যুক্তরাষ্ট্রের নিম্নআয়ের নাগরিকদের জন্য সবচেয়ে বড় ফেডারেল খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি সাপ্লিমেন্টাল নিউট্রিশন অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রাম (স্ন্যাপ)-এ সুবিধাভোগীর সংখ্যা এক বছরে ১৩ শতাংশের বেশি কমেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিলের আওতায় কাজের শর্তসহ বিভিন্ন নতুন বিধান কার্যকর হওয়ার পর প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুত এই পতন ঘটেছে। ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব এগ্রিকালচার (ইউএসডিএ)-এর প্রকাশিত প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মে মাসে স্ন্যাপ সুবিধা পেতেন ৪২.২ মিলিয়ন মানুষ। এক বছর পর, ২০২৬ সালের মে মাসে এই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৩৬.৬ মিলিয়নে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রায় ৫.৬ মিলিয়ন মানুষ স্ন্যাপ সুবিধার তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন।
স্ন্যাপ থেকে বাদপড়া ব্যক্তিদের মধ্যে এমন মানুষও রয়েছেন, যারা নতুন কঠোর যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে পারছেন না। তবে সুবিধাভোগীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর দাবি, যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও অনেকে প্রশাসনিক জটিলতা, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাগজপত্র জমা দিতে না পারা অথবা প্রয়োজনীয় নথি হাতে না থাকার কারণে সুবিধা হারাচ্ছেন। ঠিক কতজন কোন কারণে বাদ পড়েছেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
লুইজিয়ানাভিত্তিক সামাজিক নিরাপত্তা নীতি নিয়ে কাজ করা সংগঠন ইনভেস্ট ইন লুইজিয়ানার বিশ্লেষক টিয়া ফিল্ডস বলেন, তাদের পর্যবেক্ষণে অনেক মানুষ কাজের শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ার কারণে নয়, বরং প্রশাসনিক কাগজপত্রের জটিলতার কারণে স্ন্যাপ সুবিধা হারাচ্ছেন। অন্যদিকে, স্ন্যাপের কঠোর কাজের শর্তের পক্ষে থাকা রক্ষণশীল নীতিনির্ধারকেরা বলছেন, যারা কাজ করে আয় বাড়ানোর কারণে আর সরকারি সহায়তার জন্য যোগ্য থাকছেন না, তাদের সংখ্যা বাড়া অর্থনৈতিকভাবে ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত হতে পারে।
স্টেট ভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বড় পতন দেখা গেছে অ্যারিজোনায়। ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত সেখানে স্ন্যাপ সুবিধাভোগীর সংখ্যা ৫৫ শতাংশ কমেছে। এক বছরে ৪ লাখের বেশি মানুষ সুবিধা হারিয়েছেন। স্টেট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন ফেডারেল নিয়ম বাস্তবায়নের সময় অতিরিক্ত যাচাই-বাছাই, বিপুলসংখ্যক ফোনকল এবং প্রশাসনিক জটিলতার কারণে অনেক যোগ্য আবেদনকারীও সমস্যায় পড়েছেন।
কংগ্রেসনাল বাজেট অফিস (সিবিও) ফেব্রুয়ারিতে পূর্বাভাস দিয়েছিল, নতুন কাজের শর্তসহ বিভিন্ন পরিবর্তনের কারণে আগামী এক দশকে স্ন্যাপ সুবিধাভোগীর সংখ্যা কমে ২০৩৬ সালের মধ্যে ৩৪ মিলিয়নের নিচে নেমে যেতে পারে। কিন্তু বাস্তবে পতনের গতি এত দ্রুত হয়েছে যে, ২০২৬ সালের মে মাসেই সুবিধাভোগীর সংখ্যা ২০৩০ সালের জন্য করা পূর্বাভাসের কাছাকাছি চলে এসেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০২৭ সালের অক্টোবর থেকে আরেকটি বড় পরিবর্তন স্ন্যাপ ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলতে পারে। যেসব স্টেটে স্ন্যাপ সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে ভুলের হার ৬ শতাংশের বেশি হবে, সেসব রাজ্যকে কর্মসূচির ব্যয়ের একটি অংশ বহন করতে হবে। সুবিধাভোগীদের পক্ষে কাজ করা সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, অতিরিক্ত আর্থিক দায় এড়াতে কিছু স্টেট যোগ্য ব্যক্তিদের সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্ক হয়ে উঠতে পারে। তবে এ ব্যয় ভাগাভাগির নিয়ম পিছিয়ে দেওয়ার বিষয়টি কংগ্রেসে আলোচনাধীন রয়েছে।
স্ন্যাপ সুবিধা কমে যাওয়ার প্রভাব শুধু খাদ্য সহায়তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। স্ন্যাপ পাওয়া পরিবারের শিশুরা অন্যান্য যোগ্যতা পূরণ করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিনামূল্যের স্কুল লাঞ্চসহ কিছু খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির আওতায় আসতে পারে। ফলে একটি পরিবার স্ন্যাপ হারালে শিশুদের খাদ্য সহায়তার ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে। স্ন্যাপ সুবিধাভোগীর সংখ্যা কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু এলাকায় খাদ্য ব্যাংকগুলোতে চাহিদা বাড়ছে। অনেক খাদ্য ব্যাংক অতিরিক্ত অনুদান সংগ্রহ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্ন্যাপের মতো বৃহৎ কর্মসূচির ঘাটতি পুরোপুরি পূরণ করার মতো সক্ষমতা খাদ্য ব্যাংক বা স্কুলগুলোর নেই।
শেয়ার আওয়ার স্ট্রেংথের নীতি বিশ্লেষক ক্যারোলিন ভেগা বলেন, স্ন্যাপ যে পরিমাণ ও বিস্তৃত পরিসরে খাদ্য সহায়তা দেওয়ার সক্ষমতা রাখে, অন্য কোনো সংগঠন বা কর্মসূচির পক্ষে সেই ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব নয়। ফলে নতুন কাজের শর্ত ও প্রশাসনিক পরিবর্তনের কারণে স্ন্যাপ সুবিধাভোগীর সংখ্যা আরো কমে গেলে নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর খাদ্য নিরাপত্তার ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।