ঘুষ নিয়ে নাগরিকত্ব, সাবেক ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা লুকম্যান ও ওলাবি গ্রেফতার


দেশ রিপোর্ট , আপডেট করা হয়েছে : 10-09-2026

ঘুষ নিয়ে নাগরিকত্ব, সাবেক ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা লুকম্যান ও ওলাবি গ্রেফতার

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন প্রক্রিয়ায় অনিয়ম করে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে সাবেক এক জ্যেষ্ঠ ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, তিনি ও তার এক সহযোগী নাগরিকত্ব ও অভিবাসন-সংক্রান্ত সুবিধা দেওয়ার বিনিময়ে প্রায় ৯ লাখ ৬০ হাজার ডলার ঘুষ নিয়েছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, সাবেক ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেসের কর্মকর্তা লুকম্যান ওওলাবি গ্যানিউ এবং তার আর্থিক সহযোগী আদেনিয়ি আকিম সোমোয়ে টেক্সাসে বসে এই কার্যক্রম চালাতেন। তদন্তকারীরা তাদের হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা পর্যালোচনা করে কথিত ঘুষ লেনদেনের তথ্য পান।

যুক্তরাষ্ট্রের নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব টেক্সাসের অ্যাটর্নি অফিস জানায়, ঘুষ দেওয়া আবেদনকারীদের নিয়মিত প্রক্রিয়া এড়িয়ে সরাসরি গ্যানিউর কাছে পাঠানো হতো। এতে অপরাধমূলক ব্যাকগ্রাউন্ড চেকসহ অভিবাসন প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ধাপ এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। প্রসিকিউটরদের দাবি, গ্যানিউ ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেসের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ করে বিভিন্ন ফিল্ড অফিস থেকে আবেদনগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিতেন এবং দ্রুত সেগুলোর অনুমোদন দিতেন। মিনিয়াপোলিস, শার্লট ও হিউস্টনের ফিল্ড অফিস থেকে আবেদন সরিয়ে স্থানীয় সুপারভাইজারদের পাশ কাটিয়ে তিনি নিজেই সেগুলো অনুমোদন করতেন বলে অভিযোগ।

অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত গ্যানিউ জেল, ক্যাশঅ্যাপসহ বিভিন্ন মাধ্যমে আবেদনকারীদের কাছ থেকে প্রায় ৬ লাখ ৭১ হাজার ৪৩৮ ডলার গ্রহণ করেন। এর বাইরে অর্থের উৎস গোপন করার উদ্দেশ্যে প্রায় ২ লাখ ৮৭ হাজার ৮৩০ ডলার নগদ জমা দেওয়া হয় বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, সোমোয়ের মাধ্যমে প্রায় ১৭ লাখ ডলারের আর্থিক লেনদেন হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এর একটি অংশ আবেদনকারীদের কাছ থেকে ব্যাংক ট্রান্সফার, জেল ও ক্যাশঅ্যাপের মাধ্যমে আসা ঘুষের অর্থ বলে প্রসিকিউটররা দাবি করেছেন। সোমোয়ের বাইরে ৪ লাখ ৪৯ হাজার ১০ ডলার নগদ জমা দেন বলেও নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, কথিত অবৈধ আয় তাদের ঘোষিত বৈধ আয়ের তুলনায় অনেক বেশি। গ্যানিউর সরকারি বার্ষিক বেতন ছিল ৬৭ হাজার ৭৩২ ডলার। আর সোমোয়ে বৈধ বার্ষিক আয় হিসেবে মাত্র ৭ হাজার ৫০৬ ডলার দেখিয়েছিলেন। প্রসিকিউটরদের মতে, গ্যানিউ নিজেও সোমোয়ের নাগরিকত্বের আবেদন দ্রুত অনুমোদন করেন। পরে সোমোয়ের স্ত্রী ও সন্তানের আবাসনের আবেদনও অনুমোদন করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, অধিকাংশ আবেদনকারী আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের নাগরিক ছিলেন।

নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব টেক্সাসের ইউএস অ্যাটর্নি রায়ান রেবোল্ড বলেন, অর্থের বিনিময়ে অভিবাসন সুবিধা বিক্রি করা সরকারি আস্থার গুরুতর অপব্যবহার। কোনো ফেডারেল কর্মকর্তা বৈধ অভিবাসন মর্যাদার জন্য অর্থ নির্ধারণ করলে তার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, গ্যানিউ ২০২৬ সালের মার্চে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস থেকে পদত্যাগ করেন। এর কয়েক মাস পর ফেডারেল কর্তৃপক্ষ তাকে গ্রেফতার করে।

গত ২ সেপ্টেম্বর গ্যানিউ ও সোমোয়ের প্রাথমিক আদালত উপস্থিতি অনুষ্ঠিত হয়। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের প্রত্যেকের সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত ফেডারেল কারাদণ্ড এবং ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেসের তদন্ত বিভাগ, ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির ইন্সপেক্টর জেনারেল কার্যালয় এবং এফবিআইয়ের ডালাস ফিল্ড অফিস যৌথভাবে তদন্তটি পরিচালনা করে। মামলাটি পরিচালনা করছেন নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব টেক্সাসের ফ্রড বিভাগের সহকারী ইউএস অ্যাটর্নি চ্যাড মিচাম।


প্রকাশক: মঞ্জুর হোসেন

সম্পাদক: মিজানুর রহমান

House : 29, Road : 01 Sector : 02, Block :F Aftabnagar, Dhaka:1212 (Opposite China Building) E-mail : deshusdhaka@gmail.com (Advertising & News For Bangladesh)