ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ‘কঠিন পরীক্ষা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ২০ জানুয়ারি মঙ্গলবার দুপুরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে এক আলোচনা সভায় বিএনপি মহাসচিব এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, নির্বাচন আসছেৃ দেখা যাক কে কতটা ভোট পায়। সেজন্য আমরা ভোটের জন্য উন্মুখ হয়ে আছি। আমরা নির্বাচন চাই। আমরা জনগণের কাছে যাবো-জনগণ যদি আমাদেরকে গ্রহণ করে আমরা আছি। আর যদি বাদ দেয় আমরা বিরোধী দলে থাকবো- তাই না। আগে থেকে এত গলাবাজি কেন ভাই?
আজকে আমাদের এই পরীক্ষাটা খুব কঠিন পরীক্ষা। এই নির্বাচনে নির্ধারিত হবে যে, এই দেশ কী লিবারেল ডেমোক্রেটদের হাতে থাকবে? নাকি আপনার সমস্ত উগ্রপন্থী রাষ্ট্রবিরোধী লোকজনের মধ্যে থাকবে? আমাদেরকে অবশ্যই সেই উদারপন্থি রাস্তা বেছে নিতে হবে, গণতন্ত্রের রাস্তা বেছে নিতে হবে, মানুষের কল্যাণের রাস্তা বেছে নিতে হবে।
ফখরুল বলেন, সে কারণেই আমাদের ৩১ দফা, আমাদের চেয়ারম্যান তারেক রহমান যে আট দফা দিয়েছে আবার নতুন করে-ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মারস কার্ড এই বিষয়গুলো জনগণের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়ে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমাদেরকে নির্বাচনে ধানের শীষকে জয়যুক্ত করতে হবে। ধানের শীষকে যদি আমরা জয়যুক্ত করি তাহলে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা জানানো হবে, আমাদের মাতা বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা জানানো হবে।
কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের হলে বিএনপির উদ্যোগে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্ম বার্ষিকী উপলক্ষে এই আলোচনা সভা হয়। গত ১৭ জানুয়ারি সোমবার ছিলো জিয়াউর রহমানের জন্ম দিন। দিবস পালনে বিএনপি দুইদিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
‘ধর্মকে নয়, সিদা রাস্তায় রাজনীতি করেন’
জামায়াতে ইসলামীর অতীত ভূমিকার সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা মনে করি যে, রাজনীতি করছেন, রাজনীতি করেন সিধা রাস্তায় করেন। ধর্মকে ব্যবহার করে, মানুষকে বিভ্রান্ত করে, ভুল বুঝিয়ে নয়- দাঁড়ি পাল্লায় ভোট দিলে নাকি বেহেশতে যেতে পারবে- চিন্তা করেন। তাহলে আর নামাজ পড়া, আল্লাহর কাছে কমপ্লিট সারেন্ডার করা, ঈমান আনা- এগুলোর দরকার নেই নাকি? আমাদের এখানে অনেক উলামা আছেন তারা আবার বলতে পারবে।
তিনি বলেন, এই মুনাফিকি করে এরা মানুষকে ভুল বুঝায়। আজকে না পাকিস্তান যখন হয় ভারত বর্ষে যখন স্বাধীন হচ্ছে যখন যে যার লড়াই করছেন মুসলমানদের আবাসের স্থল পাকিস্তানের জন্য তখন তাদের নেতা মাওলানা মওদুদী পাকিস্তান আন্দোলন করেননি, বিরোধিতা করেছেন। আজকে বলতে বাধ্য হচ্ছি-এসব কথার কারণ তারা এই কথাগুলো আজকে বিভিন্নভাবে মিথ্যা প্রচার করেন।