১৮ এপ্রিল ২০২৬, শনিবার, ০৫:৫৪:১৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার পেলেন সেই শিক্ষিকা মাহেরীন চৌধুরী আজ ১৭ এপ্রিল, ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস টাইম ম্যাগাজিনে বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খালেদা জিয়া সহ দেশের ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও পাঁচ প্রতিষ্ঠানকে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬’ পদক প্রদান যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েল নিয়ে জনমত বদলাচ্ছে টেক্সাসে পাঠ্যক্রমে ইসলাম ও সংখ্যালঘু ইতিহাস পরিবর্তন ঘিরে তীব্র বিতর্ক ট্রাম্প অ্যাকাউন্টস : চার মিলিয়নের বেশি শিশু নিবন্ধিত নিউ ইয়র্কে ২-কে চাইল্ড কেয়ার হবে পূর্ণ দিবস ও বছরব্যাপী ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থীদের ডিপোর্টেশন ঠেকানোর রায় দেওয়ায় দুই অভিবাসন বিচারককে বরখাস্তের অভিযোগ ইমিগ্রেশন আপিল বোর্ডে মাহমুদ খলিলের আপিল খারিজ


বাংলাদেশ ভারত শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক হওয়া উচিত
খন্দকার সালেক
  • আপডেট করা হয়েছে : ১৪-০১-২০২৬
বাংলাদেশ ভারত শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক হওয়া উচিত


সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে, পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে সান শান্তিপূর্ণ সহঅবস্থান। ভারত বিরোধিতা বা ভারত তোষণ কোনোটাই কাম্য নয়।

মুখে ভারত বিরোধিতা, ভারতকে টুকরো করে ফেলার ফাঁকা হুঙ্কার, এটা মোটেও সুখকর বাক্য নয়। বিশাল এক রাষ্ট্রের পাশে ক্ষুদ্র বাংলাদেশ। সবদিক থেকেই বাংলাদেশের সামর্থ খুবই কম। এমন প্রতিবেশীর সঙ্গে সুখকর সম্পর্ক রাখাই শ্রেয় সর্বক্ষণ। 

ভারত থেকে চাল, পেঁয়াজ, আলু, মরিচ, তেল, মসলা কিছু দিন না এলেই হাহাকার পড়ে বাংলাদেশে। ভৌগোলিক কারণেই বাংলাদেশ নানাভাবেই ভারতনির্ভর, এটাই স্বাভাবিক। এখানে অন্য কোনো কিছুর গন্ধ খুঁজতে যাওয়াই বোকামি। এমনকি সস্তা জনপ্রিয়তার যে সকল রাজনৈতিক প্রকাশ্যে ভারত বিরোধী হুঙ্কার ছাড়ে তারাও গোপনে ভারতের আশীর্বাদ লাভের জন্য ধরনা দেয়। স্বাভাবিকভাবেই একটি স্বাধীন দেশের মানুষ পার্শ্ববর্তী ভারতের কোনো রকমের দাদাগিরিকে মেনে নেয় না। কিন্তু ভারত বাংলাদেশ বর্তমান শীতল সম্পর্কের জন্য বাংলাদেশের রাজনীতিবিদরা দায়ী। বাংলাদেশের কিছু অর্বাচীন তরুণ অ্যাকটিভিস্টদের কথা বলছি না, বলছি সব প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলোকে। দীর্ঘ মেয়াদে ভারতের সঙ্গে বৈরী সম্পর্ক বাংলাদেশের সংকট ঘনীভূত করবে।

বাংলাদেশের অধিকাংশ নদী ভারতে উৎপন্ন হয়ে বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে। আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী উজান এবং ভাটির দেশের মধ্যে পানির সুষম বণ্টন স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরেও সুরাহা হয়নি ভারতের একগুঁয়েমি আর বাংলাদেশের নতজানু ভূমিকার কারণে। দুপক্ষের অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ নিয়ে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় বাংলাদেশ থাকে দুর্বল। ২০২৬ সালে শেষ হবে গঙ্গা চুক্তি। অবিলম্বে চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো না হলে সংকটে পড়বে বাংলাদেশ। পরিণতি বিবেচনা না করেই একতরফাভাবে বাংলাদেশ সরকার ভারত-বাংলাদেশের সড়ক, রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার অনেক চলমান প্রকল্প বাতিল করেছে। 

অন্তর্বর্তী সরকার দুদেশের শক্তি সামর্থ্যরে পার্থক্য বিবেচনা না করেই ভারতের সেভেন সিস্টার বিচ্ছিন্ন করার হুমকি দিয়েছে। অথচ বাস্তবতা হলো বাংলাদেশের উচিত সুসম্পর্ক বজায় রাখা।

শেষ বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে ভারতের উগ্রবাদী গোষ্ঠীর কাছে সরকার নতি স্বীকার করে আইপিএল থেকে বাংলাদেশ ক্রিকেট তারকা মোস্তাফিজকে অপমান করে বিদায় দেওয়ায়। জানি না, ভারতকে কেন এ মুহূর্তে এমনটি করতে হলো। বাংলাদেশ এমন অবস্থায় কোন ভরসায় জাতীয় দলকে ভারতে টি২০ বিশ্বকাপ খেলতে পাঠাবে? আর যদি শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ টি ২০ বিশ্বকাপ বর্জন করতে বাধ্য হয় সেটি ভারত বাংলাদেশ কারো জন্যই শুভ হবে না।

বল এখন ভারতের এবং আইসিসির কোর্টে। আইসিসি কখনই ভারতের স্বার্থের বাইরে গিয়ে কাজ করেনি এটা সর্বজন স্বীকৃত। ফলে ভারত যদি মনে করে যে তাদের জন্য বাংলাদেশ না গেলে ক্ষতি, তাহলে সেটা তারা হতে দেবে না। তবে মনে হচ্ছে, আশা করি সব পক্ষের মুখরক্ষা হয় এমন একটি সিদ্ধান্তই হবে এক্ষেত্রে। 

দুই প্রতিবেশী আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে বিদ্যমান সব সমস্যার সমাধান করুক সেটি প্রত্যাশা বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের।

শেয়ার করুন