জাতিসংঘে বিশ্বনেতাদের সাথে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী


দেশ রিপোর্ট , আপডেট করা হয়েছে : 23-09-2026

জাতিসংঘে বিশ্বনেতাদের সাথে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশে যোগ দিয়েছেন। জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতারেসের প্রাতরাশের মাধ্যমে কর্মসূচির শুরু। এ ছাড়াও তিনি বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগে, মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্ট উজ. হুসেইন মোহামেদ লতিফ, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে হাইতির প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ে ফিস-আইসের সাথে বৈঠক করেছেন। অন্যদিকে জাতিসংঘের বিশেষ দূত জুলি বিশপ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে তার হোটেল সুইটে দেখা করেছেন। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। তাঁর ভাষণে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রা, আইনের শাসন, জবাবদিহি, বৈশ্বিক শান্তি-নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, নারী ও যুব ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকটসহ বহুমুখী আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার সংস্কার প্রাধান্য পাবে।

একইদিন বাংলাদেশের আয়োজনে মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য এবং মিডওয়াইফারি বিষয়ক সাইড ইভেন্টে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন। মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নতুন সরকারের উদ্যোগ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরার পাশাপাশি দক্ষ ও প্রশিক্ষিত ধাত্রীসেবার প্রয়োজনীয়তার উপর গুরুত্ব দেবেন। বিকাল ৫টা থেকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। নিউ ইয়র্ক সময় বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে তার ভাষণ দেয়ার সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। বিকালের অধিবেশনে ১৮ জন বক্তার মধ্যে ১১তম বক্তা হিসেবে ভাষণ দেবেন তিনি। বক্তব্যের স্বেচ্ছামূলক সময়সীমা ১৫ মিনিট। তবে অধিবেশনের কার্যক্রম অনুযায়ী সময় পরিবর্তন হতে পারে। জাতিসংঘের সাধারণ বিতর্কে এটাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম ভাষণ। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, প্রয়াত মা বেগম খালেদা জিয়ার পর জিয়ার পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসাবে জাতিসংঘে অংশগ্রহণ। এটি একটি ঐতিহাসিক এবং বিরল ঘটনা।

২৩ সেপ্টেম্বর বুধবার ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেই প্লেনকোভিচের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। জাতিসংঘ ভবনে এ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ২৪শে সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শেহবাজ শরীফের সঙ্গে বৈঠক করবেন তারেক রহমান। জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সচিবালয় ভবনের ৩৪তম তলায় এ বৈঠক হবে। একইদিন দুপুরে থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুলের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন তিনি। জাতিসংঘের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক বুথে এ বৈঠক হবে।

সফরের শেষদিন ২৫শে সেপ্টেম্বর কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স শেখ সাবাহ খালেদ আল-হামাদ আল-সাবাহর সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। এদিন তিনি অর্থনৈতিক কূটনীতিতেও ব্যস্ত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী। সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউ ইয়র্ক হোটেল থেকে জেপি মরগানের সদর দপ্তরের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে। সকাল সাড়ে ৮টা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত জেপি মরগান আয়োজিত ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতঃরাশ বৈঠক করবেন তিনি। ম্যানহাটনের ২৭০ পার্ক অ্যাভিনিউয়ে জেপি মরগানের সদর দপ্তরে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ, উৎপাদন, অবকাঠামো ও প্রযুক্তি খাতের সম্ভাবনা, দক্ষতা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং তরুণদের জন্য মানসম্পন্ন কর্মসংস্থান নিয়ে আলোচনা হবে। মেটাসহ আরও কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠকের কথা রয়েছে।

সকাল ১১টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্সের সঙ্গে বৈঠকের পর দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট প্রিন্স জায়েদ আল হুসেইনের সঙ্গে সম্ভাব্য মধ্যাহ্নভোজ বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউ ইয়র্ক হোটেলে এই বৈঠক হওয়ার কথা। সেখানে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, বৈশ্বিক প্রবণতা ও ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

দুপুরে যুক্তরাষ্ট্রে বিএনপি’র নেতাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের কর্মসূচিও রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সব কর্মসূচি শেষে ২৫শে সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্ক সময় রাত ১১টায় এমিরেটসের ইকে-২০২ ফ্লাইটে দুবাই হয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। ২৬শে সেপ্টেম্বর রাত ৮টায় দুবাই পৌঁছানোর পর ছয় ঘণ্টার যাত্রাবিরতি থাকবে। ২৭শে সেপ্টেম্বর রাত ২টায় ইকে-৫৮২ ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

