১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, শনিবার, ০৫:০৪:৫৭ পূর্বাহ্ন


অভিবাসীদের সুরক্ষায় নির্বাহী আদেশে সই মামদানির
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ১১-০২-২০২৬
অভিবাসীদের সুরক্ষায় নির্বাহী আদেশে সই মামদানির ৬ ফেব্রুয়ারি ম্যানহাটনের ব্রায়ান্ট পার্কে নির্বাহী আদেশে সই করেন মেয়র জোহরান মামদানি


অভিবাসী নিউইয়র্কবাসীর সুরক্ষা ও নগরবাসীর জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন একটি নির্বাহী আদেশে সই করেছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। গত ৬ ফেব্রুয়ারি সকালে ম্যানহাটনের ব্রায়ান্ট পার্কে অবস্থিত নিউইয়র্ক পাবলিক লাইব্রেরিতে অনুষ্ঠিত একটি আন্তঃধর্মীয় প্রাতঃরাশ অনুষ্ঠানে তিনি এই আদেশের সই করেন। অনুষ্ঠানে মেয়র মামদানি বলেন, ধর্ম যদি আমাদের অপরিচিতের পাশে দাঁড়ানোর নৈতিক দিকনির্দেশ দেয়, তবে সরকার দিতে পারে সে সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ। আমরা এমন একটি সিটি হল গড়ে তুলতে চাই, যেখানে ক্ষমতা ব্যবহার হবে ভালোবাসা, আলিঙ্গন ও সুরক্ষার জন্য।

মেয়রের এ নির্বাহী আদেশে সিটি সংস্থাগুলোর নীতিমালা পর্যালোচনা করে সিটি আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) সংক্রান্ত বিষয়গুলো দেখভালের জন্য একটি নতুন টাস্কফোর্স গঠনের ঘোষণাও রয়েছে। নির্বাহী আদেশের প্রধান দিকগুলো হলো: (১) বিচারিক ওয়ারেন্ট ছাড়া আইসিই কর্মকর্তাদের স্কুল, আশ্রয়কেন্দ্র, হাসপাতালসহ কোনো সিটি সম্পত্তিতে প্রবেশ নিষিদ্ধ। (২) অভিবাসীদের ব্যক্তিগত তথ্য যেন বেআইনিভাবে ফেডারেল সরকারের হাতে না যায়, সে জন্য গোপনীয়তা সুরক্ষা জোরদার। (৩) সিটি আইন মেনে চলা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ সংস্থাগুলোর জননিরাপত্তা নিরীক্ষা প্রতিবেদন মেয়রের কাছে জমা ও বড় কোনো সংকটের সময় নীতিনির্ধারণে সমন্বয়ের জন্য আন্তঃসংস্থা কমিটি গঠন।

এছাড়া মেয়র মামদানি একটি নো ইয়োর রাইটস বা আপনার অধিকার জানুন নামে একটি প্রচারাভিযানও শুরু করেছেন। এর আওতায় বিভিন্ন ভাষায় ৩০ হাজারের বেশি লিফলেট বিতরণ করা হবে, যেখানে আইসিইর সঙ্গে সাক্ষাতে নাগরিকদের নীরব থাকার অধিকার, আইনজীবী ও দোভাষী চাওয়ার অধিকার সম্পর্কে জানানো হয়েছে। মেয়রের ১৩তম নির্বাহী আদেশে বলা হয়েছে, আইন দ্বারা বাধ্য না হলে সিটি সংস্থাগুলো ফেডারেল অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নগরবাসীর তথ্য শেয়ার করতে পারবে না। প্রতিটি সংস্থাকে ১৪ দিনের মধ্যে একজন করে প্রাইভেসি অফিসার নিয়োগের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এনওয়াইপিডি, কারেকশন বিভাগ, প্রোবেশন বিভাগসহ কয়েকটি সংস্থাকে ফেডারেল অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ নীতিমালা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন প্রকাশ করতে বলা হয়েছে।

নিউইয়র্ক ইমিগ্রেশন কোয়ালিশন এই আদেশকে স্বাগত জানিয়েছে। সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট ও সিইও মুরাদ আওয়াদেহ বলেন, এ ঘোষণা অভিবাসী প্রতিবেশীদের রক্ষার ক্ষেত্রে মেয়রের দায়িত্ব ও নৈতিক অবস্থানকে স্বীকৃতি দেয়। তবে এ আদেশের সমালোচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস)। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, এই নীতির ফলে নিউইয়র্ক সিটি কম নিরাপদ হয়ে উঠবে। ডিএইচএস দাবি করেছে, নিউইয়র্কের হেফাজতে থাকা ৭ হাজার ১১৩ জন ‘অপরাধী অবৈধ অভিবাসীকে’ আইসিইর কাছে হস্তান্তরের আহ্বান জানানো হয়েছে। এ নির্বাহী আদেশ ঘিরে নিউইয়র্কসহ আশপাশের এলাকায় অভিবাসন নীতি নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক আরো তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

শেয়ার করুন