যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক সেনা মেজর নিদাল মালিক হাসানের মৃত্যুদণ্ড ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে কার্যকর করার অনুমোদন দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২০০৯ সালে টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে গুলির ঘটনায় ১৩ জনকে হত্যার দায়ে সামরিক আদালতে দোষী সাব্যস্ত হয়ে ২০১৩ সালে মৃত্যুদণ্ড পান হাসান। ২০০৯ সালের ৫ নভেম্বর ফোর্ট হুডের একটি সামরিক চিকিৎসা কেন্দ্রে গুলি চালান হাসান। ওই হামলায় ১২ জন সক্রিয় দায়িত্বে থাকা সেনাসদস্য এবং একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য নিহত হন। আহত হন আরও ৩২ জন। ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে সংঘটিত সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হয়।
পরে সামরিক আদালতে হাসানের বিরুদ্ধে ১৩টি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড এবং ৩২টি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাচেষ্টার অভিযোগ প্রমাণিত হয়। ২০১৩ সালের আগস্টে সামরিক জুরি তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। এরপর থেকে তিনি সামরিক কারাগারে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি হিসেবে রয়েছেন।ট্রাম্পের অনুমোদনের ফলে এখন মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে। তবে এখনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। হাসানের পক্ষ থেকে আদালতে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগও রয়েছে। ফলে প্রেসিডেন্টের অনুমোদন দেওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হচ্ছে না।
হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে ৬৫ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে এটি হবে মার্কিন সামরিক বাহিনীতে কোনো সেনাসদস্যের প্রথম মৃত্যুদণ্ড কার্যকর। সর্বশেষ ১৯৬১ সালে মার্কিন সেনাবাহিনীতে একজন সেনাসদস্যের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল। আর ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে মার্কিন সেনাবাহিনীতে সর্বশেষ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়, ১৯৪৫ সালে। সেই হিসেবে হাসানের ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে তা হবে মার্কিন সামরিক বিচারব্যবস্থায় একটি ঐতিহাসিক ঘটনা।