জাতিসংঘ মহাসচিবের স্বাগত প্রাতরাশে অংশ নিলেন প্রধানমন্ত্রী

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্কে আগত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস আয়োজিত স্বাগত প্রাতরাশে অংশ নিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে জাতিসংঘের বিভিন্ন কর্মসূচিতে বাংলাদেশের সরকারপ্রধানের আনুষ্ঠানিক ও ব্যস্ত সফর সূচি শুরু হলো।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতারেস ২২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় জাতিসংঘ সদরদপ্তরের নর্থ ডেলিগেটস লাউঞ্জে বিশ্বনেতা ও তাঁদের জীবনসঙ্গীদের সম্মানে এই প্রাতরাশ সভার আয়োজন করেন।

প্রাতরাশের শুরুতে বিশ্বনেতারা একে একে তাদের সহধর্মিনীদের নিয়ে অনুষ্ঠান মঞ্চে ওঠেন এবং জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ও তার স্ত্রী সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও তাঁর সহধর্মিনী ডা. জুবাইদা রহমানকে নিয়ে সেই মঞ্চে ওঠে ফটোসেশনে অংশ নেন এবং আন্তোনিও গুতেরেস ও তার স্ত্রীর সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন ও ফটোসেশনে অংশ নেন।

প্রাতরাশ শেষে সকাল ৯টায় প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সদরদপ্তরের সাধারণ পরিষদ হলে অনুষ্ঠিত ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনী পর্বে যোগ দেন। এ অধিবেশনে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা উপস্থিত রয়েছেন।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় জাতিসংঘ সদরদপ্তরের ‘নর্থ ডেলিগেটস লাউঞ্জ’-এ সহধর্মিণী ডা. জোবাইদা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে তিনি এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বক্তব্য দেন।

প্রধানমন্ত্রীর সফর ইতিহাসের অংশ : মাহদী আমিন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের বার্তা তুলে ধরবেন বলে জানিয়েছেন তাঁর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি বলেন, দেশপ্রেম, আবেগ, অনুভূতি এবং আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে দেশের ভবিষ্যৎ রূপকল্প কী হওয়া উচিত, কীভাবে বাংলাদেশের স্বার্থকে সুরক্ষিত রাখতে হবে এবং কীভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করা যাবে, সেগুলো বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন যোগ দিতে নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর ২১ সেপ্টেম্বর সোমবার স্থানীয় সময় রাত ৯টায় ‘হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউ ইয়র্ক’ হোটেলের লবিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি ঐতিহাসিক সফরে নিউইয়র্কে এসেছেন। দীর্ঘদিন পর জনগণের ভোটে নির্বাচিত একটি প্রতিনিধিত্বমূলক সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি আমন্ত্রিত হয়ে এসেছেন, যা একটি ইতিহাসের অংশ।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে মাহদী আমিন বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের পক্ষে নিজেদের অবস্থান, ভিশন ও পরিকল্পনা তুলে ধরেছিলেন। ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় আজকে তাদের সন্তান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঠিক একইভাবে বাবা-মায়ের মতো দেশপ্রেমকে ধারণ করে বাংলাদেশের স্বার্থ ও অধিকারের কথা বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরবেন।

সফরে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলাদা কোনো বৈঠকের সুযোগ আছে কি না- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফরের মূল উদ্দেশ্য জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগদান। তাই আলাদা করে এ ধরনের দ্বিপাক্ষিক আলোচনার তেমন সুযোগ হবে না।’

সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি ওয়াহিদুজ্জামান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা। ২২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সকালে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে এই সাক্ষাৎ হয়েছে। সাক্ষাতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা, বিভিন্ন প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতা বৃদ্ধি, জ্বালানি সংকট প্রভৃতি বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকের পরে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এই বৈঠকটি বাংলাদেশ ও বিশ্ব ব্যাংকের সাথে যে পার্টনারশীপ এবং যে রিলেশনশীপ রয়েছে সেগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ আগামী দিনের যেসব প্রজেক্ট নিতে যাচ্ছে সেই প্রজেক্টগুলোতে বাংলাদেশ বিশ্বব্যাংকের পার্টনারশীপ ফ্রেমওয়ার্কের মধ্যে আমরা কী কী করতে পারি সেগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আলোচনার মধ্যে উঠে এসেছে যে, প্রধানমন্ত্রী যেসব কর্মসূচি নিয়েছেন যেমন ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ইত্যাদি যেসব সামাজিক কর্মসূচি নেয়া হয়েছে সেগুলো বিশ্বব্যাংকের কাছে অভিনন্দিত হয়েছে এবং এগুলোতে বিশ্বব্যাংকের সমর্থন থাকবে। বিশেষ করে ইয়াং এন্টারপ্রেনারশীপ যেসব প্রোগ্রামগুলো আছে সেখানে আমরা যে প্রোগ্রামগুলো রোলআউট করেছি ৫০% গ্র্যান্ট, ৫০% কনসেশান লোনে আগামী দিনে এই প্রোগ্রামটা কীভাবে বিশ্বব্যাংকের সাথে মিলে বড় আকারে করতে পারি তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ইয়াং ইন্টাপ্রেনারশীপ ডেভেলপমেন্ট ও তরুনদের কর্মসংস্থানের ব্যাপারে আমরা এক সাথে কাজ করব।

