বিএনপি-আ.লীগর মধ্যে হাতাহাতি : শামীম ওসমানকে ধাওয়া


দেশ রিপোর্ট , আপডেট করা হয়েছে : 20-08-2026

বিএনপি-আ.লীগর মধ্যে হাতাহাতি : শামীম ওসমানকে ধাওয়া

যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ এবং দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে নিউইয়র্কের নানা স্থানে স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে। এদিন সিটির ব্রুকলিনে বিএনপি-আ.লীগ সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। ব্রুকলিনে আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক এমপি শামীম ওসমানকে ধাওয়া করেছে বিএনপির নেতাকর্মীরা। এ নিয়েই ব্রুকলিনে উত্তেজনা, ধাওয়া-ধাওয়া ও হাতাতির ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

জানা গেছে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী ১৫ আগস্ট সন্ধ্যায় স্থানীয় ম্যাকডোনাল্ড অ্যাভিনিউর একটি রেস্টুরেন্টে ব্রুকলিন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। অপরদিকে একই সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ব্রুকলিন বিএনপির উদ্যোগে স্থানীয় একটি মসজিদে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। আওয়ামী লীগের অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক এমপি শামীম ওসমানের আগমনের কথা শুনে বিএনপির নেতাকর্মীরা তাকে প্রতিহত করা উদ্যোগ নেয় এবং চার্চ-ম্যাকডোনাল্ড অ্যাভিনিউতে শামীম ওসমান বিরোধী নানা সেøাগান দেয়। এ সময় শামীম ওসমান স্থানীয় একটি রেস্টুরেন্টে অবস্থান করছিলেন এবং উদ্ভূত পরিস্থিতে সেখানে উপস্থিত দলীয় নেতাকর্মীদের সমানে সংক্ষেপে ‘সবাই একটু শোনেন এখানে বিএনপির লোকেরা উসকানি দিতে আসছে, বেসিক্যালি টার্গেট আমাকে করেছে। বিকজ আমি, হামিদ, বাবু আমরা কেউ এ দেশের নাগরিক না। আমরা ট্যুরিস্ট ভিসায় আসছি। যেহেতু ট্যুরিস্ট ভিসায় এসেছি, আমাদের তো কিছু করতে পারবে না, দেখা যাবে...’ এসব কথা বলেই একটি গাড়িতে উঠে দ্রুত ব্রুকলিন ত্যাগ করেন। এরপর সেখানে উপস্থিত আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দলীয় নেতাকর্মীরা ধাওয়া-ধাওয়ি ও হাতাতির ঘটনার জড়িয়ে পড়ে। পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামাল পাশা বাবুল বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী এবং দুর্নীতিবাজ শামীম ওসমান বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে এসেছেন। এখন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছে। বাংলাদেশে থাকা অবস্থায় মানুষ খুন করেছে। যে কারণে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছে। তাদের মতো সন্ত্রাসীদের কারণেই বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়েছে। এক সময় দাম্ভিকতার সঙ্গে বলেছেন, বাংলাদেশে আর কোনোদিন বিএনপি ক্ষমতায় আসতে পারবে না। আজ বাংলাদেশে কারা ক্ষমতায়? বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এখন তারেক জিয়া। আর শামীম ওসমানের মতো সন্ত্রাসীরা দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। আসলে শামীম ওসমানের মতো লোকজনই দেশের শত্রু। বাংলাদেশের ন্যায় সে এখানেও প্রতিহিংসার রাজনীতি করতে চায়। আওয়ামী লীগের এক সময় প্রকাশ্যে বলেছে, এবার খেলা হবে না, যুদ্ধ হবে। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, কীসের যুদ্ধ? কার সঙ্গে যুদ্ধ? প্রাণভয়ে পালিয়ে এসে এসব কথা বলতে লজ্জা করে না? শামীম ওসমান যেসব কথা বলছেন, তাকে দেশদ্রোহী বলা যায়। এ দেশদ্রোহী, দুর্নীতিবাজকে আমরা যেখানে পাবো, সেখানেই প্রতিহত করবো। অনেকেই বলেছেন, আমেরিকায় এসে তার রাজনীতি করার কোনো অধিকার নেই। সে দেশ এবং দলের শত্রু। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের উচিত তাকে বয়কট করা। কারণ সে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে পরিবেশ নষ্ট করছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির এক মহিলা এমপি নিউইয়র্কে একটি ঘরোয়া অনুষ্ঠানে বিএনপির নেতাদের উদ্দেশে বলেছেন, শামীম ওসমানের মতো সন্ত্রাসী, গুন্ডা ও খুনিরা কীভাবে প্রকাশ্যে যুদ্ধের কথা বলে? সে দেশ থেকে পালিয়ে এসেছে। এখানে তার রাজনীতি করার কোনো অধিকার নেই, আমাদের কেন এসব চোরদের আস্ফালন শুনতে হবে। তিনি যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতাদের শামীম ওসমানকে প্রতিহত করার আহ্বান জানান। তিনি আরো বলেন, আগামী মাসে প্রধানমন্ত্রী আসছেন আওয়ামী লীগ বিক্ষোভের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে, আশা করি যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি অতীতের মতো তা প্রতিহত করবে।


প্রকাশক: মঞ্জুর হোসেন

সম্পাদক: মিজানুর রহমান

House : 29, Road : 01 Sector : 02, Block :F Aftabnagar, Dhaka:1212 (Opposite China Building) E-mail : deshusdhaka@gmail.com (Advertising & News For Bangladesh)