮ মিলিয়নেরও বেশি পরিবার বা ইউনিট সরাসরি সহায়তা হারাতে পারে। এছাড়া যারা ইতিমধ্যেই কর্মরত, তাদের একটি বড় অংশও নতুন শর্তের কারণে সহায়তা থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।

আবাসন অধিকার সংগঠনগুলো আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, এ প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে এটি আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে, কারণ এটি লক্ষাধিক মানুষের মৌলিক আবাসন অধিকারকে প্রভাবিত করতে পারে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের হাউজিং অ্যান্ড আরবান ডেভেলপমেন্ট বিভাগ এই প্রস্তাবের ওপর জনমত গ্রহণ করছে। আগামী ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত এ বিষয়ে মতামত জমা দেওয়ার সুযোগ থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

শেয়ার করুন