০২ জুন ২০২৬, মঙ্গলবার, ০৬:১৯:৪৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আজ ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী অ্যাডভান্সড প্যানক্রিয়াটিক ক্যানসার চিকিৎসায় যুগান্তকারী অগ্রগতি ইসলামবিদ্বেষী গ্রাফিতি ঘিরে মুসলিম কম্যুনিটিতে আতঙ্ক যুক্তরাষ্ট্রে মর্টগেজ সুদের হার ৯ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ ইসরায়েল ডে প্যারেড বর্জনের ঘোষণা জোহরান মামদানির ওজনপার্ক মসজিদ আল-আমানের নতুন কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠিত ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিতেই চলবে ভিসা ও অভিবাসন ব্যবস্থা, বললেন রুবিও নিউইয়র্কে ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য এক্সেলসিয়র স্কলারশিপ আবেদন শুরু ৪ লাখ সাশ্রয়ী আবাসনের পরিকল্পনা ঘোষণা মেয়রের উপকূলের ১৯ জেলার প্রাণ-প্রকৃতি ঝুঁকিতে


যুক্তরাষ্ট্রের ২৪৭তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৫-০৭-২০২৩
যুক্তরাষ্ট্রের ২৪৭তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন স্বাধীনতা দিবসে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট বাইডেন


গত ৪ জুলাই ছিলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২৪৭তম স্বাধীনতা দিবস। পুরো যুক্তরাষ্ট্রব্যাপী এই দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হয়। আমেরিকারদের পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশীরাও যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস পলন করেছেন। তারা দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। ছিলো বারবাকিউ পার্টি, আলোচনা সভা এবং সন্ধ্যার সময় আতশবাজিতে অংশগ্রহণ। অন্যান্য বারের মত এবারো মেসির পক্ষ থেকে আতশবাজির ব্যবস্থা করেন। আতশবাজি দেখার জন্য সকাল থেকেই লোকজন কাছের পার্কগুলোতে অবস্থান নেন। সন্ধ্যার পরই শুরু হয় আতশবাজি। আতশবাজি শেষে সবাই বাসায় ফিরে আসেন। বাসায় এসেও অনেকে পার্টির আয়োজকন করেন। জানা গেছে, হাজার হাজার মানুষ আতশবাজি অবলোকন করেন।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসে কুচকাওয়াজ, আতশবাজি এবং হোয়াইট হাউসে বারবিকিউ পার্টির আয়োজন করা হয়। গত ৪ জুলাই মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন হোয়াইট হাউসে বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে স্বাধীনতা দিবসের ছুটি উদযাপন করছেন। প্রেসিডেন্ট এবং ফার্স্ট লেডি ন্যাশনাল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশনের সাথে একটি ইভেন্টে অংশ নেন এবং এরপর বারবিকিউ পার্টিতে সেনা পরিবারদের আমন্ত্রণ জানান। হোয়াইট হাউসের সেবক, সামরিক এবং সাবেক সেনা পরিবারদের সাথে ছুটির দিনটি উদযাপন করার পর বাইডেন সন্ধ্যায় বক্তব্য প্রদান করেন। হোয়াইট হাউস ইভেন্টটি ন্যাশনাল মলে ওয়াশিংটনের আতশবাজি দেখার জন্য একটি উপযুক্ত স্থান।

ইউএস ক্যাপিটলের সামনে বার্ষিক স্বাধীনতা দিবসের কনসার্ট অনুষ্ঠিত হয়। টেলিভিশনে এটি দেখানো হয়। এই বছরের পারফরমারদের মধ্যে ছিলো শিকাগো, বেবিফেস, ন্যাশনাল সিম্ফোনি অর্কেস্ট্রা এবং ইউএস আর্মি ব্যান্ড। মঙ্গলবার ওয়াশিংটনের কন্সটিটিউশন এভিনিউ-এ স্বাধীনতা দিবসের ঐতিহ্যবাহী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়।

