৬ জুন ২০২৬, শুক্রবার, ০২:০৭:৫৬ পূর্বাহ্ন


মহাদুর্যোগ ঘনিয়ে আসছে : প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য
সালেক সুফী
  • আপডেট করা হয়েছে : ১০-০৬-২০২৬
মহাদুর্যোগ ঘনিয়ে আসছে : প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য বাংলাদেশে হাম মহামারী ও জ্বালানি সঙ্কট


ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট মধ্যপ্রাচ্যে সংকটের কারণে সৃষ্ট বৈষয়িক জ্বালানি সংকট, বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক সংকট একই সঙ্গে দেশে বিদ্যমান হাম, ডেঙ্গু সংক্রমণ সবকিছু সমন্বিত হয়ে মহাদুর্যোগ ঘনিয়ে আসছে বাংলাদেশে। এে তো ক্ষয়িষ্ণু অর্থনীতি, ভীতিকর মুদ্রাস্ফীতির কারণে দ্রব্যমূলের উর্ধগতি নিয়ে অস্বস্থিতে জনগণ। এরই মাঝে রাজনৈতিক বিভাজন, অশুভ সিন্ডিকেটগুলোর দৌরাত্মে হিমশিম খাচ্ছে নতুন সরকার। পাশের বাড়ির তথা প্রভাবশালী প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে বিরাজমান শীতল সম্পর্ক সর্বোচ্চ পর্যায়ে কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে নিরসন জরুরি। একই সঙ্গে বৈদেশিক নীতিতে ভারসাম্য, প্রতিরক্ষা নীতি সংস্কার করে সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি। এগুলো যদি সব ঠিকঠাক মত করতে হয়, তাহলে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজন রাজনৈতিক বিভাজন দূর করে ন্যূনতম কর্মসূচির ভিত্তিতে সুদৃঢ় জাতীয় ঐক্য। দেশ যখন মহাসংকটের মুখে তখন স্থূল বিষয় নিয়ে বাহাস আর বিতর্ক করে কাল ক্ষেপণ করলে সংকট ঘনীভূত হবে। অথচ দেখা যায়, প্রতিটি সংকট মুহূর্তে সরকারের মন্ত্রীরা পতিত আওয়ামী সরকারের ঘাড়ে দায় চাপানোর চেষ্টা করেই যাচ্ছে। জ্বালানি সংকটের বর্তমান অবস্থার জন্য নিঃসন্দেহে পূর্ববর্তী সব সরকারের ভুলনীতি কৌশল নিঃসন্দেহে দায়ী। সরকার এখন উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে দেওয়ার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে সবাইকে নিয়ে সমন্বিত কার্যক্রম হাতে নেওয়া উচিত।

বাস্তবতার নিরিখে চারিদিক থেকে পরিবেষ্টিত ভারতের সঙ্গে পায়ে পাড়া দিয়ে শীতল সম্পর্ক সৃষ্টি কিছুতেই সুবিবেচনা প্রসূত হবে না। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ভারতের সঙ্গে সংঘাত পূর্ণ স্থাপন করে বাংলাদেশ স্বস্তিতে থাকতে পারবে না। বলছি না ভারতের সঙ্গে নতজানু থাকতে। কিন্তু বিচক্ষণতার সহজে কূটনৈতিক কৌশলে জনগণকে সাথে নিয়ে এগুতে হবে নিঃসন্দেহে। ভারত অবশ্যই আন্তর্জাতিক নীতির প্রতি ভ্রূকুটি করেই পুশ ব্যাক প্রবণতায় মেতেছে। বাংলাদেশ সরকারকে এখন পর্যন্ত নিস্পৃহ মনে হচ্ছে। অবিলম্বে বিষয়টি নিয়ে শীর্ষ পর্যায়ে কূটনৈতিক যোগাযোগ অত্যাবশ্যক। পদ্মা নদীর পানি বন্টন চুক্তি নবায়ন, তিস্তাসহ সকল অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন চুক্তি নিয়েও জরুরি ভিত্তিতে আলোচনা প্রয়োজন। এই সকল আলোচনায় অবশ্যই ট্রানজিট প্রসঙ্গ আসবে। ভারতকে এড়িয়ে পাকিস্তান বা কোন দেশের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক স্থাপন সুফল বয়ে আনবে না।

