ডালাস বিমানবন্দরে ওজুখানার পরিকল্পনা বাতিল


দেশ রিপোর্ট , আপডেট করা হয়েছে : 20-08-2026

ডালাস বিমানবন্দরে ওজুখানার পরিকল্পনা বাতিল

টেক্সাসের ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (ডিএফডব্লিউ) মুসলিম যাত্রীদের ওজুখানা স্থাপনের পরিকল্পনা বাতিল করেছে। একই সময়ে টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট ডিএফডব্লিউ ও হিউস্টনের জর্জ বুশ ইন্টারকন্টিনেন্টাল বিমানবন্দরের ধর্মীয় সুবিধা নিয়ে স্টেট ও ফেডারেল পর্যায়ে তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছেন।

গত ১৪ আগস্ট অ্যাবট ঘোষণা করেন, দুই বিমানবন্দর পরিচালনাকারী সংস্থাকে দেওয়া রাজ্য সরকারের অনুদান পর্যালোচনা করা হবে। আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে বিদ্যমান অনুদান বাতিল এবং ভবিষ্যতে অর্থায়ন বন্ধ করার বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে। পাশাপাশি তিনি ডিএফডব্লিউ ও হিউস্টনের বিমানবন্দরকে তদন্তের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন বিভাগ এবং ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের কাছে পাঠিয়েছেন।

অ্যাবট অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রমালিকানাধীন বিমানবন্দরে কোনো একটি ধর্মকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া যায় না। তিনি বলেন, মুসলিমদের ওজুর জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা হলে তা ধর্মের ভিত্তিতে বৈষম্যের শামিল হতে পারে এবং স্টেট ও ফেডারেল সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। ডিএফডব্লিউ জানিয়েছে, টার্মিনাল ডির নিরাপত্তা তল্লাশির আগের অংশে ওজুর জন্য কয়েকটি বিশেষ স্টেশন স্থাপনের একটি অভ্যন্তরীণ প্রস্তাব তারা মূল্যায়ন করছিল। তবে এ নিয়ে ব্যাপক জনআলোচনা শুরুর পর বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ দ্রুত পর্যালোচনা শেষ করে এবং প্রকল্পটি বাস্তবায়ন না করার সিদ্ধান্ত নেয়। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, প্রস্তাবিত প্রকল্পটি যাত্রীসেবা, পরিচালনাগত সুবিধা, ঝুঁকি ও ব্যয় বিবেচনায় প্রত্যাশিত সুফল দিতে পারবে না। তাই এটি বাতিল করা হয়েছে।

প্রকল্পটি ৩১ জুলাই টেক্সাস ডিপার্টমেন্ট অব লাইসেন্সিং অ্যান্ড রেগুলেশনে নিবন্ধিত হয়েছিল। প্রাথমিক নথিতে ব্যয় প্রায় ৩ লাখ ডলার এবং অর্থায়ন বেসরকারিভাবে হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। পরে ডিএফডব্লিউ জানায়, নথিতে কিছু প্রশাসনিক ভুল ছিল। প্রকল্পটি অনুমোদিত হলে প্রকৃত ব্যয় প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ডলার হতে পারে এবং বিমানবন্দরের নিজস্ব অর্থেই তা করার কথা ছিল।

ডিএফডব্লিউ আরো জানায়, বিমানবন্দর পরিচালনায় সাধারণ করদাতাদের অর্থ ব্যবহার করা হয় না; পার্কিং, দোকান ও অন্যান্য বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকে অর্জিত রাজস্বের ওপর প্রতিষ্ঠানটি নির্ভর করে। এদিকে হিউস্টনের জর্জ বুশ ইন্টারকন্টিনেন্টাল বিমানবন্দরে ২০২৪ সাল থেকেই ওজুর একটি কক্ষ রয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এটিকে সব ধর্মের মানুষের ব্যবহারের উপযোগী সুবিধা হিসেবে বর্ণনা করেছে। ডিএফডব্লিউতেও ২০১৯ সাল থেকে একটি ওজুর ব্যবস্থা রয়েছে বলে জানা গেছে।

অ্যাবটের অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে মুসলিমদের নামাজের আগে হাত-পা ও শরীরের নির্দিষ্ট অংশ ধোয়ার ধর্মীয় প্রথা ওজু। তার দাবি, সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত স্থাপনায় ধর্মীয় সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে সব ধর্মের প্রতি সমান আচরণ নিশ্চিত করতে হবে।

অ্যাবটের এই পদক্ষেপের সমালোচকেরা বলছেন, বিমানবন্দরে ধর্মীয় অনুশীলনের জন্য সুবিধা দেওয়া মানেই কোনো ধর্মকে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া নয়। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বড় বিমানবন্দরেই মুসলিমদের ওজু এবং বিভিন্ন ধর্মের মানুষের প্রার্থনার জন্য আলাদা বা আন্তধর্মীয় স্থান রয়েছে। ডিএফডব্লিউর ওজু স্টেশন নিয়ে বিতর্কের মধ্যে টেক্সাসের সিনেটর ট্যান পার্কারও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি জানতে চেয়েছেন, প্রস্তাবিত প্রকল্পের জন্য বেসরকারি অনুদান গ্রহণের প্রক্রিয়া কী ছিল এবং অর্থের উৎস কোথায়।

অ্যাবটের কার্যালয় জানিয়েছে, স্টেট গভর্নমেন্টের অনুদান গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে বৈষম্যবিরোধী আইন মেনে চলার প্রত্যয়ন দিতে হয়। বিমানবন্দরগুলোর ধর্মীয় সুবিধা নিয়ে পরবর্তী তদন্ত ও তহবিল পর্যালোচনার ফল কী হবে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।


প্রকাশক: মঞ্জুর হোসেন

সম্পাদক: মিজানুর রহমান

House : 29, Road : 01 Sector : 02, Block :F Aftabnagar, Dhaka:1212 (Opposite China Building) E-mail : deshusdhaka@gmail.com (Advertising & News For Bangladesh)