০৩ জুন ২০২৬, বুধবার, ০৩:৩৬:৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
আরবি ভাষা ও শিক্ষা যুক্তরাষ্ট্রে জনপ্রিয় হচ্ছে গ্রিনকার্ডের আবেদন নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অপব্যাখ্যার পর পুনঃব্যাখ্যা, মামলার প্রস্তুতি বিশ্ব কূটনীতির সর্বোচ্চ মঞ্চে আবারো বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন ভিসা : দুইবারের বেশি দূতাবাসে যেতে হবে না অনলাইন জুয়ার বিস্তার উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে বড়রা এ প্রজন্মকে হাটে নিয়ে বিক্রি করে দিয়েছে খালেদা জিয়ার নামে নামকরণ : তারেক রহমানের ‘না’ সাক্ষাৎকার ছাড়াই দ্রুত আশ্রয় আবেদন বাতিলের পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনের নিউ জার্সির আইস ডিটেনশন সেন্টারে অমানবিক আচরণের অভিযোগ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আজ ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী


সাক্ষাৎকার ছাড়াই দ্রুত আশ্রয় আবেদন বাতিলের পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনের
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৩-০৬-২০২৬
সাক্ষাৎকার ছাড়াই দ্রুত আশ্রয় আবেদন বাতিলের পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনের ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস


যুক্তরাষ্ট্রের আশ্রয় ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে কঠোরতা আরোপের ইঙ্গিত দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। অভ্যন্তরীণ সরকারি নথির বরাতে জানা যায়, প্রশাসন এমন একটি নিয়ম চালুর পরিকল্পনা করছে, যেখানে নির্দিষ্ট কিছু আশ্রয় আবেদনকারীর সাক্ষাৎকার না নিয়েই দ্রুত তাদের আবেদন বাতিল করা যাবে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে মার্কিন আশ্রয় প্রক্রিয়ায় এটি হবে অন্যতম বড় নীতিগত পরিবর্তন।নথি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের অধীন ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস)-এর কর্মকর্তারা এমন ক্ষমতা পাবেন, যাতে তারা কোনো আশ্রয় আবেদনকারীর আবেদন সরাসরি প্রত্যাখ্যান করতে পারেন, যদি দেখা যায় আবেদনটি যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের এক বছরের সময়সীমা অতিক্রম করে দাখিল করা হয়েছে এবং কাগজপত্রে সেই বিলম্বের যথেষ্ট ব্যাখ্যা নেই।

এ নিয়ম বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিন ধরে অনুসৃত একটি প্রক্রিয়া যেখানে প্রায় সব আশ্রয় আবেদনকারীর বাধ্যতামূলক সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়, তা উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হবে। এর বদলে অনেক ক্ষেত্রে কেবল নথিপত্র বিশ্লেষণ করেই দ্রুত সিদ্ধান্ত দেওয়া হতে পারে। এতে করে অনেক আবেদনকারী সরাসরি প্রত্যাখ্যান হয়ে যেতে পারেন এবং তাদের পাঠানো হবে নির্বাসন প্রক্রিয়ায়।

প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় বলা হয়েছে, যেসব আবেদন প্রাথমিক পর্যায়ে অযৌক্তিক বা সময়সীমা লঙ্ঘনকারী বলে বিবেচিত হবে, সেগুলো দ্রুতই প্রত্যাখ্যান করা হবে এবং পরবর্তী ধাপে বিচার বিভাগের অভিবাসন আদালতে পাঠানো হবে। সেখানে আবেদনকারীদের নিজেদের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করে থাকার অধিকার রক্ষা করতে হবে একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক আইনি প্রক্রিয়ায়।

মার্কিন অভিবাসন আইনে সাধারণভাবে বলা আছে, কোনো ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের এক বছরের মধ্যে আশ্রয়ের জন্য আবেদন না করলে তিনি সাধারণত অযোগ্য বলে বিবেচিত হন। তবে এ নিয়মের মধ্যে কিছু ব্যতিক্রমও রয়েছে। যেমন গুরুতর শারীরিক বা মানসিক অসুস্থতা, পর্যাপ্ত আইনি সহায়তা না পাওয়া, কিংবা বিশেষ মানবিক পরিস্থিতি। একা থাকা অপ্রাপ্তবয়স্ক আবেদনকারীর ক্ষেত্রে এ সময়সীমার বাধ্যবাধকতা অনেক ক্ষেত্রে শিথিল থাকে।

নতুন প্রস্তাবিত নীতিতে বলা হয়েছে, কর্মকর্তারা যদি মনে করেন যে আবেদনকারী এই ব্যতিক্রমগুলোর মধ্যে পড়েন, তাহলে তারা আবেদনটি পূর্ণাঙ্গভাবে গ্রহণ করে সাক্ষাৎকারের জন্য এগিয়ে নিতে পারবেন। তবে অন্য ক্ষেত্রে তারা দ্রুতই আবেদন বাতিলের পথে যেতে পারবেন, যা অভিবাসন ব্যবস্থায় গতি বাড়ানোর একটি উপায় হিসেবে প্রশাসন দেখছে।

ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেসের একজন মুখপাত্র বলেছেন, ট্রাম্প প্রশাসন বর্তমানে একাধিক বিকল্প বিবেচনা করছে যাতে করে লাখো পেন্ডিং আশ্রয় আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করা যায়। তাদের দাবি, এই বিশাল ব্যাকলগ তৈরি হয়েছে বাইডেন প্রশাসনের খোলা সীমান্ত নীতির কারণে, যার ফলে প্রক্রিয়াটি অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়েছে।

মুখপাত্র আরো বলেন, এ ব্যবস্থা ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেসকে এমন আবেদনগুলোতে সময় নষ্ট করা থেকে বিরত রাখবে, যেগুলো সরাসরি ইমিগ্রেশন কোর্টে পাঠানোই যুক্তিযুক্ত। এতে অবৈধ অভিবাসীরা তাদের দাবি বিচারকের সামনে উপস্থাপনের সুযোগ পাবে।

তবে অভিবাসন আইনজীবী ও অধিকারকর্মীরা এ প্রস্তাবিত পরিবর্তন নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। আশ্রয়প্রার্থী সহায়তা সংস্থা অ্যাসাইলাম সিকার অ্যাডভোকেসি প্রজেক্ট (এএসএপি)-এর সহ-নির্বাহী পরিচালক কনচিটা ক্রুজ বলেন, এ ধরনের নিয়ম অনেক আবেদনকারীকে তাদের ব্যাখ্যা দেওয়ার সুযোগ ছাড়াই ভুলভাবে নির্বাসন প্রক্রিয়ায় পাঠিয়ে দিতে পারে। তার মতে, অনেক মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ অবস্থায় থাকলেও যেমন ভিসা বা অস্থায়ী সুরক্ষা কর্মসূচির অধীনে পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি বদলালে তারা দেরিতে আশ্রয় আবেদন করেন। কিন্তু নতুন নিয়মে এ বাস্তবতা বিবেচনা না করে দ্রুত প্রত্যাখ্যানের ঝুঁকি তৈরি হবে।

তিনি আরো বলেন, সরকার এমন মানুষের ওপর নিয়ম বদলে দিচ্ছে, যারা বহু বছর ধরে জটিল অভিবাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। এটি ন্যায্য প্রক্রিয়ার ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করবে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের আশ্রয় ব্যবস্থায় ভয়াবহ জট তৈরি হয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছরের শেষ দিকে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেসের অধীনে প্রায় ১৫ লাখ আশ্রয় আবেদন বিচারাধীন ছিল। একই সময়ে বিচার বিভাগের অভিবাসন আদালতগুলোর কাছে প্রায় ৩ দশমিক ৩ মিলিয়ন মামলা ঝুলে ছিল, যার মধ্যে ২ দশমিক ৩ মিলিয়নের বেশি ছিল আশ্রয় সম্পর্কিত।

এ বিপুল ব্যাকলগ প্রশাসনগুলোর জন্য একটি দীর্ঘদিনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রিপাবলিকান ও ডেমোক্র‍্যাট উভয় প্রশাসনই অভিযোগ করেছে যে এ জটের কারণে অনেক মানুষ প্রকৃত শরণার্থী না হয়েও অর্থনৈতিক কারণে দীর্ঘ সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন এবং কাজ করছেন।

ট্রাম্প প্রশাসন, যার নেতৃত্বে আছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আশ্রয় ব্যবস্থাকে সীমিত করার জন্য একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দ্রুত নির্বাসন নীতি জোরদার করা, সীমান্তে কঠোর নিয়ন্ত্রণ এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সেফ থার্ড কান্ট্রি চুক্তি করা।

এ চুক্তির মাধ্যমে কিছু আশ্রয়প্রার্থীকে তাদের নিজ দেশ ছাড়া তৃতীয় দেশে পাঠানো হচ্ছে, যেখানে তাদের আশ্রয় আবেদন করতে বলা হচ্ছে। তবে এসব দেশের অনেকের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়েও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রশ্ন রয়েছে।

অন্যদিকে প্রশাসনের সমর্থকেরা মনে করেন, বর্তমান ব্যবস্থায় বছরের পর বছর ধরে লাখো মামলা ঝুলে থাকায় প্রশাসনিক চাপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। তাদের মতে, দ্রুত প্রাথমিক বাছাই ব্যবস্থা চালু হলে প্রকৃত যোগ্য আবেদনকারীদের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে এবং অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণও সহজ হবে।

শেয়ার করুন