জানিনা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তির জন্য বাংলাদেশ চীন, রাশিয়া বা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিরোধে জড়ানো কোনো দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি করতে পারবে কি না। ইতিমধ্যেই চুক্তির ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশ অত্যাধিক মূল্যে জ্বালানি আমদানি করে অর্থনীতিকে চাপে ফেলেছে। সুযোগ সন্ধানী আমলাদের পরামর্শে বিদ্যুৎ জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি করে জনগণকে বিপদে ফেলেছে। শত বাধা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগ সরকার কিন্তু বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া, জাপান, কোরিয়াসহ সকল দেশকে এবং উন্নয়ন সহযোগীদের দেশের উন্নয়নে সম্পৃক্ত রেখেছিল। ব্যর্থতা ছিল অপশাসন আর দুর্নীতি। নতুন সরকার কিন্তু একই ভাবে সুযোগসন্ধানী আমলা চক্রের খপ্পড়ে পড়ে গেছে কি না সেটা খুঁজে দেখা প্রয়োজন। 

শেষ কথা 

দেশে যখন নানা কারণে মহা দুর্যোগ ঘনিয়ে আসছে তখন রাজনৈতিক বিভাজন বজায় রেখে এবং ভারসাম্যপূর্ণ বৈদেশিক নীতি কৌশল অবলম্বনের পথ ভ্রষ্ট হলে সরকার নিজের বিপদ ডেকে আনছে।

সরকার জ্বালানি দামবৃদ্ধি করে ইতিমধ্যে মানুষের রোষানলে পড়তে শুরু করেছে। দ্রব্যমূল্যের ক্রমাগত উর্দ্ধগতি নাভিশ্বাস বাড়িয়েই তুলছে। ভাঙা যায়নি সিন্ডিকেট। কৃষক পাচ্ছেনা ন্যায্যমূল্য। মানুষের ক্রয় ক্ষমতাও দিন দিন হ্রাস পচ্ছে। সর্বশেষ কুরবানির জন্য তৈরি করা পশুর মধ্যে প্রায় ২৫ লাখ পশু অবিক্রিত রয়ে গেছে। সেগুলো নিয়ে খামাড়িরা অস্বস্থিতে বাড়ি ফিরেছেন। বহু মানুষ প্রত্যাশিতভাবে কুরবানী দিতে পারেননি। গার্মেন্টস সেক্টরে সমস্যা বেড়েই চলছে। বায়াররা আগ্রহ হারাচ্ছেন। বড় বড় শিল্প মালিকরা চাকরিচ্যুত করছেন শত হাজার কর্মী। বেকার হচ্ছে শ্রমিক। বাজারের নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য আকাশঁেছায়া। সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষ ভালো নেই। সরকার বিভিন্ন কার্ড প্রদান করলেও সেটা সবে শুরু। পর্যায়ক্রমে এ সুফল পাবে। যারা পেয়েছেন তারা কিছুটা স্বস্থিতে। বাকি কোটি কোটি নিন্মমধ্যবিত্ত, হত দরিদ্র, মধ্যবিত্তদের ত্রাহি অবস্থা। ফলে এসব বিবেচনা করে সব ক্ষেত্রেই সঠিক সিদ্ধান্ত দিয়ে এগুলো প্রয়োজন। এর বাইরেও প্রয়োজন বাংলাদেশ প্রথম নীতি বজায় রেখে সব স্টেকহোল্ডাদের সম্পৃক্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ। নতুবা সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা তীব্র থেকে তীব্রতর আকার ধারণ করলে নতুন সরকারের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। 

শেয়ার করুন