বিদেশি শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী এবং বিদেশি সাংবাদিকদের জন্য ভিসানীতি আরও কঠোর করছে যুক্তরাষ্ট্র। গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দেশটির ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) এ-সংক্রান্ত চূড়ান্ত বিধিমালা প্রকাশ করে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের এফ (এফ) এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচির জে (জে) ভিসার মেয়াদ সর্বোচ্চ চার বছর হবে। বর্তমানে এসব ভিসা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বা কর্মসূচির পুরো সময়ের জন্য কার্যকর থাকে।
অন্যদিকে বিদেশি সাংবাদিকদের আই (আই) ভিসার মেয়াদ সর্বোচ্চ ২৪০ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে চীনা সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে এ মেয়াদ হবে মাত্র ৯০ দিন।
নতুন বিধিমালা ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশের ৬০ দিন পর কার্যকর হবে। তবে এর আগে কংগ্রেসে পর্যালোচনার সুযোগ থাকবে।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ক্ষমতায় আসার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিবাসন নীতি কঠোর করেন। এর অংশ হিসেবে প্রশাসন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও বৈধ অভিবাসীদের ওপর নজরদারি বাড়িয়েছে এবং মতাদর্শগত কারণে অনেক শিক্ষার্থীর ভিসা ও গ্রিন কার্ড বাতিল করেছে।
নতুন নিয়মে ভিসার মেয়াদ শেষ হলে প্রয়োজন অনুযায়ী মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করা যাবে। তবে স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীরা কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া শিক্ষা কর্মসূচি পরিবর্তন বা অন্য প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর হতে পারবেন না। পাশাপাশি পড়াশোনা বা প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগের জন্য আগে যেখানে ৬০ দিন সময় পাওয়া যেত, এখন তা কমিয়ে ৩০ দিন করা হয়েছে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপকে ‘বৈষম্যমূলক’ বলে আখ্যা দিয়েছে। পাশাপাশি চীনা সাংবাদিকদের জন্য নতুন ভিসানীতি অবিলম্বে প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে। বেইজিংয়ের দাবি, এ সিদ্ধান্ত ২০২১ সালে দুই দেশের মধ্যে গণমাধ্যমসংক্রান্ত সমঝোতার লঙ্ঘন এবং এতে যুক্তরাষ্ট্রে চীনা সংবাদমাধ্যমের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হবে। একই সঙ্গে প্রয়োজন হলে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছে বেইজিং।
সমালোচকরা বলছেন, নতুন বিধিমালা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য নতুন বাধা তৈরি করবে। সাবেক ডিএইচএস কর্মকর্তা ডগ র্যান্ড বলেন, অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানানোর পক্ষে। কিন্তু নতুন নিয়ম তার বিপরীত বার্তা দিচ্ছে।
ডিএইচএস জানিয়েছে, ২০২৪ সালে ১৮ লাখের বেশি বিদেশি স্টুডেন্ট ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১১ শতাংশ বেশি। একই অর্থবছরে পাঁচ লাখের বেশি সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচির অংশগ্রহণকারী এবং ৩৭ হাজার ৩০০ জন বিদেশি সাংবাদিককে ভিসা দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটির দাবি, এ ধরনের ভিসাধারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ায় তাদের কার্যক্রম তদারকি করা কঠিন হয়ে পড়ছে। সূত্র: রয়টার্স