১ লাখ ৫৩ হাজার ড্রাইভিং লাইসেন্স কালোবাজারে : তদন্তে এফবিআই


দেশ রিপোর্ট , আপডেট করা হয়েছে : 10-09-2026

১ লাখ ৫৩ হাজার ড্রাইভিং লাইসেন্স কালোবাজারে : তদন্তে এফবিআই

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার নাগরিকদের ১৫৩ মিলিয়নের বেশি ড্রাইভিং লাইসেন্সের ডিজিটাল কপি ডার্ক ওয়েবে (কালো বাজারে) বিক্রির অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)। এত বিপুলসংখ্যক লাইসেন্সের তথ্য কীভাবে সংগ্রহ বা চুরি করা হয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ডার্ক ওয়েব হলো ইন্টারনেটের এমন একটি গোপন অংশ, যা সাধারণ সার্চ ইঞ্জিনে খুঁজে পাওয়া যায় না। বিশেষ সফটওয়্যার বা নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এতে প্রবেশ করতে হয়। এখানে বৈধ গোপনীয়তাভিত্তিক কার্যক্রমের পাশাপাশি চুরি করা ব্যক্তিগত তথ্য ও পরিচয়পত্রও কেনাবেচা হতে পারে।

নেক্সাস নামে একটি ডার্ক ওয়েব সেবায় যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার ১৫৩ মিলিয়নের বেশি ড্রাইভিং লাইসেন্সের ডিজিটাল স্ক্যান বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে এফবিআইয়ের নিউ অরলিন্স ফিল্ড অফিস তদন্ত করছে। সাইবার নিরাপত্তা সাংবাদিক ব্রায়ান ক্রেবসের অনুসন্ধানে প্রথম বিষয়টি সামনে আসে। তার তথ্যমতে, নেক্সাসে ড্রাইভিং লাইসেন্সের পাশাপাশি ১০ মিলিয়নের বেশি পরিচয়পত্র, ৩ মিলিয়নের বেশি ভ্রমণ নথি এবং ৫ লাখের বেশি মেডিকেল কার্ড থাকার দাবি করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এসব নথি ১৭০ মিলিয়নের বেশি মানুষের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে দাবি করা হলেও সংখ্যাগুলো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

নেক্সাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা একটি রুশ সাইবার অপরাধ ফোরামে দাবি করেছে, তারা এক বছরের বেশি সময় ধরে নতুন তথ্য সংগ্রহ করে নিজেদের ডেটাবেসে যুক্ত করেছে। সম্ভাব্য ক্রেতাদের কেনার আগে কিছু রেকর্ড দেখার সুযোগও দেওয়া হতো বলে জানা গেছে। ক্রেবসের অনুসন্ধানে তার নিজের ভার্জিনিয়া ড্রাইভিং লাইসেন্সের স্ক্যানও নেক্সাসের ডেটাবেসে পাওয়া যায়। তার মায়ের লাইসেন্সের স্ক্যানও সেখানে ছিল বলে তিনি জানান। দুজন একই সময়ে হার্টজ থেকে গাড়ি ভাড়া নেওয়ার সময় লাইসেন্স জমা দিয়েছিলেন এবং তাদের নথির ছবির টাইমস্ট্যাম্পের মধ্যে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধান ছিল।

আরও কয়েকজন ব্যক্তি জানিয়েছেন, তাদের ড্রাইভিং লাইসেন্সের স্ক্যানও নেক্সাসে পাওয়া গেছে। কেউ কেউ গাড়ি ভাড়া নেওয়ার সময়, আবার কেউ একটি ডিসপেনসারিতে লাইসেন্স জমা দিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন। ফাঁস হওয়া নথির উৎস হিসেবে লুইজিয়ানাভিত্তিক একটি পরিচয় যাচাইকারী প্রতিষ্ঠানের নাম সামনে এসেছে। এ ঘটনায় নিউ অরলিন্সভিত্তিক আইডিস্ক্যান ডটনেট-এর নামও আলোচনায় এসেছে। প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন ব্যবসা ও প্রতিষ্ঠানের জন্য পরিচয় যাচাই সেবা দিয়ে থাকে। তবে তথ্য ফাঁসের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির সরাসরি সংশ্লিষ্টতা এখনো নিশ্চিত হয়নি।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর নেক্সাসের ডার্ক ওয়েব সেবাটি হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে যায়। ফলে এর পেছনে থাকা ব্যক্তি বা গোষ্ঠী এবং তথ্যের প্রকৃত উৎস শনাক্ত করা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।ফাঁস হওয়া তথ্যের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের ড্রাইভিং লাইসেন্সও রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এই দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।এফবিআই জানিয়েছে, তারা ঘটনাটি তদন্ত করছে। চলমান তদন্তের কারণে সংস্থাটি এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিযোগটি সত্য হলে এত বিপুলসংখ্যক পরিচয়পত্র ফাঁসের ঘটনা অত্যন্ত গুরুতর হতে পারে। এসব নথির তথ্য ব্যবহার করে পরিচয় চুরি, প্রতারণা এবং বিভিন্ন অনলাইন পরিচয় যাচাই ব্যবস্থার অপব্যবহার করা হতে পারে। এ ঘটনায় অনলাইন পরিচয় যাচাই সেবাগুলোতে মানুষের ব্যক্তিগত নথি সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও সুরক্ষার পদ্ধতি নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।


প্রকাশক: মঞ্জুর হোসেন

সম্পাদক: মিজানুর রহমান

House : 29, Road : 01 Sector : 02, Block :F Aftabnagar, Dhaka:1212 (Opposite China Building) E-mail : deshusdhaka@gmail.com (Advertising & News For Bangladesh)