অভ্যন্তরীণ যে সমস্যা বাংলাদেশে তেল-গ্যাস সংকট উত্তরণের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে অর্থ মন্ত্রী বলেন, এখানে বিশ্বব্যাংকের রোল কি থাকবে তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এখানে বিশ্বব্যাংক এগিয়ে আসতে রাজি আছে। আমরা যেসব প্রকল্প গ্রহণ করেছি সেটা ঠিক রাখতে হবে। এটা যাতে সাপ্লাই চেইনের কারণে ব্যাহত না হয় সেখানে বিশ্বব্যাংক কাজ করবে তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমি জানাতে চাই সেখানে আমরা একসাথে কাজ করতে সম্মত হয়েছি, সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য। টেকসই যেসব প্রকল্প আছে সেগুলো বিশ্বব্যাংক কিভাবে দেখছে প্রশ্ন করা হলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘খুবই মনোযোগ সহকারে দেখছি বিশ্বব্যাংক। আমি তো বললাম বিশেষ করে ইয়াং এন্টারপ্রেনরশীপ ডেভলপমেন্ট এর মাধ্যমে এ্যামপ্লয়েন্ট বিষয়ক যে প্রকল্পগুলো রোলআউট করা হয়েছে এটাকে আরও বড় আকারে নেয়ার ব্যাপারে আমরা একমত হয়েছি।

এই সাক্ষাতের সময়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ও মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্টের বৈঠক

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে অবস্থানরত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে পৃথক সাইডলাইন বৈঠক করেছেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগে এবং মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্ট উজ. হুসেইন মোহামেদ লতিফ। 

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে পৃথক এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশ ও দেশ দুটির মধ্যকার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করা, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

এ সময় দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থ ও জনগণের কল্যাণে বিদ্যমান সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো আরও সম্প্রসারণের বিভিন্ন সম্ভাবনা নিয়েও মতবিনিময় করেন তারা।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সাইডলাইন বৈঠক

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে অবস্থানরত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাইডলাইন বৈঠক করেছেন হাইতির প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ে ফিস-আইমে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ ও হাইতির মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

এ সময় দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক কল্যাণে সহযোগিতা আরও জোরদার এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়েও মতবিনিময় করেন তারা।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগদান উপলক্ষে নিউইয়র্কে অবস্থানরত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূত জুলি বিশপের সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কের হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল হোটেলে প্রধানমন্ত্রীর আবাসস্থলে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। 

সাক্ষাৎকালে রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান এবং এ সমস্যা সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রোহিঙ্গাদের সম্মানজনক প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা কামনা করেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন। প্রধানমন্ত্রী, তাঁর স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলকে বহনকারী টার্কিশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটটি স্থানীয় সময় ২১ সেপ্টেম্বর সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এর আগে তাঁরা তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতি করেন।

নিউইয়র্কের বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের স্বাগত জানান জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান এবং যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম এ কথা জানান। তিনি জানান, বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রীকে ‘হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্ক’ হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। সফরকালে প্রধানমন্ত্রী সেখানেই অবস্থান করবেন।

প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে বিএনপির নেতা-কর্মী ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা ওই হোটেলের সামনে ব্যানার, পোস্টার, ফেস্টুন হাতে মিছিল-স্লোগান দিয়ে তাঁকে স্বাগত জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রী হাসিমুখে হাত নেড়ে নেতা-কর্মীদের 

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের মধ্যে জুবাইদা রহমান ছাড়া আরও আছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী; বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত; আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান; পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ও শামা ওবায়েদ ইসলাম; যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।


প্রকাশক: মঞ্জুর হোসেন

সম্পাদক: মিজানুর রহমান

House : 29, Road : 01 Sector : 02, Block :F Aftabnagar, Dhaka:1212 (Opposite China Building) E-mail : deshusdhaka@gmail.com (Advertising & News For Bangladesh)