সরকারি কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও বিদেশি কূটনৈতিক কর্মকর্তা সেজে মানুষকে প্রতারণার ঘটনা বাড়ছে বলে সতর্ক করেছে ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত এ ধরনের প্রায় ৬১ হাজার অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং এসব ঘটনায় ক্ষতির পরিমাণ ১.৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি। এফবিআই জানায়, প্রতারকরা ফোন, বার্তা বা ভিডিও কলে ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ তুলে গ্রেফতার, মামলা, জরিমানা বা আদালতে হাজিরার হুমকি দেয়। জুরি ডিউটিতে অনুপস্থিত থাকা বা আদালতে হাজির না হওয়ার অভিযোগ তুলে অর্থ দাবি করাও প্রতারণার একটি প্রচলিত কৌশল। এ সময়ে জুরি ডিউটি-সংক্রান্ত ৬ হাজার ৮৩৩টি অভিযোগে প্রায় ৩৬ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে।
প্রতারকরা ড্রাইভিং লাইসেন্স, পাসপোর্ট বা পেশাগত লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে এমন দাবি করেও অর্থ চায়। এ ধরনের ৪৯৬টি অভিযোগে ৩৪৮ হাজার ডলারের বেশি ক্ষতির কথা জানিয়েছে এফবিআই। বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও বিদেশি নাগরিকদের লক্ষ্য করে বিদেশি কূটনৈতিক কর্মকর্তা বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য সাজার ঘটনাও ঘটছে। এসব ঘটনায় পাসপোর্ট বাতিল বা নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর হুমকি দেওয়া হয়।
অভিবাসন-সংক্রান্ত প্রতারণার ক্ষেত্রেও ভুয়া কর্মকর্তা, আইনজীবী ও বিচারকের পরিচয় ব্যবহার করা হচ্ছে। ফেব্রুয়ারিতে ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিবাসন বিচারক, আইনজীবী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তা সাজার অভিযোগে মামলা করে। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা ভুয়া আদালত কার্যক্রম ও আশ্রয়-সাক্ষাৎকারের আয়োজন করে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে ব্যক্তিগত তথ্য ও অর্থ নেওয়ার চেষ্টা করে।
এফবিআই জানিয়েছে, প্রতারকরা ক্রিপ্টোকারেন্সি, ব্যাংক ওয়্যার, কুরিয়ার বা প্রিপেইড কার্ডের মাধ্যমে অর্থ চাইতে পারে। প্রকৃত সরকারি কর্মকর্তা বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এসব পদ্ধতিতে অর্থ দাবি করেন না। প্রতারকরা অনেক সময় ভুক্তভোগীকে ফোনে আটকে রাখে এবং পরিবার, বন্ধু, ব্যাংক বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে কথা বলতে নিষেধ করে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে এ ধরনের প্রতারণা আরো বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠছে। এআই দিয়ে পরিচিত ব্যক্তি, সরকারি কর্মকর্তা বা প্রতিষ্ঠানের কণ্ঠস্বর ও ভিডিও নকল করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার নতুন ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এফবিআই জনগণকে অপরিচিত ব্যক্তি বা কর্মকর্তার পরিচয়ে অর্থ বা ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার প্রকৃত নম্বরে যোগাযোগ করে পরিচয় যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছে।