তদন্তে নিউইয়র্কের ৩৮৭টি সোশ্যাল অ্যাডাল্ট ডে কেয়ার


দেশ রিপোর্ট , আপডেট করা হয়েছে : 20-08-2026

তদন্তে নিউইয়র্কের ৩৮৭টি সোশ্যাল অ্যাডাল্ট ডে কেয়ার

নিউইয়র্ক স্টেটে বয়স্কদের জন্য পরিচালিত সোশ্যাল অ্যাডাল্ট ডে কেয়ার বা এসএডিসি কেন্দ্রগুলোকে ঘিরে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে। নিউইয়র্ক স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ জানিয়েছে, ২০২১ সাল থেকে এখন পর্যন্ত পরিচালিত ৩৮৭টি সোশ্যাল অ্যাডাল্ট ডে কেয়ার কেন্দ্রকে তদন্তের জন্য রেফার করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মামলা পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। বেশির ভাগ কেন্দ্রগুলো ফ্লাশিং ও ব্রুকলিনে অবস্থিত।

তদন্তের মূল বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে মেডিকেইডের অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে কি না, সেবাগ্রহীতারা সত্যিই কেন্দ্রে উপস্থিত ছিলেন কি না এবং যেসব সেবার জন্য মেডিকেইডে অর্থ দাবি করা হয়েছে, সেগুলো বাস্তবে প্রদান করা হয়েছে কি না। তবে কোনো অ্যাডাল্ট ডে কেয়ার কেন্দ্র তদন্তের জন্য রেফার হওয়া মানেই প্রতিষ্ঠানটি জালিয়াতি করেছে এমন নয়। তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হয়।

এই তথ্য এমন সময় সামনে এসেছে, যখন নিউইয়র্কে মেডিকেইডের অর্থে পরিচালিত সোশ্যাল অ্যাডাল্ট ডে কেয়ার খাতের দ্রুত সম্প্রসারণ, বিলিং পদ্ধতি এবং কিছু প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে ফেডারেল ও স্টেট পর্যায়ে তদন্ত চলছে। বিভিন্ন অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দেখা গেছে, নিউইয়র্কে সোশ্যাল অ্যাডাল্ট ডে কেয়ার খাতে মেডিকেইড ব্যয় গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে কুইন্সের ফ্লাশিং এলাকায় এই কেন্দ্রগুলোর সংখ্যা এবং মেডিকেইডের মাধ্যমে বিল করা সদস্যের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সিবিএস নিউজের অনুসন্ধান অনুযায়ী, ফ্লাশিংয়ের মাত্র এক মাইল এলাকার মধ্যে ৬৪টি সোশ্যাল অ্যাডাল্ট ডে কেয়ার কেন্দ্র রয়েছে। ২০১৮ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ওই এলাকায় মেডিকেইড-যোগ্য বয়স্ক জনগোষ্ঠীর তুলনায় সোশ্যাল অ্যাডাল্ট ডে কেয়ারের মাধ্যমে বিল করা সদস্যের সংখ্যা অনেক দ্রুত বেড়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সময়ে স্থানীয় মেডিকেইড-যোগ্য বয়স্ক জনগোষ্ঠী প্রায় ২০ শতাংশ বাড়লেও সোশ্যাল অ্যাডাল্ট ডে কেয়ার কেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে বিল করা বয়স্ক মানুষের সংখ্যা প্রায় ৩৯০ শতাংশ বেড়েছে। এই অস্বাভাবিক ব্যবধান কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে।

নিউইয়র্ক স্টেট কম্পট্রোলার থমাস ডিনাপোলির দপ্তরও সোশ্যাল অ্যাডাল্ট ডে কেয়ার কর্মসূচির ওপর অডিট করেছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত ওই অডিটে জানুয়ারি ২০১৯ থেকে অক্টোবর ২০২৪ পর্যন্ত কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়। অডিটে কিছু প্রশ্নবিদ্ধ মেডিকেইড পেমেন্ট, নিরাপত্তাজনিত সমস্যা এবং কর্মসূচির নিয়ম মেনে চলার ক্ষেত্রে ঘাটতি পাওয়া যায়। কম্পট্রোলারের দপ্তর বয়স্ক ও ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের সেবা দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আরও শক্তিশালী তদারকির প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছে।

এর পাশাপাশি সোশ্যাল অ্যাডাল্ট ডে কেয়ারকে কেন্দ্র করে একাধিক ফেডারেল মামলাও সামনে এসেছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ কুইন্সের দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রায় ১২০ মিলিয়ন ডলারের মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড জালিয়াতির অভিযোগ আনে। অভিযোগ অনুযায়ী, সোশ্যাল অ্যাডাল্ট ডে কেয়ার কেন্দ্র এবং একটি ফার্মেসিকে ব্যবহার করে অবৈধ কিকব্যাক দেওয়া এবং সেবা না দিয়েও সরকারি কর্মসূচিতে বিল জমা দেওয়ার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছিল। তবে আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তরা আইনত নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন।

