অভ্যন্তরীন না ভূ-রাজনৈতিক, কোন কারণে সরকারে অস্বস্তি!


সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ , আপডেট করা হয়েছে : 02-09-2026

অভ্যন্তরীন না ভূ-রাজনৈতিক, কোন কারণে সরকারে অস্বস্তি!

দীর্ঘ ১৭ বছর প্রবাস জীবন ও নির্বাসন শেষে ২০২৫ সালের ২৫শে ডিসেম্বর বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বাংলাদেশে ফিরে আসেন। দেশে ফেরার কিছুদিন পর ৯ই জানুয়ারি তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) শীর্ষ নেতৃত্বে আসেন। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে ক্ষমতায় আসেন। এ-ই তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর ছয় মাস অতিবাহিত করেছে। এরই মধ্যে দলের ভেতরের পাশাপাশি দেশের মানুষের মধ্যে নানান ধরনের অস্বস্তি ভাব ফুটে উঠছে। এই অস্বস্তির পেছনে যেমন রয়েছে আইনশৃংখলা পরিস্থিতির ক্রমাগত অবনতি আবার তেমনি আছে জ্বালানি সঙ্কট। এছাড়া তো দলের ভেতরে এক শ্রেণীর নেতাকর্মীর বাড়াবাড়ি..।

অন্যদিকে দলের ভেতরের কারো কারো অস্বস্তিকর কথাবার্তা-আচার আচরণ তো আছেই। এর পাশাপাশি ভারতের সাথে কয়েকটি ইস্যুতে টানাপোড়েন, সঙ্গে আছে ভূ-রাজনীতির নানান ধরনের হিসাব নিকাশ। যার কারণে সরকারকে এক পা এগুলে দুই পা পিছিয়ে দিচ্ছে। কিন্ত এসব ছাপিয়ে দেখা যাচ্ছে আরও অনেক কিছু গোপন বিষয়াদি, যা কেউ বলতে পারছে না, আবার কাউকে মিত্র ভেবেও জানতেও পারছে না। মোদ্দা কথা নানান ধরনের চাপা অস্বস্তি নিয়ে চলছে তারেক রহমানের সরকার। 

শুরুতেই হোঁচট

তারেক রহমানের সরকার হবে মেহনতি মানুষের সরকার গণমানুষের একটটি সুসংগঠিত দল-এমনটাই আশা করে সর্বস্তরের জনগণ, যা বিভিন্ন সময়ে প্রকাশ পেয়েছে। কিন্তু ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই পুরোনো আমলের বদঅভ্যাস সেই হাটবাজার, রাস্তাঘাট নামকরণের দুর্নামের দায়ভার এসে পড়ে তারেক রহমানের সরকারের ওপর। বগুড়ায় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের পৈতৃক বাড়ির নামে করা ‘মীরবাড়ি’ ইউনিয়ন পরিষদের বিতর্কিত নামকরণ নিয়ে দেশজুড়ে তোলাপাড় হয়ে যায়। পরে বাতিল করে পরিবর্তন করা হয়েছে। তবে বির্তক উঠার সাথে সাথে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম নিজে বাতিল করে বাহবা নিতে পারলেন না-যা সর্বত্র ছিল আলোচনরার বিষয়। শেষ মেষ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি নির্দেশনায় এটি বাতিল হয়। 