ফোর্থ অফ জুলাইয়ের ইতিহাস এবং ঐতিহ্য

ফোর্থ অফ জুলাইয়ের গোড়ায় রয়েছে আমেরিকানত্ব, যার মধ্যে আছে প্যারেড, খোলা জায়গায় রান্না এবং পার্টি, ঠান্ডা বিয়ার আর অবশ্যই আতশবাজি। ছুটির দিনটি সেকেন্ড কন্টিনেন্টাল কংগ্রেসের সর্বসম্মতভাবে ১৭৭৬ সালের ৪ জুলাইয়ে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র গ্রহণকে উদযাপন করে। এই দলিল গ্রেট ব্রিটেন থেকে উপনিবেশগুলোর বিচ্ছিন্নতা ঘোষণা করে।

লাইব্রেরি অফ কংগ্রেস অনুসারে, এর এক বছর পরে ফিলাডেলফিয়ার একটি স্বতঃস্ফূর্ত উদযাপন আমেরিকান স্বাধীনতার বার্ষিকীকে চিহ্নিত করেছিল। কিন্তু ১৮১২ সালের যুদ্ধের শেষ পর্যন্ত দেশ জুড়ে এটি সাধারণভাবে পালিত হয়নি। এরপর এটি ক্রমশ ব্যাপকভাবে পালিত হতে শুরু করে। কংগ্রেসের লাইব্রেরি থেকে জানা যায়, ১৯ শতকের প্রধান ঐতিহাসিক ঘটনাগুলো, যেমন এরি খাল এবং বাল্টিমোরের জন্য যুগান্তকারী অনুষ্ঠান এবং ওহাইও রেলপথ- এগুলোর উদযাপন ফোর্থ অফ জুলাই উৎসবের সাথে মিলিত হয়।

শুরু থেকেই স্বাধীনতা দিবসের বড় একটি অংশ ছিল পাইরোটেকনিকের প্রদর্শনী। আমেরিকা একটি জাতিরাষ্ট্র হওয়ার কয়েক শতাব্দী আগে থেকেই আতশবাজি ছিল। আমেরিকান পাইরোটেকনিক্স অ্যাসোসিয়েশন বলে, অনেক ইতিহাসবিদ বিশ্বাস করেন, আতশবাজি প্রথম ফুটানো হয়েছিল খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় শতাব্দীতে। প্রাচীন চীনে বাঁশের ডালপালা আগুনে নিক্ষেপ করা হতো, ফাঁপা বাতাসের পকেট অতিরিক্ত উত্তপ্ত হওয়ার সাথে সাথে বিস্ফোরণ ঘটতো। জর্জ ওয়াশিংটন থেকে জো বাইডেন পর্যন্ত প্রেসিডেন্টরা জুলাইয়ের ৪ তারিখে জাতিরাষ্ট্রের জন্ম উদযাপন করেছেন; ব্যতিক্রম ছিলেন শুধুমাত্র একজনঃ অ্যাডামস।

গত দুই দশক ধরে ভোক্তা পর্যায়ে আতশবাজি বিক্রি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। আমেরিকান পাইরোটেকনিক্স এসোসিয়েশনের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০০০ সালে আমেরিকান ভোক্তারা আতশবাজিতে ৪০ কোটি ৭০ লাখ ডলার খরচ করেছে। ২০২২ সালের মধ্যে সংখ্যাটি বেড়ে ২৩০ কোটিতে দাঁড়িয়েছে। কোভিড-১৯ মহামারির সময় সবচেয়ে বড় বৃদ্ধি ঘটে যখন কিনা জনসমাবেশে আতশবাজি ফুটানো বন্ধ করে দেয়া হয়। ভোক্তা পর্যায়ে বিক্রয় ২০১৯ সালে ১০০ কোটি ডলার থেকে ২০২০ সালে ১৯০ কোটি ডলারে উন্নীত হয়।

ব্যাপক সচেতনতা প্রচেষ্টা সত্ত্বেও হাজার হাজার আমেরিকান প্রতি বছর আতশবাজির কারণে আহত হয়। ইউএস কনজিউমার প্রোডাক্ট সেফটি কমিশন তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, ২০২২ সালে ১০ হাজার ২০০ মানুষকে ইমার্জেন্সি রুমে চিকিৎসা করা হয়েছিল এবং ১১ জনের মৃত্যুর জন্য আতশবাজিকে দায়ী করা হয়েছিল। প্রায় তিন-চতুর্থাংশ আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে ৪ জুলাইয়ের কাছাকাছি সময়ে।

শেয়ার করুন