অভিবাসী শিশুদের আইনি সহায়তায় ৭.২৫ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ


দেশ রিপোর্ট , আপডেট করা হয়েছে : 19-08-2026

অভিবাসী শিশুদের আইনি সহায়তায় ৭.২৫ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ

নিউইয়র্কে অভিবাসন ইস্যুতে ফেডারেল সরকারের নীতির বিরুদ্ধে একসঙ্গে অবস্থান নিয়েছেন গভর্নর ক্যাথি হোচুল ও নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। অভিভাবকহীন ও একাকী যুক্তরাষ্ট্রে আসা অভিবাসী শিশুদের আইনি সহায়তা নিশ্চিত করতে নিউইয়র্ক স্টেট ৭২ লাখ ৫০ হাজার ডলার বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছে। গত ১২ আগস্ট ম্যানহাটনে গভর্নরের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হোচুলের সঙ্গে ছিলেন মেয়র মামদানি ও নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস। হোচুল বলেন, কোনো শিশুকে আইনজীবী ছাড়া অভিবাসন আদালতে নিজের পক্ষে লড়তে বাধ্য করা উচিত নয়। এটি নিউইয়র্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের মৌলিক মানবিক মূল্যবোধের পরিপন্থী বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

স্টেটের এ অর্থায়নের মাধ্যমে অভিবাসী শিশুদের জন্য আইনজীবী নিয়োগ, আদালত-সংক্রান্ত সহায়তা এবং বহিষ্কারসহ বিভিন্ন অভিবাসন মামলায় আইনি প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে। বিশেষ করে যেসব শিশু বাবা-মা বা অন্য কোনো আইনগত অভিভাবকের সহায়তা ছাড়াই আদালতের মুখোমুখি হচ্ছে, তাদের সুরক্ষাই এ উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য।

ফেডারেল সরকারের আগের আইনি সহায়তা কর্মসূচির বার্ষিক ৩৫৬ মিলিয়ন ডলার ডলারের চুক্তির মেয়াদ ৩১ জুলাই শেষ হয়ে যাওয়ার পর দেশজুড়ে উদ্বেগ দেখা দেয়। এর ফলে ২৫ হাজারের বেশি একাকী অভিবাসী শিশু আইনজীবী ছাড়াই অভিবাসন আদালতে নিজেদের মামলা পরিচালনার ঝুঁকিতে পড়েছে।

নিউইয়র্কে এ ধরনের শিশুর সংখ্যা ১ হাজার ৩০০-এর বেশি। কর্মকর্তাদের মতে, তাদের অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। ভাষাগত সীমাবদ্ধতা এবং জটিল অভিবাসন আইন সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান না থাকায় আইনজীবীর সহায়তা ছাড়া তাদের পক্ষে আদালতে নিজেদের অধিকার রক্ষা করা অত্যন্ত কঠিন।

মেয়র মামদানি বলেন, শিশুদের আইনজীবী ছাড়া অভিবাসন আদালতে পাঠানো নিউইয়র্কের মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সবচেয়ে দুর্বল ও অসহায় শিশুদের সুরক্ষা দেওয়া সরকারের দায়িত্ব বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ফেডারেল সরকার নতুন করে একটি টেক্সাসভিত্তিক আইন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আইনি সহায়তা দেওয়ার জন্য চুক্তি করলেও নিউইয়র্কের কর্মকর্তারা প্রতিষ্ঠানটির অভিবাসন আইনসংক্রান্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস বলেন, নতুন চুক্তির অর্থায়ন ও বাস্তবায়ন নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে।

মামদানি বলেন, নতুন চুক্তির আওতায় থাকা কিছু সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের অভিবাসী শিশুদের কার্যকরভাবে আইনি সুরক্ষা দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা রয়েছে কি না, তা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। এদিকে নিউইয়র্কজুড়ে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসের তৎপরতা বাড়ার মধ্যেই রাজ্যের এ উদ্যোগের ঘোষণা এসেছে। সাম্প্রতিক সময়ে অভিবাসন আইন প্রয়োগ জোরদার হওয়ায় অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগও বেড়েছে।

নিউইয়র্কের চলতি বছরের বাজেট আইনে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে আইসের দেওয়ানি অভিবাসন কার্যক্রমে সহযোগিতার ওপর নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। আইনটি ২৫ আগস্ট থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। হোচুল এ বিধানকে রাজ্যের অভিবাসন নীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তুলে ধরেছেন। তবে কয়েকটি কাউন্টির স্থানীয় কর্মকর্তা নতুন আইন মানতে আপত্তি জানিয়েছেন। রেনসেলার ও ওটসেগো কাউন্টির কর্মকর্তারা আইনটি উপেক্ষা করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। অন্য কয়েকটি কাউন্টিও রাজ্যের এই নীতির বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়ার কথা বিবেচনা করছে।

নাসাউ কাউন্টি এক্সিকিউটিভ ও রিপাবলিকান গভর্নর প্রার্থী ব্রুস ব্লেকম্যানও তার কাউন্টির ২৮৭(জি) চুক্তি নিয়ে আইনি পদক্ষেপের সম্ভাবনা বিবেচনা করছেন। তার রানিং মেট ও ম্যাডিসন কাউন্টির শেরিফ টড হুড অবশ্য আইসের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা বলেছেন। ব্লেকম্যানের সমালোচনার জবাবে হোচুল বলেন, নিউইয়র্কের আইন সবার জন্যই প্রযোজ্য এবং তা মেনে চলতে হবে। তবে অপরাধ তদন্ত ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় স্থানীয় পুলিশকে সহযোগিতা করা নিষিদ্ধ করা হচ্ছে না বলেও তিনি স্পষ্ট করেন। রাজ্যের নতুন বিধিনিষেধ মূলত দেওয়ানি অভিবাসন প্রয়োগের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

গভর্নর নির্বাচনের মাত্র কয়েক মাস আগে হোচুলের এ ঘোষণা রাজনৈতিকভাবেও তাৎপর্যপূর্ণ। নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে অভিবাসন ও অভিবাসী অধিকারকে হোচুল তার প্রচারণার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে সামনে আনছেন।

সংবাদ সম্মেলনে মামদানি প্রকাশ্যেই হোচুলের পক্ষে অবস্থান নেন। তিনি বলেন, নিউইয়র্কবাসী যদি এমন একজন নেতাকে চান, যিনি আইসের কঠোর নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে মানবিকতার পক্ষে দাঁড়াবেন, তাহলে তাদের পছন্দ হবেন গভর্নর হোচুল। আর যারা নিউইয়র্কে আরো কঠোর অভিবাসন প্রয়োগ চান, তাদের পছন্দ হবে ব্রুস ব্লেকম্যান।

হোচুল ও মামদানির যৌথ অবস্থান নিউইয়র্কের ডেমোক্রেটিক নেতৃত্বের মধ্যে অভিবাসন ইস্যুতে ঐক্যের বার্তা দিয়েছে। রাজ্য কর্মকর্তারা বলছেন, ফেডারেল অর্থায়নের অনিশ্চয়তার মধ্যে নিউইয়র্কের এই উদ্যোগ অভিভাবকহীন অভিবাসী শিশুদের আদালতে আইনি প্রতিনিধিত্ব পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


প্রকাশক: মঞ্জুর হোসেন

সম্পাদক: মিজানুর রহমান

House : 29, Road : 01 Sector : 02, Block :F Aftabnagar, Dhaka:1212 (Opposite China Building) E-mail : deshusdhaka@gmail.com (Advertising & News For Bangladesh)