আইনশৃংখলা পরিস্থিতি এখনো ভাবাচ্ছে

এদিকে ধারাবাহিতভাবে আইন শৃংখলা পরিস্থিতির অবনতি সবাইকে ভাবাচ্ছিল, যা এখনো ভাবিয়েই যাচ্ছে। সংসদের ভেতরে বাইরে এনিয়ে দেখা দেয় চরম বির্তক। কিন্তু তারপরেও কেনো এখনো পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে বা করা যাচ্ছে না তা নিয়ে জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই। ইতোমধ্যে রংপুরে একই পরিবারের চারজনকে হত্যা নিয়ে পুরো দেশে নানান ধরনের বির্তকে জনগণ ফুসে উঠছে। আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের স্বচ্ছ ও স্বাধীন তদন্ত এবং বিচার দাবি করা হচ্ছে সর্বমহল থেকে। বিষয়টি ধীরে বিএনপি সরকারের আমলে একটি ‘সাম্প্রদায়িক রাজনীতি’র ইস্যু হয়ে গেলেও এতে সরকারের হুঁশই নেই বলে মনে হচ্ছে। সরকারের দুর্বলতার কারণে কেউ কেউ বিষয়টি যাচাই বাছাই না করে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির দিকে ঠেলে দিতে কুন্ঠা বোধ করছেন না। বলা হচ্ছে, বিএনপি তো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার বেলায় অসাম্প্রদায়িক নীতিতে অটল থাকবে বলে ক্ষমতায় বসার আগে হিন্দুসহ অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে আশ্বস্ত করেছিল। এখন কেনো উল্টো পরিস্থিতি দেখতে হবে? রাজনীতিতে এখন এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। ইতিমধ্যে রংপুরে একই পরিবারের চারজনকে হত্যা নিয়ে দেশে অন্য আবহ তৈরি হয়েও যাচ্ছে। কারো আশঙ্কা এটা নিয়ে না আবার জর্জ মিয়া নাটক না মঞ্চস্থ হয়। কেননা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে জজ মিয়া নাটক হলো ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার তদন্তকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার একটি সাজানো ও প্রহসনমূলক ঘটনা। ফলে বিষয়গুলো নিয়ে বিএনপিতেই নানান ধরনের অস্বস্তি যা বিএনপির সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিমের কন্ঠে। তিনি বলেছেন, ‘ আমাদের জন্য ঘোর অন্ধকার অপেক্ষা করছে’। গত ৩০ আগস্ট রোববার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এমন মন্তব্য করেন। সম্প্রতি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের কারণে মানুষের ভোগান্তির প্রসঙ্গ তুলে তিনি প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

মন্ত্রিপরিষদ রদবল না অস্বতি দূরে বিলম্বিত প্রচেষ্টা

বির্তক যখন এমন পর্যায়ে ঘটে গেলো মন্ত্রী পরিষদের রদবদল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত সরকারের মন্ত্রিসভায় গত ২১ আগস্ট প্রথম রদবদল আনা হয়েছে। এসময় দেখা গেলো তিনজন নতুন পূর্ণ মন্ত্রী ও দুজন প্রতিমন্ত্রী শপথ নেন। একজন প্রতিমন্ত্রীকে পূর্ণ মন্ত্রী করা হয়েছে। একই সঙ্গে একজন মন্ত্রীর দপ্তর বদল এবং আরেকজনকে মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে মন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু আইন শৃংখলা রক্ষার দায়িত্ব যার ওপর বর্তায় সেই মন্ত্রণালয় থেকে ওই মন্ত্রীকে সড়িয়ে সেখানে একজন তরুণ আস্থাভাজনকে দেওয়ার গুঞ্জন বেশ জমে উঠেছিল। কিন্তু বাস্তবে তা দেখা যায়নি বা নেওয়া সম্ভব হয়নি বলে অনেকের ধারণা। জানা গেছে, আইনশৃংখলা রক্ষা নিয়ে ব্যর্থতার দায়ভার নিয়ে তাকে সরে যেতে বলা হলেও ওই মন্ত্রী সরে যাওয়ার ব্যাপারে রাজি না হওয়াতে বেকায়দায় পড়ে যায় সরকারের শীর্ষ মহল। এদিকে আরেকজনকে মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে মন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা করা নিয়ে অনেক কথা শোনা যায়। সরকারের একজন সিনিয়র মন্ত্রীর সাথে যিনি বর্তমানে আরও উচ্চ পর্যায়ে অবস্থান করছেন তার সাথে গদিচ্যুত ও-ই মন্ত্রীর অসৌজন্যমূলক আচরণ প্রধানমন্ত্রীর কানে তোলা হয়। এনিয়ে মন্ত্রী পরিষদে বেশ কয়েকবার অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এছাড়া নিজে একসময় বাম ঘরণার হয়ে-ও বিএনপির সাথে যুগপৎ আন্দোলনে শরিক বামদের অবহেলা তুচ্ছতাচ্ছিল্য করার অভিযোগও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পর্যন্ত চলে যায়। এদিকে মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে একসময়ে বাম ঘেষা বিএনপি সেই নেতার বিরুদ্ধে অল্প সময়ে জাতীয়তবাদী ঘরণার না হয়েও বেশ কয়েকজনকে বিভিন্ন ধরনের সুযোগ সুবিধা দেওয়ার ঘটনা অনেকের কাছে দৃষ্টিকুটু ঠেকেছে। নিজের বলয়ে থাকা কাউকে কাউকে তথ্য মন্ত্রণালয়ে বড়ো ধরনের সুযোগ সুবিধা দিয়ে দেওয়ার অভিযোগ সরাসরি চলে যায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে। অন্যদিকে বেশ অল্প সময়ে একটি বিশাল শিল্প প্রতিষ্ঠানের সাথে উঠা-বসার ঘনিষ্ঠতা তৈরি করে সেখানে থেকে গণমাধ্যম কর্মীদের রাতারাতি চাকুরিচ্যুতি ও অব্যহতির ঘটনা সরকারের ওপরের মহলে নাড়া দিয়েছে। এসব বিষয় নিয়ে সরকারের ভেতরে বাইরে অস্বস্তি তৈরি হলে ছিটকে পড়েন তিনি।

বিদ্যুৎ জ্বালানি সঙ্কটা নিয়েও সরকারের অস্বস্তি

জ্বালানি সংকট দেশের ব্যবসা ও অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে উঠেছে, যা নিয়ে জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ হতাশা বাড়ছে। বলা হচ্ছে এখন শুধু এখন আর বড় শিল্পে সীমাবদ্ধ নেই। ওষুধ, টেক্সটাইল, সিরামিক, চিনি পরিশোধন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং সেবা খাতেও এর প্রভাব পড়ছে। উৎপাদন খাতের প্রবৃদ্ধি কমে ২ দশমিক ৮৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। যা আগের অর্থবছরে ছিল ৩ দশমিক ৭১ শতাংশ। গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট প্রতিদিনই তীব্র হয়ে উঠেছে। দেশের বিদ্যুৎ ঘাটতি সাড়ে ৩ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এমন কি যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ যেত না, সেখানেও লোডশেডিং দেখা দিচ্ছে। এতে করে সারা দেশের শিল্পকারখানায় প্রতিদিন ২ হাজার ৩৮৭ কোটি টাকার উৎপাদন ক্ষতি হচ্ছে যা অস্বস্তিকে প্রতিদিনই বাড়িয়ে দিচ্ছে। 

ভারত সফর নিয়েও দলের ভেতর বাইরে অস্বস্তি

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে দেশটির সাথে দ্বি-পাক্ষিক অনেক সমস্যা সমাধানের সৌহার্দ্যপূর্ণ অবস্থান ধমকে যাওয়ার সরকারের পাশাপাশি তার দলের ভেতরেও একটা গুমোট ভাব মারাত্মক দিকে টার্ন নিচ্ছে। এই সফর হলে কি না হলে-ই বা দেশের রাজনীতি কোন দিকে টার্ন নিবে তা নিয়ে বিস্তর আলোচনায় বাতাস ভারী এখন। কেউ একে সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতা তুলে ধরে সামনের দিনের কথা চিন্তা করে আতঙ্কিত হয়েছেন, ভাবছেন এই বুঝি এখনই সব গেলো ..। কারো কারো আশঙ্কা হচ্ছে ভারতের সাথে বিএনপি সরকার বড়ো ধরনের একটি বোঝাপড়া সূবর্ণ সুযোগ হয়তবা হাতছাড়া হতে চলেছে..। বিষয়গুলো নিয়ে একটি গুমোট পরিস্তিতি সবাই অস্বস্তিতে রেখে দিয়েছে। 

নেপথ্যে কি ভূ-রাজনৈতিক?

