১৫ জানুয়ারী ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ০৭:২১:৫৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ইমাম নিহতের ঘটনায় টার্নারের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ গঠন ম্যানহাটনে মুসলিম মহিলাকে ছুরিকাঘাত, আলবার্টকে ১১ বছরের কারাদণ্ড যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন কর্মকর্তার গুলিতে নারী নিহত, প্রতিবাদে হাজারো মানুষের বিক্ষোভ ট্রাম্পের কড়াকড়িতে অভিবাসী শ্রমিক কমলেও যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শ্রমিকদের বেকারত্ব বেড়েছে ওয়াশিংটনের ন‍্যাশনাল প্রেসক্লাবে বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে সভা মধ্যবর্তী নির্বাচন পরিচালনার নিয়ম বদলাতে মরিয়া ট্রাম্প জামায়াতের সাথে মার্কিন প্রতিনিধিদের বৈঠক নিয়ে নানা গুঞ্জন এক বাসায় অনেক পোস্টাল ব্যালটের ভিডিও ভাইরাল, ব্যবস্থা চায় বিএনপি বাংলাদেশ গাজার জন্য ট্রাম্প প্রস্তাবিত বাহিনীতে থাকতে চায় বাংলাদেশের সঙ্গেও ক্রিকেটে ভারতীদের ভূ-রাজনীতি


অনেক ভুলত্রুটি তবু শেখ হাসিনার বিকল্প নেই
খন্দকার সালেক
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৬-০৯-২০২৩
অনেক ভুলত্রুটি তবু শেখ হাসিনার বিকল্প নেই ছাত্রলীগের সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা


দল নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ করেই এ কথা-দেশীয় ও বিশ্ব পরিস্থিতির নানা চ্যালেঞ্জ কৌশলে মোকাবিলা করে বাংলাদেশের আজকের বর্তমান উন্নয়ন এবং অবস্থান কোনোভাবেই বঙ্গবন্ধুকন্যার সাহসী ও দূরদর্শী নেতৃত্ব ছাড়া সম্ভব হতো না। পরিস্থিতির কারণেই হয়তো নানা অশুভ মহলের সঙ্গে কিছুটা নমনীয় থাকতে হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রভাবশালী প্রতিবেশী ভারতকে অনেক ক্ষেত্রে ছাড় দিতে হয়েছে। শীর্ষ দুর্নীতিবাজ এবং লুটেরাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু ভেবে দেখুন, কি ছিল পরিবেশ ২০০২-২০০৬ পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত সরকারের দুঃশাসনের পরিস্থিতি। দেশ দুর্নীতি, সন্ত্রাসের ছিল অভয় অরণ্য। জ্বালানি, বিদ্যুৎ সংকটে অর্থনীতি ছিল বিপর্যস্ত। পাঁচ বার ক্রমাগত দেশ দুর্নীতিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি খাদ্যসংকট ছিল। প্রতিবেশী ভারতের সন্ত্রাসীদের বাংলাদেশে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশকে হুমকিতে ফেলা হয়েছিল।

ওই পরিস্থিতিতে ওয়ান-ইলেভেনের পর নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় এসে হাসিনা সরকার শুধু জ্বালানি, বিদ্যুৎ পরিস্থিতি, খাদ্যসংকট, সন্ত্রাস নির্মূল করেনি একই সঙ্গে দেশব্যাপী যাতায়াতব্যবস্থা উন্নত করেছে, প্রতিবেশী ভারতকে সামাল দিয়ে চীন, রাশিয়া, জাপান, কোরিয়া, পশ্চিমা দেশগুলোকে বাংলাদেশের উন্নয়নে সম্পৃক্ত রেখেছে। বাংলাদেশ কোভিড-১৯ মতো গ্লোবাল সংকট ভালোভাবে সামাল দিয়েছে। একই সঙ্গে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড, জেল হত্যাকাণ্ড, বিডিআর হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া অনেকটাই সম্পাদন করেছেন। 

