০৩ জুন ২০২৬, বুধবার, ০২:১৭:৪৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
গ্রিনকার্ডের আবেদন নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অপব্যাখ্যার পর পুনঃব্যাখ্যা, মামলার প্রস্তুতি বিশ্ব কূটনীতির সর্বোচ্চ মঞ্চে আবারো বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন ভিসা : দুইবারের বেশি দূতাবাসে যেতে হবে না অনলাইন জুয়ার বিস্তার উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে বড়রা এ প্রজন্মকে হাটে নিয়ে বিক্রি করে দিয়েছে খালেদা জিয়ার নামে নামকরণ : তারেক রহমানের ‘না’ সাক্ষাৎকার ছাড়াই দ্রুত আশ্রয় আবেদন বাতিলের পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনের নিউ জার্সির আইস ডিটেনশন সেন্টারে অমানবিক আচরণের অভিযোগ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আজ ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী অ্যাডভান্সড প্যানক্রিয়াটিক ক্যানসার চিকিৎসায় যুগান্তকারী অগ্রগতি


মাহফুজ আলমের ফেসবুক পোস্ট
বড়রা এ প্রজন্মকে হাটে নিয়ে বিক্রি করে দিয়েছে
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৩-০৬-২০২৬
বড়রা এ প্রজন্মকে হাটে নিয়ে বিক্রি করে দিয়েছে সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম


আওয়ামী লীগ প্রশ্নে বর্তমানে দেশে যা চলছে, তা মূলত দেশের বড় দুটি রাজনৈতিক দলের ‘ইনসিকিউরিটি’ বা নিরাপত্তাহীনতা বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। ‘কৌন বনেগা লীগকা বাপ’Ñএমন প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, দেশের মানুষ নিশ্চিত মৃত্যু জেনে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগকে তাড়িয়েছে এবং ফ্যাসিবাদ কোনো ফর্মেই আর এ দেশে ফিরে আসতে পারবে না।

গত সোমবার সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন। মাহফুজ আলম লিখেন, ‘১৯৮৬ এবং ১৯৯৬ সালের স্মৃতি বিএনপি ভুলতে পারছে না, আর জামায়াত আছে আদর্শিক শত্রুতা ও সহিংসতার ভয়ে, যা বিএনপি-আওয়ামী লীগের ১৯৯০ দশকের যৌথ আক্রমণের স্মৃতি থেকে উৎসারিত।’

তিনি আরো লিখেন, ‘স্মৃতি আসলে ভয়ের উৎস বটে এবং আগামীতে বিএনপি ক্ষমতায় এসে ‘বহুদলীয় গণতন্ত্র’ করে নেবে আর জামায়াত চুপ মেরে গুপ্ত হয়ে যাবে।’

ফেসবুক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, সবচেয়ে বড় বিপদ ও চ্যালেঞ্জ হবে সেই প্রজন্মের জন্য, যারা আওয়ামী লীগের ‘ফ্যাসিবাদের’ বিরুদ্ধে রাজপথে লড়াই করেছেন। জামায়াত জোটে যাওয়ায় সেই বিপদ আরো ত্বরান্বিত হয়েছে এবং নগদ যা লাভ হয়েছিল, সেটাকেও বড় করার কোনো চিহ্ন দেখা যাচ্ছে না।

তিনি লিখেন, ‘দুঃখজনক হলো, এ প্রজন্ম এখন ব্যস্ত নিজেদের হাতের তালুর চেয়ে ছোট রুটি ভাগাভাগি নিয়ে।’ নতুন প্রজন্মকে নিজেদের হাতের রুটি বড় করার এবং এ জাতিকে তথা গ্লোবাল সাউথকে লিড দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তরুণদের যার যার পার্টি, দোকান, ফেরকা ও তরিকা থেকে সংগঠিত হতে হবে এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে নিজেদের স্বচ্ছল করতে হবে। বড়দের আস্কারা ও উসকানিতে তরুণদের অনেক শক্তিক্ষয় হয়েছে এবং বড়রা এ প্রজন্মকে হাটে নিয়ে বিক্রি করে দিয়েছে। এর সঙ্গে ছোটদের কোরাম আর মতাদর্শভিত্তিক একপাক্ষিক বয়ানও সক্রিয় ছিল এবং আছে, যার কারণে ১৯৭০ ও ১৯৯০-এর দশকেও তরুণদের এভাবে খেয়ে ফেলা হয়েছিল।’

লড়াইটা পুরোপুরি প্রজন্মের উল্লেখ করে সাবেক এ উপদেষ্টা বলেন, ‘আগের প্রজন্ম বর্তমানের তরুণদের বাঁচাবে না, এটি মাথায় রেখেই সবাইকে নতুন কৌশল নির্ধারণ করতে হবে।’ নিজেদের মধ্যে ব্যক্তি আক্রমণ আর বিদ্বেষচর্চা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তরুণরা যার যার ইমাম, খতিব, ফেরকা ও তরিকা বানাক, তাতে কোনো সমস্যা নেই এবং মতাদর্শের তর্ক চললেও সবার কেবলা বা মূল লক্ষ্য যেন থাকে জুলাই বিপ্লব আর অ্যান্টি-ফ্যাসিজম।’

তিনি আরো লিখেন, ‘নিশ্চিত মৃত্যু জেনে যে সাহসের সঙ্গে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগকে তাড়ানো হয়েছে, সে সাহসের সঙ্গে এখন নতুন প্রজন্মকে সাংগঠনিক শক্তি আর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা যুক্ত করতে হবে, যাতে ফ্যাসিবাদ আর কোনোভাবেই ফিরে আসতে না পারে।’

শেয়ার করুন