নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং আওয়ামী লীগের রাজনীতি বন্ধের কারণে বাংলাদেশে জাতীয় শোক শোক দিবস পালন করা যাচ্ছে না। কিন্তু প্রবাসে রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে এ দিবসটি পালন করা হয়। বিশেষ করে নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে। জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসী একটি ব্যতিক্রমী সংগঠন। এ সংগঠনের সব মতাদর্শের মানুষ রয়েছে। রয়েছে যারা আওয়ামী লীগ করেন তারা, যারা বিএনপি করেন তারাও। এখানে মতের অমিল থাকতে পারে, কিন্তু সাংগঠনিক স্বার্থে সবাই এক এবং অভিন্ন। যে কারণে তাদের পক্ষেই সম্ভব অসম্ভবকে সম্ভব করা। হিংসা-বিদ্বেষের রাজনীতি পরিহার করে সৌহার্দ্য-সম্প্রীতির রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করা। সেই নিদর্শন তারা স্থাপন করেছেন। জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসী অন্যান্য বছরের মতো এবারও মিলিমিশে একই আমব্রেলার নিচে এসে পালন করলো জাতীয় শোক দিবস।
জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসীর উদ্যোগে গত একযুগেরও বেশি সময় ধরে শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী পালন করে আসছে। এবারও পালন করা হয় গত ১৫ আগস্ট। অনুষ্ঠানটি জ্যাকসন হাইটসের নবান্ন রেস্টুরেন্টের সামনে। সংগঠনের সভাপতি সকিল মিয়ার সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মিয়া আলম নমি ও অনুষ্ঠানের সদস্য সচিব মানুষ মিয়াজীর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও আহ্বায়ক মীর নিজামুল হক, উপদেষ্টা শাহ নেওয়াজ (প্রধান উপদেষ্টা), হারুন ভূঁইয়া, রাশেদ আহমেদ, কামরুজ্জামান কামরুল, মনসুর চৌধুরী, মো. পিয়ার, রফিক আহমেদ, ইকতারুজ্জামান রতন, মো. কবির রতন, শফিউদ্দিন মিয়া ও শাহাদাৎ হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক: মিয়া মো. দুলাল, আলমগীর হোসেন, আব্দুল হামিদ। যুগ্ম সদস্য সচিব ডিউক খান ও মো. মাহবুব রহমান, তত্ত্বাবধানে: শাহ জে. চৌধুরী প্রধান সমন্বয়কারী: বিপ্লøব সাহা, ময়নুজ্জামান চৌধুরী, প্রধান পৃষ্ঠপোষক এমএ আজিজ, আসেফ বারী টুটুল, চেয়ারম্যান: মোহাম্মদ রিদোয়ানুল হক, কো-চেয়ারম্যান সাখাওয়াত বিশ্বাস, জেড আর চৌধুরী (লিটু)ও মফিজুর রহমান, পৃষ্ঠপোষক: মইনুল ইসলাম, এটর্নি মঈন চৌধুরী, আশরাফ চৌধুরী খোকন, সোহেল গাজী, ফাহাদ সোলায়মান, নুরুল আজিম ও তারেক হাসান খান।
সহযোগিতায় ছিলেন গোল্ডেন এইজ হোম কেয়ার, এন ওয়াই হোম কেয়ার, অল কাউন্টি হোম কেয়ার, বারী হোম কেয়ার, এন ওয়াই সিনিয়র এডাল্ট ডে কেয়ার, শেখ নোমান পলাশ, কেয়ারিং ফ্রেন্ড ডিরেক্ট, এটারনাল কেয়ার সার্ভিস, ডেরা রেস্টুরেন্ট, শাহিন ভূইয়া, নুরুল আমিন বাবু, মেসবাহ আবেদীন, রূপসী চাঁদপুর ফাউন্ডেশন, সি কে (অভি), প্রিমিয়াম সুইটস, মাসুদ রানা তপন (সানম্যান), শীব দাস, রিলায়েবল হোম কেয়ার, ফার্স্ট হোম কেয়ার, আকবর হায়দার কিরন, রেজা রশীদ, দুলাল বেহেদু, আহসান হাবিব, ফরহাদ রেজা, নিলুফা শিরিন, ডা. বর্ণালী হাসান, হাসান জিলানী, এস এস ব্রোকারেজ, মো. কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া, গোলাম হাসান, রফিকুল ইসলাম, আকতারুর রহমান মামুন, রনি, আনিসুজ্জামান সবুজ, মো. নাজের উদ্দিন, সাঈদ খান, রাজু আহমেদ, জেবিবিএ, হাসান মাহমুদ সোহেল, মো. লুৎফুর রহমান চুন্নু, মো. জাহিদ, মো. আশরাফুল আজিজ, মো. জহিরুল ইসলাম, মো. আব্দুর রহিম ভূঁইয়া, মো. আবু তাহের, মো. আনোয়ার হোসেন (অনু), আহাদ ভূঁইয়া, আমিন খান জাকির, শফিকুর রহমান, আবুল ফজল দিদার, অভি (সি কে ফুড), মির্জা এম জামান, শাহ্ শহিদুল হক, মো. সোহাগ, পাটেল ব্রাদার্স, ডা. তৌহিদ শিবলী, তানভীর শাহীন।
সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন মো. মানিক বাবু, জাহিদ আলম, হুমায়ূন কবীর ঢালী, আনোয়ার মিলন, শামস জনি, শাহীন চৌধুরী, আফতাব জনি, আকরাম হোসেন বিপ্লব, মো. সায়েম উল্লাহ, মুক্তা মিয়া, গোপাল সান্যাল, জেড এ জয়, জাহাঙ্গীর এইচ মিয়া, নুরুজ্জামান সরদার, গোলাম কিবরিয়া, কামাল হোসেন রাকিব, এইচ এম ইকবাল, জাফর আহমেদ, ওয়াসীম, গনেশ কীর্তণীয়া, মো. রাদবি, শাহরিয়ার হোসেন, শোভন, আনোয়ার উদ্দিন, মহিউদ্দিন রাহুল, রেদওয়ানুর রহমান জুয়েল, জাহানারা আক্তার (লাকী), ফারহানা চৌধুরী, মনির হোসেন, শ্যামল নাথ, মতিউর রহমান ও মতিন, শিব্বির আহমেদ, মঞ্জুর চৌধুরী, মোঃ জাহিদ মিয়া, আনিসুজ্জামান সবুজ, আব্দুল হাদী রানা, বিদ্যুৎ হোসেন, হাসানুজ্জামান সাবু, ইকবাল হোসেন, মোহাম্মদ কিবরিয়া প্রমুখ।
সভাপতি সাকিল মিয়া বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কোনো দলের নয়। তাকে আমরা কোন দলের হতে দেবো না। তিনি বাংলাদেশের স্থপতি। তাকে আমাদের যথযথ সম্মান জানাতে হবে। শুধু তাকে নয় আমাদের সব জাতীয় নেতাকে সম্মান জানাতে হবে। আমরা এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে তাকে সম্মান জানিয়ে যাবো।
মীর নিজামুল হক বলেন, আমরা এ অনুষ্ঠান দীর্ঘদিন থেকেই করে আসছি। আমাদের রাজনৈতিক মতাদর্শ থাকতে পারে কিন্তু জাতীয় নেতাদের ক্ষেত্রে আমরা এক ও অভিন্ন। আমরা তাদের সম্মান করতে চাই।
মোহাম্মদ আলম নমি সবাইকে ধন্যবাদ জানান, এ অনুষ্ঠানকে স্বার্থক এবং সফল করার জন্য। তিনি বলেন, মানুষের সাহার্য এবং সহযোগিতা ছাড়া আমরা এতো বড় অনুষ্ঠান সফল করতে পারতাম না। তিনি বলেন, আমরা কয়েকটি গরু জবাই করেছি, এক হাজারের মক জায়নামাজ বিতরণ করেছি।
মামুন মিয়াজী সবাইকে ধন্যবাদ জানান, তাদের পাশে থেকে অনুষ্ঠানকে সফল করার জন্য।
অনুষ্ঠানে বিশেষ দোয়া পরিচালনা করেন মাওলানা কাজী কাইয়্যুম। আলোচনা শেষে বিতরণ করা হয় খাবার। শত শত মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে খাবার সংগ্রহ করেন।