যদিও বলা হচ্ছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রস্তাবিত প্রথম ভারত সফর বিভিন্ন কূটনৈতিক ও কৌশলগত কারণে সাময়িকভাবে থমকে রয়েছে। তবে কারো কারো অভিমত দুই দেশের মধ্যকার অমীমাংসিত ইস্যু এবং কাজের ধীরগতির কারণে সফরটি চূড়ান্ত হওয়ার পথে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। কেউ কেউ মনে করেন ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এই সফর নিয়ে বিশেষ আগ্রহ থাকলেও নানা শর্ত ও কৌশলগত সমীকরণের কারণে তা পিছিয়ে যাচ্ছে। কারো কারো ধারণা সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে গত সপ্তাহে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ নামে ত্রিপক্ষীয় চুক্তিটি আঞ্চলিক রাজনীতির ক্ষেত্রে বড়ো সমস্যা তৈরি করেছে। এক্ষেত্রে ভারত হয়তবা ক্ষেপেছে বলে কারো কারো অভিমত। কিন্তু ইতোমধ্যে একটি বিষয় পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে এই ধরনের চুক্তিটি আসলে বিশ্বে একটি অন্য বার্তা দিচ্ছে। কেননা খুব গভীরভাবে দেখলে দেখা যাবে চুক্তিটি সই হয়েছে সৌদি রাজধানী রিয়াদের বদলে পবিত্র মক্কা শহরে। আবার দেখা যাচ্ছে এতে বাংলাদেশের যোগদান বা যোগদান না করার বিষয়টি এখনও আসেনি। তবে এতে বোঝা যায় এটা আসলে বিশ্ব মুসলিম উম্মার একটা আত্মরক্ষার ব্যবস্থা। আর এমনটা যে ভারত-ও বুঝেছে তা স্পষ্ট হয়েছে কেননা ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল এ প্রসঙ্গেও মুখও খুলেছেন। তবে প্রতিবারের মতো এবারেরর উত্তরও একিই ধাচের। রণধীর জয়সোয়াল বলেন, ‘আমরা সব ঘটনার ওপর ঘনিষ্ঠভাবে নজর রাখছি। বিশেষ করে, তা যদি ভারতের নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয় হয়। নিরাপত্তা সুরক্ষায় আমরা প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নিয়ে থাকি।’ তবে এই মক্কা চুক্তির কারণেই কি তারেক রহমানের ভারত সফর থমকে আছে? এনিয়ে সরকারে ভেতরে বাইরে অস্বস্তি কিংবা সম্প্রতি প্রধান মন্ত্রীর চীন সফরের পরে কি কোনো বাধা তৈরি হয়েছে? এসবের উত্তরের ব্যাপারে আমেরকিা থেকে প্রকাশিত দেশ পত্রিকার প্রতিনিধিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন কূটনীতিক বলেছেন কিছু কৌশলী কথা। এতে তিনি বলেন, মক্কা চুক্তিটি নিয়ে তিন দেশের সামরিক বাহিনী কীভাবে একসঙ্গে যুদ্ধ করবে এবং কার বিরুদ্ধে লড়বে, সে বিষয়টি পুরোপুরি অস্পষ্ট। কেননা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকে আরেক মুসলিম দেশ ইরানের বিষয়ে তাঁর প্রধান আস্থাভাজন ব্যক্তি মনে করে ফেলেছেন। এই আসিম মুনিরকে ‘প্রিয় ফিল্ড মার্শাল’ বলেও ডেকেছেন তিনি। অনদিকে তাকালে দেখা যাবে পাকিস্তাান ও সৌদি আরব-উভয় দেশই মার্কিন যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টারের ক্রেতা। একটু পেছনে ফেরলে দেখা যাবে এই যুক্তরাষ্ট্র ২০২২ সালে পাকিস্তানের কাছে তুরস্কের ৩০টি অ্যাটাক হেলিকপ্টার বিক্রি বন্ধ করে দেয়। অন্যদিকে এই চুক্তি স্বাক্ষর করা তিন প্রতিষ্ঠাতা সদস্যের রয়েছে বিশাল সামরিক একক দাপট। তুরস্কের রয়েছে সামরিক বাহিনী এবং দ্রুত বিকাশমান প্রতিরক্ষা শিল্প। পাকিস্তানের রয়েছে অত্যন্ত ক্ষিপ্র সামরিক বাহিনী। আর সৌদি আরবের রয়েছে অর্থনৈতিক শক্তি, জ্বালানিসম্পদ। এই তিন দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান আসলে কি হবে এবং হঠাৎ কোনো পরিস্থিতির উদ্ভব হলে পুরো জোট কি কি পাকিস্তানের কমান্ডে চলে যাবে? আর সেসময় সে-জোটে বাংলাদেশ কি মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত পাকিস্তানের গিনিপিগ হিসাবে ব্যবহৃত হবে? সে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে? আর এমন জোটে গিয়ে পাকিস্তান নামের ঘনিষ্ঠ মিত্র আমেরিকার কি লক্ষ্য দেশটি অর্জন করবে তা-ও বিবেচনা রাখে। কারণ অনেকেই ধারণা করে দেশ বর্তমানে মার্কিন বলয়েই আছে। অনদিকে বাংলাদেশ-ও বর্তমানে ঘোরতর মার্কিন বলয়ে পড়ে গেছে। কেননা সম্প্রতি প্রতি ক্ষেত্রে মার্কিন নির্ভরতা নিয়ে নানান ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ইতেমধ্যে দেখা গেলো ঢাকা ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার নতুন চুক্তির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে উড়োজাহাজ কেনার জন্য বিলিয়ন ডলারের চুক্তিতে সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর। অবশ্য এর বিনিময়ে আরেক খবর দিয়ে এই বলয়ের বিরুদ্ধে বিরোধীদের মুখ বন্ধ করে দেওয়ার হচ্ছে। দেখানো হচ্ছে বাংলাদেশে মাতৃ-নবজাতক-শিশুস্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী করতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে ২৪ লাখ মার্কিন ডলারের (২৯ কোটি ৩২ লাখ ৮০ হাজার টাকা) চিকিৎসা সরঞ্জাম-উপকরণ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্ককে কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলে দিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অংশীদারত্ব বজায় রাখার পাশাপাশি অন্যান্য শক্তি, বিশেষ করে ওয়াশিংটনের মিত্রদের সঙ্গে যোগাযোগের পরিধি বাড়ানোর কৌশল নিয়েছে ভারত। তাই ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যে ভারত নয় যেকোনো চুক্তিই যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপই ঠেকিয়ে দেবে কিংবা কঠোর নজরদারিতে রাখবে বলে কূটনীতিকরা মনে করেন, যা বর্তমান সরকারকে এক জটিল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে। আর একারণে সরকারের ভেতরেই মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে কোনো তাড়াহুড়ো না করার পরামর্শ দিয়েছেন। 

চীন সফরে ভারত কি অসন্তোষ্ট?

অন্যদিকে কারো মতে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চলতি বছরের জুনে যে চীন সফর করেছেন তা-নিয়ে ভারতের অসন্তোষ আছে। কিন্তু এব্যাপারে একজন কূটনীতি আমেরিকা থেকে প্রকাশিত দেশ পত্রিকার প্রতিনিধিকে বলেন, চীন সফরের কারণে বৈশ্বিক রাজনৈতিক অঙ্গনে ভারত নয়, অন্য কোনো বিশ্ব দারোগারা গোস্বা হতে পারে। কেননা সর্বশেষ কূটনীতি খবর হলো সম্প্রতি চীন সফরে গিয়ে সীমান্ত সংঘাত মেটাতে বিশেষজ্ঞ কমিটিতে যোগ দেওয়ার ব্যাপারে সম্মতি জানিয়েছেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই’র সঙ্গে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা বা এনএসএ (ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাডভাইজার) অজিত দোভালের বৈঠক হয়েছে। এ্যাবাপারে গোপন তথ্য হচ্ছে, দু’দশকের পুরনো অবস্থান থেকে সরে এসে বেজিংয়ের দাবি মেনে নিয়েছে নয়াদিল্লি। এমন তথ্যের স্বপক্ষের বক্তব্য হচ্ছে, চীনের সঙ্গে সীমান্ত সংঘাত মেটাতে নীতিতে বদল এনেছে ভারত এঅঞ্চলে কারো দাদাগিরি ঠেকাতেই। তাই ক্ষমতায় এসেই তারেক রহমানের চীন সফরে ভারত আপাতত বাকাভাবে নিচ্ছে না বলে অনেকে মনে করেন। তবে কারণে যাই হোক না কোনো তারেক রহমানের ভারত সফর তো শেষ বিচারে আটকেই আছে? এর সুরাহাই বা কি? তাহলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যিনি ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনে বর্তমানে দিল্লিতে আছে সে-ই নেত্রীর কারণেই দেশের ভেতরে বাইরে কি এমন সব ঘটনা ঘটছে? এমন ধারণা যখন কারো কারো মধ্যে তুঙ্গে, তখন বাংলাদেশে গণমাধ্যমে উঠে এসেছে অন্য খবর। সেটি হলো বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে ‘নতুন বিতর্ক এড়াতে’ ভারতের নয়াদিল্লিতে একটি সেমিনার শেষ মুহূর্তে বন্ধ করে দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। ফরেন করেসপন্ডেন্টস’ ক্লাব অব সাউথ এশিয়া (এফসিসি) আয়োজিত ওই সেমিনারে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের অংশ নেওয়ার কথা ছিল। এমন ঘটনা সরকারের একধরনের কূটনেতিক সফলতা বয়ে এনেছে বলে কারো কারো মধ্যে স্বস্তি লক্ষ্য করা গেলেও, বড়ো দাগে সেখানে খুব ভরসাও দেখতে পাচ্ছেন না কেউ কেউ। আবার দেশের ভেতের সর্বশেষ কিছু কথা বক্তব্যে কারো মনে আশা জাগাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। কেননা আগামী গ্রীষ্মে দেশে বিদ্যুতের ঘাটতি অনেকটা কমে যাবে বলে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের আশাবাদ কিংবা সন্ত্রাস দমনে সারা দেশে বিশেষ অভিযান পরিচালনার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নির্দেশকে তারা হয়তোবা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তবে সৌর শক্তির ওপর ভরসা ও দলের ছাতার নিচে থাকা সন্ত্রাসী চাঁদাবাজদের আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী আটক করে মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দিলে জনগণের ভেতরে চাপা অস্বস্তি ভাব দূর হবে কি-না সে প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে সর্বত্র। অন্যদিকে ভারতের সাথে সম্পর্কেও বিষয় হালকাভাবে ছেড়ে দিলে অস্বস্তি ভাবে খুব একটা ছেদ পড়বে না বলেও কারো কারো অভিমত।


প্রকাশক: মঞ্জুর হোসেন

সম্পাদক: মিজানুর রহমান

House : 29, Road : 01 Sector : 02, Block :F Aftabnagar, Dhaka:1212 (Opposite China Building) E-mail : deshusdhaka@gmail.com (Advertising & News For Bangladesh)