ব্রুকলিনেও প্রাইম লাইফ অ্যাডাল্ট ডে কেয়ার এলএলসি-কে ঘিরে সোশ্যাল অ্যাডাল্ট ডে কেয়ার-সংশ্লিষ্ট একটি বড় জালিয়াতির মামলায় সাজা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির মালিক প্রায় ৩ দশমিক ২ মিলিয়ন ডলারের মেডিকেইড জালিয়াতি ও অবৈধ কিকব্যাক ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত থাকার অপরাধে ৫৭ মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এই মামলায় কর্তৃপক্ষ অবৈধভাবে রোগী সংগ্রহ, কিকব্যাক এবং বাস্তবে না দেওয়া সেবার জন্য মেডিকেইডে বিল করার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়েছে।

তবে ৩৮৭টি কেন্দ্র তদন্তের জন্য রেফার করা হয়েছে, এই তথ্যের অর্থ এই নয় যে ওই সব কেন্দ্রই জালিয়াতি করেছে। কোনো প্রতিষ্ঠানকে তদন্তের জন্য রেফার করা, অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তরে মামলা পাঠানো, অভিযোগ দায়ের করা এবং আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হওয়া, এগুলো পৃথক আইনগত ধাপ। তাই নির্দিষ্ট কোনো সোশ্যাল অ্যাডাল্ট ডে কেয়ার কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা জানতে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি, আদালতের রেকর্ড বা আনুষ্ঠানিক ঘোষণার ওপর নির্ভর করা প্রয়োজন।

সোশ্যাল অ্যাডাল্ট ডে কেয়ার কেন্দ্রগুলো সাধারণত বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সামাজিক কর্মকাণ্ড, খাবার, ব্যক্তিগত সহায়তা এবং অন্যান্য সহায়ক সেবা দিয়ে থাকে। এসব সেবার একটি বড় অংশ মেডিকেইডের মাধ্যমে অর্থায়ন করা হয়। ফলে কোনো প্রতিষ্ঠানে জালিয়াতি বা অনিয়ম প্রমাণিত হলে সরকারি অর্থের অপচয় হওয়ার পাশাপাশি বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় সেবাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

নিউইয়র্ক স্বাস্থ্য বিভাগের ৩৮৭টি কেন্দ্র তদন্তে রেফার করার তথ্য, স্টেট কম্পট্রোলারের অডিট এবং সাম্প্রতিক ফেডারেল মামলাগুলো দেখিয়ে দিচ্ছে যে নিউইয়র্কে সোশ্যাল অ্যাডাল্ট ডে কেয়ার খাত এখন মেডিকেইড তদারকির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। কর্তৃপক্ষের সামনে এখন মূল চ্যালেঞ্জ হলো প্রকৃত জালিয়াতি ও অনিয়ম কঠোরভাবে বন্ধ করা, সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং একই সঙ্গে বৈধভাবে পরিচালিত কেন্দ্রগুলোর সুনাম ও অধিকার রক্ষা করা।

ফ্লাশিংয়ের লিভিং ওয়েল অ্যাডাল্ট ডে কেয়ার ছিল প্রায় ফাঁকা, তবু মিলিয়ন ডলারের বিল

নিউইয়র্কের কুইন্সের ফ্লাশিংয়ে অবস্থিত লিভিং ওয়েল অ্যাডাল্ট ডে কেয়ার নিয়ে তদন্তে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, কেন্দ্রে স্বাভাবিকভাবে রোগী বা সেবা গ্রহণকারীদের উপস্থিতি থাকার কথা থাকলেও পরিদর্শনের সময় প্রতিষ্ঠানটি প্রায় খালি অবস্থায় পাওয়া যায়। অভিযোগ রয়েছে, কার্যক্রম সীমিত বা কার্যত অনুপস্থিত থাকার পরও প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে মেডিকেডের কাছে বিপুল অঙ্কের অর্থের বিল জমা দেওয়া হয়েছে। এতে সরকারি অর্থের অপব্যবহার হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন।


প্রকাশক: মঞ্জুর হোসেন

সম্পাদক: মিজানুর রহমান

House : 29, Road : 01 Sector : 02, Block :F Aftabnagar, Dhaka:1212 (Opposite China Building) E-mail : deshusdhaka@gmail.com (Advertising & News For Bangladesh)