নিউইয়র্কে লাইসেন্স ছাড়া অনলাইন জুয়ার কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগে প্রেডিকশন মার্কেট প্ল্যাটফর্ম পলিমার্কেটের বিরুদ্ধে মামলা করেছে স্টেট। গত ২৪ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস ও গভর্নর ক্যাথি হোচুল মামলাটি ঘোষণা করেন। মামলায় পলিমার্কেটের নিউইয়র্কে কার্যক্রম বন্ধ, অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ বাজেয়াপ্ত, গ্রাহকদের ক্ষতিপূরণ এবং জরিমানা দাবি করা হয়েছে। মামলায় আসামি করা হয়েছে কিউসিএক্স এলএলসি, যা পলিমার্কেট ইউএস নামে ব্যবসা পরিচালনা করে। যুক্তরাষ্ট্রে পলিমার্কেটের কার্যক্রম শুরু হয় ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে। প্ল্যাটফর্মটিতে ব্যবহারকারীরা ক্রীড়া প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন ঘটনার ফলাফল নিয়ে অর্থের বিনিময়ে ‘প্রেডিকশন মার্কেট’-এ অংশ নিতে পারেন। নিউইয়র্ক অ্যাটর্নি জেনারেলের দফতরের তদন্তে দাবি করা হয়েছে, এসব কার্যক্রম স্টেটের আইনে জুয়ার সংজ্ঞার মধ্যে পড়ে।
নিউ ইয়র্ক স্টেটের অভিযোগ, পলিমার্কেট নিউইয়র্ক স্টেট গেমিং কমিশনের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় লাইসেন্স না নিয়েই কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ফলে লাইসেন্সপ্রাপ্ত ক্যাসিনো ও মোবাইল স্পোর্টস বেটিং প্ল্যাটফর্মের মতো রাজ্যের নির্ধারিত করও দিচ্ছে না। নিউইয়র্ক কর্মকর্তাদের মতে, জুয়া থেকে সংগৃহীত কর শিক্ষা, সুবিধাবঞ্চিত তরুণদের ক্রীড়া কর্মসূচি এবং সমস্যা-সৃষ্টিকারী জুয়া প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় অর্থায়নে ব্যবহৃত হয়। মামলায় বিশেষভাবে পলিমার্কেটের বয়স যাচাই নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। রাজ্যের অভিযোগ, ১৮ থেকে ২০ বছর বয়সী ব্যক্তিরাও প্ল্যাটফর্মে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। নিউইয়র্কে মোবাইল স্পোর্টস বেটিংয়ে অংশগ্রহণের ন্যূনতম বয়স ২১ বছর। স্টেটের দাবি, তরুণদের অনলাইন জুয়ার সংস্পর্শে আনা তাদের আর্থিক ও ব্যক্তিগত ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
অ্যাটর্নি জেনারেল জেমস বলেন, নিউইয়র্কের জুয়া-সংক্রান্ত আইন মানুষের সুরক্ষা, সমস্যা-সৃষ্টিকারী জুয়ার ক্ষতি কমানো এবং শিক্ষা ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির অর্থায়ন নিশ্চিত করার জন্য রয়েছে। গভর্নর হোচুলও বলেন, লাইসেন্সবিহীন জুয়া কার্যক্রম নিউইয়র্কবাসীকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে এবং রাজ্যে কোনো প্রতিষ্ঠান আইনের ঊর্ধ্বে নয়।মামলায় পলিমার্কেটের বিরুদ্ধে শুধু কার্যক্রম বন্ধের দাবিই নয়, অবৈধভাবে অর্জিত সব অর্থ বাজেয়াপ্ত এবং ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের অর্থ ফেরত দেওয়ার দাবিও করা হয়েছে। পাশাপাশি কোম্পানির অবৈধ কার্যক্রম থেকে অর্জিত অর্থের তিন গুণ পর্যন্ত জরিমানা চাওয়া হয়েছে।
পলিমার্কেট অবশ্য নিউইয়র্কের অভিযোগের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে। কোম্পানির প্রধান আইন কর্মকর্তা নিল কুমার বলেছেন, প্রতিষ্ঠানটি তাদের ব্যবহারকারীদের স্বার্থ রক্ষায় লড়বে। পলিমার্কেটের পক্ষ থেকে প্রেডিকশন মার্কেটকে জুয়ার পরিবর্তে একটি নিয়ন্ত্রিত আর্থিক বাজার হিসেবে দেখার অবস্থান নেওয়া হয়েছে। পলিমার্কেটকে ঘিরে নিউইয়র্কের এই মামলা বৃহত্তর একটি আইনি বিতর্কের অংশ প্রেডিকশন মার্কেটের ওপর রাজ্য সরকার নাকি ফেডারেল নিয়ন্ত্রকদের কর্তৃত্ব থাকবে। একই ধরনের বিরোধে নিউইয়র্ক এর আগে আরেকটি প্রেডিকশন মার্কেট প্ল্যাটফর্ম কালশির বিরুদ্ধেও মামলা করেছে।
এটি জুয়া নিয়ন্ত্রণে নিউইয়র্কের সাম্প্রতিক কয়েকটি পদক্ষেপেরও ধারাবাহিকতা। অ্যাটর্নি জেনারেল জেমসের দফতর এর আগে অনলাইন সুইপস্টেকস ক্যাসিনো, ক্রিপ্টো প্ল্যাটফর্ম এবং ভিডিও গেমের মাধ্যমে অবৈধ জুয়া প্রচারের অভিযোগেও ব্যবস্থা নিয়েছে। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে একটি বড় সুইপস্টেকস ক্যাসিনো অপারেটরের কাছ থেকে ৮ মিলিয়ন ডলার আদায়ের ঘোষণা দেওয়া হয়। জুলাইয়ে কালশির বিরুদ্ধে এবং এপ্রিলে কয়েনবেস ও জেমিনির বিরুদ্ধে অবৈধ জুয়া কার্যক্রমের অভিযোগে মামলা করা হয়। নিউইয়র্ক কর্তৃপক্ষ স্টেটের বাসিন্দাদের কোনো অনলাইন জুয়া প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের আগে সেটি নিউইয়র্ক স্টেট গেমিং কমিশনের অনুমোদিত কি না যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছে। সন্দেহজনক জুয়া বা প্রতারণা সম্পর্কে অ্যাটর্নি জেনারেলের দফতরে অনলাইনে অভিযোগ করা যায় এবং চাইলে অভিযোগকারীর পরিচয় গোপন রাখা যায়।