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ করেছেন প্রতিটি মানুষ। তারা বিরোধিতা করেছে-ঠিক না? আজকে প্রতি মানুষ যখন ভোটের জন্য উন্মুখ হয়ে আছে যে, বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদের রাজনীতি, তারেক রহমানের নতুন রাজনীতি, আধুনিক রাজনীতি যা বাংলাদেশকে পাল্টে দেবে তা গ্রহণ করবার জন্য মানুষ উন্মুখ হয়ে আছে। তখন তারা আবার সেটা বিভ্রান্ত সৃষ্ট করছে ধর্মের নামে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমাদের কথা খুব পরিষ্কার। আমরা ধর্মে বিশ্বাস করি। আমাদের নেতা প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান তিনি প্রথম কোরআন শরীফে কথা বলেছেন সংবিধানে- তিনি প্রথম সংবিধানের মধ্যে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম দিয়েছেন। তিনি প্রথম আল্লাহর উপর অবিচল আস্থা বিশ্বাসের কথা বলেছেন। ঠিক না। আমরা সবসময় এইভাবেই দেশে কাজ করেছি।
‘দেখা যাবে ওরা নির্বাচনে কতটা ভোট পায়’
যারা নির্বাচন নিয়ে হুমকি-ধামকি দিয়েছে তাদের প্রতি ইংগিত করে মির্জা ফখরুল বলেন, অনেকে নির্বাচন হবে কিনা, নির্বাচন করতে দেবো না কত কী বলেছিল। ভেতরে ভেতরে খবর নিয়ে দেখেন তাদের তিনটা ভোট নেই। তারা বড় গলায় বলে নির্বাচন হতে দেবো না। নির্বাচন হোক, দেখা যাবে কে কতটা ভোট পায়।”
‘জিয়াউর রহমান অনন্য নেতা’
প্রয়াত জিয়াউর রহমানের বর্ণাঢ্য জীবনের কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, একজন অনন্য নেতা ছিলেন তিনি.. তার নেতৃত্বে আলাদা একটা ভূখণ্ড তৈরি হয়েছে এবং স্বাধীন একটা ভূখণ্ড তিনি এই জাতিকে উপহার দিয়েছেন। গত কয়েকদিন আগে আমাদের আরেকজন নেত্রী নেতার সমস্ত জীবন দিয়ে আমাদের জন্য কাজ করে গেছেন আমাদের গণতন্ত্রে মুক্ত করেছেন, আমাদেরকে পথ দেখিয়েছেন, সেই নেত্রীকে আমরা হারিয়েছি। এই দেশের কোটি মানুষ সেদিন সমবেত হয়েছিল ওই পার্লামেন্ট চত্বরে। আমাদের নেত্রী যিনি গৃহবধূ ছিলেন তিনি বাইরে বেরিয়ে এসে জিয়াউর রহমানের সেই পতাকা আবার উপরে তুলে ধরেছেন। এরপর তাদেরই উত্তরসূরী তারেক রহমান.. তিনি সেই পতাকা তুলে ধরেছেন।
‘সংস্কারে হ্যাঁ’র পক্ষে আমরা’
ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনের কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা যখন আন্দোলন করছিলাম তখনই আমরা এই রাষ্ট্রীয় সংস্কারের রূপরেখা দিয়েছিলাম। প্রথমে ম্যাডাম দিয়েছিলেন ২০১৬ সালে ভিশন-২০৩০, এরপরে আমাদের নেতা অন্যান্য দল বসে আলাপ করে ৩১ দফা দিয়েছেন তাই না। ৩১ দফা কী ছিলো, কি আছে? আজকে যে সংস্কারের কথা বারবার বলা হচ্ছে, সব পত্রিকা-রেডি-টেলিভিশনে ও খুব প্রচার হচ্ছে। প্রধান উপদেষ্টা থেকে সমস্ত উপদেষ্টা নেমে গেছেন প্রচারণায়- ভালো কথা। কিন্তু আমরা বলেছি, ২০২২ সালেই- আমরা এই সংস্কারের কথা বলেছি। আমরা যা যা বলেছি সবগুলো আজকে এখানে আছে। এই সংস্কার নিয়ে আমাদেরকে প্রশ্ন করে অনেকে আপনারা সংস্কারের পক্ষে না বিপক্ষে। এটা তো আমারই সন্তান.. আমি তো তার জন্য প্রাণ দিতে পারি এই যে জিনিসগুলো সবসময় বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, আমাকে কেউ জিজ্ঞেস করে। আমি সোজাসোজি বলে এটা আমাদের ব্রেইন চাইল্ড। সংস্কার যেটুকু হয়েছে সেখানে একমত হয়েছে সব রাজনৈতিক দলগুলো অবশ্যই সেটা হ্যাঁতে আছি। যেগুলো আমরা একমত হইনি সেগুলো ঢুকিয়ে দিয়েছো তারপরেও আমরা কিন্তু মেনে নিয়েছি। ঠিক আছে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে।