জননিরাপত্তায় গভর্নর হোচুলের বিনিয়োগ প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার


দেশ রিপোর্ট , আপডেট করা হয়েছে : 20-08-2026

জননিরাপত্তায় গভর্নর হোচুলের বিনিয়োগ প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার

নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোচুল দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে জননিরাপত্তা জোরদারে স্টেট প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। গভর্নরের কার্যালয় জানিয়েছে, এই সময়ে রাজ্যে অপরাধের হারও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ে ২০২২ সালের একই সময়ের তুলনায় নিউইয়র্কে মোট সূচকভুক্ত অপরাধ ১০ শতাংশ কমেছে।

গভর্নর হোচুল বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই নিউইয়র্কবাসীর নিরাপত্তা তার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। বন্দুক সহিংসতা প্রতিরোধ, পাতালরেলের নিরাপত্তা, বিদ্বেষমূলক অপরাধ প্রতিরোধ, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহায়তাসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে স্টেট সরকার বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেছে।

২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২২ সালের একই সময়ের তুলনায় নিউইয়র্কে সাতটি প্রধান অপরাধের সবকটি শ্রেণিতেই অপরাধের হার কমেছে। হত্যা, ধর্ষণ, ডাকাতি ও গুরুতর হামলাসহ চার ধরনের সহিংস অপরাধ ১৫ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে বাড়িতে চুরি, সাধারণ চুরি ও মোটরযান চুরিসহ তিন ধরনের সম্পত্তি-সংক্রান্ত অপরাধ কমেছে ৯ শতাংশ।এর মধ্যে হত্যাকাণ্ড ৫৭ শতাংশ, বাড়িতে চুরি ২৮ শতাংশ এবং মোটরযান চুরি ১৯ শতাংশ কমেছে বলে স্টেট জানিয়েছে।

বন্দুক সহিংসতার ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সময়ে ২০২২ সালের একই সময়ের তুলনায় আহতসহ গুলিবর্ষণের ঘটনা ৫৭ শতাংশ কমেছে। গুলিবিদ্ধ মানুষের সংখ্যা কমেছে ৫৭ শতাংশ এবং গুলিতে মৃত্যুর ঘটনা কমেছে ৬২ শতাংশ।

গভর্নর হোচুলের কার্যালয় জানিয়েছে, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে জননিরাপত্তা কর্মসূচিতে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হয়েছে। এর মধ্যে বন্দুক সহিংসতা প্রতিরোধ কর্মসূচিতে ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম আধুনিকায়নে ২০২ মিলিয়ন ডলার এবং অন্যান্য সহায়তায় প্রায় ৫০ মিলিয়ন ডলার রয়েছে। পুলিশ সংস্থাগুলোর পুরোনো রেকর্ড ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা আধুনিকায়নের জন্য ২৫ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে। এছাড়া মামলা পরিচালনায় সহায়তার জন্য ৬৮০ মিলিয়ন ডলারের বেশি এবং প্রতিরক্ষা, কারাবন্দিত্বের বিকল্প কর্মসূচি, বিচার-পূর্ব সেবা ও পুনর্বাসন কর্মসূচির জন্য ৬৬৭ মিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় করা হয়েছে।

নিউইয়র্কের পাতালরেলের নিরাপত্তায়ও ৩০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করা হয়েছে। এর আওতায় ট্রেন ও স্টেশনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো, নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত করা এবং স্কাউট টিম মোতায়েন করা হয়েছে। স্টেটের দাবি, এর ফলে গ্রীষ্মকালীন গণপরিবহন-সংক্রান্ত অপরাধ ঐতিহাসিকভাবে নিম্ন পর্যায়ে নেমেছে।

বিদ্বেষমূলক অপরাধ মোকাবিলায় ‘সিকিউরিং কমিউনিটিজ এগেইনস্ট হেট ক্রাইমস’ কর্মসূচিতে ১৬৫ মিলিয়ন ডলার এবং খুচরা দোকানে চুরি প্রতিরোধে ১২০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হয়েছে। সীমান্ত নিরাপত্তা ও জননিরাপত্তার জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ১২ মিলিয়ন ডলার।

২০২৭ অর্থবছরের বাজেটেও জননিরাপত্তায় বড় ধরনের বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছেন হোচুল। বন্দুক সহিংসতা প্রতিরোধ কর্মসূচির জন্য ৩৫২ মিলিয়ন ডলার এবং পাতালরেল প্ল্যাটফর্ম ও ট্রেনে পুলিশ উপস্থিতি বাড়াতে ১২২ মিলিয়ন ডলার রাখা হয়েছে।বিদ্বেষমূলক অপরাধ প্রতিরোধ কর্মসূচির জন্য আরো ৩৫ মিলিয়ন ডলার এবং কাউন্টি শেরিফদের আইনশৃঙ্খলা ও সংশোধনমূলক কার্যক্রমে সহায়তার জন্য ১৪ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে।

এছাড়া ডিএনএ ও মাদক বিশ্লেষণ প্রযুক্তি আধুনিকায়নে ৬.৭ মিলিয়ন ডলার, ড্রোন প্রযুক্তি নিয়ে সমন্বিত পরিকল্পনা তৈরিতে স্টেট পুলিশের জন্য ৫ মিলিয়ন ডলার এবং ক্রাইম অ্যানালাইসিস সেন্টার নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে ৪.৫ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে। ওয়েস্টচেস্টার কাউন্টিতে নতুন একটি কেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে স্টেটজুড়ে এই নেটওয়ার্কের কার্যক্রম সম্পূর্ণ করার পরিকল্পনা রয়েছে। সম্পত্তির দলিল জালিয়াতি করে বাড়ি দখল বা ‘ডিড থেফট’ প্রতিরোধে ৪.৫ মিলিয়ন ডলার, গাড়ি চুরি মোকাবিলায় স্টেট পুলিশের অটো থেফট ইউনিট সম্প্রসারণে ২ মিলিয়ন ডলার এবং ঘরে তৈরি থ্রিডি-প্রিন্টেড বন্দুকের ঝুঁকি মোকাবিলায় একটি বিশেষ টাস্কফোর্সের জন্য ৫ লাখ ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে।

গভর্নর হোচুল বলেন, ওয়াশিংটনের সহযোগিতা থাকুক বা না থাকুক, নিউইয়র্কের জনগণকে নিরাপদ রাখতে তার প্রশাসন কাজ করে যাবে। ফেডারেল সরকারের কিছু নিরাপত্তা কর্মসূচিতে অর্থ কমানোর সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে তিনি বলেন, স্টেট সরকার নিজস্ব উদ্যোগে জননিরাপত্তায় বিনিয়োগ অব্যাহত রাখছে।স্টেট সরকারের প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অপরাধের বিভিন্ন শ্রেণিতে ধারাবাহিকভাবে কমতির পাশাপাশি বন্দুক সহিংসতায় বড় ধরনের পতন নিউইয়র্কের জননিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে এসব পরিসংখ্যান মূলত ২০২২ সালের সঙ্গে তুলনা করে উপস্থাপন করা হয়েছে। অপরাধ কমার পেছনে স্টেট সরকারের বিনিয়োগের সরাসরি কারণ-ফল সম্পর্ক এই পরিসংখ্যানে আলাদাভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।


প্রকাশক: মঞ্জুর হোসেন

সম্পাদক: মিজানুর রহমান

House : 29, Road : 01 Sector : 02, Block :F Aftabnagar, Dhaka:1212 (Opposite China Building) E-mail : deshusdhaka@gmail.com (Advertising & News For Bangladesh)