নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে ৬৪ মিলিয়ন ডলারের মেডিকেইড জালিয়াতি ও অবৈধ ঘুষের মামলায় দুই সোশ্যাল অ্যাডাল্ট ডে কেয়ার সেন্টারের মালিক জাকিয়া খানকে ৭৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে ফেডারেল আদালত। ৯ সেপ্টেম্বর ব্রুকলিনের ফেডারেল আদালতে ইউএস ডিস্ট্রিক্ট জজ নাতাশা সি. মার্লে এ রায় দেন। আদালত তাকে ৫৬ মিলিয়ন ডলারের বেশি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পাশাপাশি জালিয়াতির অর্থ থেকে অর্জিত ৫ মিলিয়ন ডলার বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছে। এর মধ্যে তার বাড়ি থেকে জব্দ করা দুটি সম্পত্তি, নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকারও রয়েছে।
আদালতের নথি অনুযায়ী, খান ব্রুকলিনের কনি আইল্যান্ড এলাকায় হ্যাপি ফ্যামিলি সোশ্যাল অ্যাডাল্ট ডে কেয়ার সেন্টার এবং ফ্যামিলি সোশ্যাল অ্যাডাল্ট ডে কেয়ার সেন্টারের মালিক ছিলেন। পাশাপাশি রেসপনসিবল কেয়ার স্টাফিং নামে একটি হোম হেলথ কেয়ার ফিসকাল ইন্টারমিডিয়ারি এবং ট্যানউই সার্ভিসেস নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন।
২০১৭ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের জুলাই পর্যন্ত মার্কেটারদের মাধ্যমে মেডিকেইড গ্রাহকদের এসব ডে কেয়ার কেন্দ্রে ভর্তি করানো হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, গ্রাহকদের নগদ অর্থ ও অন্যান্য সুবিধা দিয়ে অবৈধভাবে কেন্দ্রে ভর্তি করা হতো এবং তাদের কাছ থেকে ভুয়া উপস্থিতির কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া হতো। বাস্তবে যেসব সেবা দেওয়ার কথা দেখিয়ে মেডিকেইডের কাছে বিল করা হয়, সেসব সেবা প্রকৃতপক্ষে দেওয়া হয়নি।
২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে হ্যাপি ফ্যামিলি ও ফ্যামিলি সোশ্যাল প্রায় ৬৪ মিলিয়ন ডলারের ভুয়া বিল মেডিকেইডে জমা দেয়। এর মধ্যে মেডিকেইড প্রায় ৫৬ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করে। তদন্তকারীদের মতে, জালিয়াতির অর্থ বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ঘুরিয়ে নগদ অর্থে রূপান্তর করা হয় এবং সেই অর্থ দিয়ে গ্রাহক ও মার্কেটারদের ঘুষ ও কিকব্যাক দেওয়া হতো।
২০২৫ সালের আগস্টে জাকিয়া খান স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতির ষড়যন্ত্র এবং যুক্তরাষ্ট্রকে প্রতারণা ও স্বাস্থ্যসেবা কিকব্যাক দেওয়ার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। মামলাটি তদন্ত করে ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ অ্যান্ড হিউম্যান সার্ভিসেসের অফিস অব ইন্সপেক্টর জেনারেল, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস এবং নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্ট। প্রসিকিউটররা বলেছেন, মেডিকেইডের অর্থ মূলত প্রবীণ ও অসহায় মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য বরাদ্দ, ব্যক্তিগত সম্পদ তৈরির জন্য নয়। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, মেডিকেইড ও অন্যান্য ফেডারেল স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচিতে প্রতারণা ঠেকাতে দেশজুড়ে তদন্ত ও মামলা আরো জোরদার করা হচ্ছে।