নতুন প্রজন্ম
তারেক জিয়া নেতৃত্বে বিএনপি জোট সরকারের বয়স সবে ১০০ দিন পেরিয়েছে। এখনো সময় আছে ড. মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বের অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থ নেতৃত্বে বেপথু জেনজি নেতৃত্বকে সঠিক পথে ফিরিয়ে এনে তরুণদের উদ্ভাবনী শক্তিতে সমাজ সচেতনতা বৃদ্ধি আর তৃণমূল পর্যায়ে দেশের উন্নয়নে কাজে লাগানো। বিশ্বের অন্যানো দেশের মতো বাংলাদেশের তরুণরাও কিন্তু অত্যন্ত মেধাবী, সৃজনশীল এবং অগ্রবর্তী চিন্তাধারার অধিকারী। এ তরুণদের ক্ষমতার অংশীদার করা আর স্বল্প প্রস্তুত অবস্থায় রাজনীতি করতে উদ্বুদ্ধ করে অন্তর্বর্তী সরকার একটি বিশাল সুযোগ নষ্ট করেছে। এ সুযোগে দেশবিরোধী শক্তি তরুণদের একটি অংশকে মব সন্ত্রাসে উদ্বুদ্ধ করে মেধা বিকৃত করেছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দিয়েছে। শুধুমাত্র এই মেধার অপচয়ের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো উচিত।
আজ বাংলাদেশ সমাজের রন্দ্রে রন্দ্রে ছড়িয়ে পড়েছে আইন অমান্য করার প্রবণতা, অসহিষ্ণুতা, দুর্নীতি প্রবণতা, এর অন্যতম প্রধান কারণ তরুণ সমাজকে সঠিক পথে পরিচালিত হবার সুযোগ করে না দেওয়া। ইউনূস সরকার তরুণদের ক্ষমতার অংশদারি করে অপরিণত সময়ে তরুণদের দুর্নীতিগ্রস্ত করে অপূর্রণীয় ক্ষতি করেছে।
আমি কোনো রাজনৈতিক দলের অনুসারী নই তবে মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম হিসেবে এবং ক্রীড়াঙ্গন ঘনিষ্ঠ মানুষ হিসেবে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি বাংলাদেশের তরুণদের সুচিন্তিতভাবে দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বিশেষত সচেতনতা সৃষ্টিতে কাজে লাগানো হলে ৫ বছরের মধ্যেই সমাজের রুগ্ণ চেহারা বদলে যাবে। ঢাকাসহ মহানগরগুলোতে পাড়া-মহল্লায় তরুণ ব্রিগেড গড়ে তুলে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, পরিবেশ সচেতনতা, মশক নিধন অভিযান পরিচিত হতে পারে।
তরুণ সমাজ ছুটির দিন গুলোতে নিজ নিজ এলাকায় স্বেচ্ছাশ্রম অথবা সামান্য পারিশ্রমিকের বিনিময়ে এসব কাজে অংশগ্রহণ করতে পারে। বাংলাদেশের মানুষরা সাধারণ ভাবে জ্বালানি ব্যাবহারে খুব একটা সচেতন না। অসতর্কতার কারণে জ্বালানি দুর্ঘটনায় জানমালের ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে অহরহ।
তরুণ সমাজ পারে সবাইকে নিরাপত্তা সচেতনতা, পরিবেশ সচেতনতা এবং স্বাস্থ্য সচেতনতায় উদ্বুদ্ধ করতে। হয়তো সবার স্মরণে আছে অন্তত দুইবার স্কুল ছাত্ররা দুইবার রাস্তায় নেমে দেশের ভেঙে পড়া ট্রাফিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনেছিল। নানা উদ্যোগ নিয়েও সরকার কিন্তু সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে পারছে না। এ কাজে পরিকল্পিতভাবে তরুণদের কাজে লাগানো হলে সুফল মিলবে।
একই সঙ্গে তরুণদের সংগঠিত হয়ে নিজ নিজ এলাকায় পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযানে কাজে লাগানো হলে পরিবেশ দূষণের অভিশাপ থেকে মুক্তি মিলতে পারে। সমাজে আজ যে নারী শিশু ধর্ষণ মহামারীর রূপ নিচ্ছে সেখান থেকেও তরুণ শক্তি মুক্তির পথ দেখতে পারে।
বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দেশকে ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ স্বপ্ন দেখিয়েছেন। দলমত-নির্বিশেষে সব ধরনের তরুণদের সম্পৃক্ত করে তাদের শক্তিকে কাজে লাগানোর একটি সুর্দিষ্ট পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হলে সমাজের চেহারা পাল্টে যাবে।
ঢাকাসহ সারা দেশে খালখনন কর্মসূচি চলেছে। একই সঙ্গে তরুণদের ছুটির দিনে নিজ নিজ এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযানে সম্পৃক্ততা করা হলে, বৃক্ষরোপণ আর বৃক্ষ সংরক্ষণ কাজে সম্পৃক্ত করা হলে নগরগুলো সবুজ হয়ে উঠবে। অপরদিকে তরুণ সমাজ অবসর সময়ে একান্তভাবে ডিভাইস নির্ভর থেকে বিকৃত রুচিতে দূষিত হয়ে পড়বে না। পাড়া-মহল্লায় খেলার মাঠ, পার্কগুলোকে সুযোগ সুবিধা সৃষ্টি করে খেলাধুলা এবং সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হলে সুস্থ প্রজন্ম গড়ে উঠবে।