আমি বলবো না সরকার সবকিছুই সঠিকভাবে সম্পাদন করতে পেরেছে। সামরিক-বেসামরিক আমলা এবং দূরভিসন্ধিমূলক ব্যবসায়ীদের এক অংশকে প্রাধান্য দেওয়ার কারণে দুর্নীতির ব্যাপক প্রসার রোধে সরকার সফল হয়নি। নিজ দলের কিছু অসাধু মন্ত্রী-সাংসদদের কারসাজিতে দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মুদ্রা পাচার হয়ে গেছে। নিজ দেশের জ্বালানি সম্পদ আহরণ এবং উন্নয়ন না করে ভুল পরামর্শে জ্বালানি আমদানির দিকে ধাবিত হয়ে জ্বালানি নিরাপত্তা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এতদসত্ত্বেও শুধু প্রধানমন্ত্রীর একক দৃঢ়তার কারণে অনেক মেগা প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়িত হওয়ায় বাংলাদেশ এখন দক্ষিণ এশিয়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার উন্নয়ন মোহনায় পরিণত হয়েছে। কেউ স্বীকার করুক বা নাই করুক এগুলো সম্ভব হয়েছে ২০০৯-২০২৩ ক্রমাগত তিন টার্ম সরকারের ধারাবাহিকতা বজায় থাকায়। তবে এ কথাও অনিবার্য ২০১৪ এবং ২০১৮ নির্বাচন নিয়ে অনেক বিতর্ক আছে। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাসমূহ, দুর্নীতি দমন সংস্থার অনেক কাজ বিতর্কিত সন্দেহ নেই। সরকারি দল ও অঙ্গ সংগঠনের অনেক নেতাকর্মী দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছে। 

আসছে নির্বাচন। পশ্চিমা পরাশক্তিসহ অনেক বিদেশি সংগঠন বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে অতিউৎসাহী হয়ে পড়েছে। বিরোধীদলগুলো শুধু না, সরকারি দল নির্লজ্জের মতো নিজেদের সমস্যাগুলো নিজেদের মধ্যে সমাধান না করে বিদেশিদের কাছে নিয়ে যাচ্ছে। নির্বাচনকে ঘিরে অচলাবস্থা সৃষ্টি হবে বলে মনে হচ্ছে না। দেশজুড়ে সরকারপ্রধানের বিপুল জনপ্রিয়তা রয়েছে। বাংলাদেশিদের স্মৃতিশক্তি অনেকটা জেলি মাছের মতো হলেও বিএনপি-জামায়াত সরকারের দুঃশাসনের কথা এখনো ভোলার কথা না। আমি মনে করি, স্বচ্ছ নির্বাচনে শাসক দলের অসুবিধা হওয়ার কথা না। এখনো সময় আছে কিছু কার্যকরি ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে নিত্যপণ্যের দ্রব্যমূল্য সাধারণ জনসাধারণের সাধ্যের সীমানায় যেতে পারে। 

২০০৯-২০২৩ পর্যন্ত সম্পাদিত ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজগুলোর কীভাবে কি ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে সেগুলো জনগণকে জানাতে হবে। একই সঙ্গে দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত কিছু মন্ত্রী, সাংসদ, সরকারঘনিষ্ঠ আমলাদের অপসারণ করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। নিজেদের সংশোধন করে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনে গেলে আওয়ামী লীগের শঙ্কার কিছু নেই। 

২০২৪-২০২৮ গোটা বিশ্বের মতো বাংলাদেশের জন্য সংকট সময়। অর্থনৈতিক সংকট ঘনীভূত হচ্ছে, জ্বালানিসংকট সহসা কাটবে না। বাংলাদেশকে ডলার সংকট মোকাবিলা করে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হবে। রফতানি বহুমুখী করতে হবে, প্রবাসী শ্রমিকদের প্রশিক্ষিত করে রেমিট্যান্স বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে পরস্পরবিরোধী পরাশক্তিদের বাংলাদেশের উন্নয়নে সম্পৃক্ত রাখতে হবে।

ভেবে দেখুন, এই কাজে বিকল্প কে আছে বাংলাদেশের। তবে অনেক সংশোধন হতে হবে সরকারি দলের। মেধাকে প্রাধান্য দিতে হবে, সঠিক পেশাদারদের সঠিক স্থানে নিয়োজিত করে কাজ করার স্বাধীনতা দিতে হবে-এ কথা আর বলার কী!

শেয়ার করুন