যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম জনপ্রতিনিধির সংখ্যা ২২৮


দেশ রিপোর্ট , আপডেট করা হয়েছে : 19-08-2026

যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম জনপ্রতিনিধির সংখ্যা ২২৮

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্তরের সরকার ও বিচার বিভাগে মুসলিম আমেরিকানদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ছে। কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (কেয়ার ) ও কেয়ার অ্যাকশন ২০২৬ সালের নির্বাচিত মুসলিম কর্মকর্তাদের ডিরেক্টরি প্রকাশ করতে যাচ্ছে। সংগঠনটির প্রকাশিত প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, দেশের ২৬টি স্টেটে ২২৮ জন মুসলিম নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির ও বিচারক বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন।

কেয়ার এই ডিরেক্টরি যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের রাজনৈতিক ও নাগরিক অংশগ্রহণের একটি জাতীয় চিত্র তুলে ধরবে। এতে শুধু অঙ্গরাজ্য বা ফেডারেল পর্যায়ের রাজনীতিবিদ নয়, স্থানীয় সরকার, স্কুল বোর্ড, সিটি কাউন্সিল এবং নির্বাচিত বিচারকদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সংগঠনটি বলছে, ডিরেক্টরিটি মুসলিম কমিউনিটি, সাংবাদিক, গবেষক, নাগরিক সংগঠন ও নীতিনির্ধারকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসূত্র হিসেবে কাজ করবে।

নারী প্রতিনিধিত্ব ৪৩ শতাংশ

ডিরেক্টরিতে থাকা ২২৮ জনের মধ্যে ৯৮ জন বা ৪৩ শতাংশ নারী। পুরুষ রয়েছেন ১৩০ জন বা ৫৭ শতাংশ। অর্থাৎ মুসলিম নারীরাও যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিত্বে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছেন।

পদভিত্তিক হিসাবে ডিরেক্টরিতে রয়েছে ৪৪ জন স্টেট জনপ্রতিনিধি, চারজন কংগ্রেস সদস্য, ১১ জন মেয়র, ৮৭ জন সিটি কাউন্সিল সদস্য, ৫৮ জন স্কুল বোর্ড সদস্য এবং ১৭ জন নির্বাচিত বিচারক। এছাড়া অন্যান্য নির্বাচিত পদে রয়েছেন আরও সাতজন। স্টেট আইনসভায় মুসলিম প্রতিনিধিত্বের মধ্যে রয়েছেন ৩০ জন স্টেট রিপ্রেজেন্টেটিভ এবং ১৪ জন স্টেট সিনেটর। ফেডারেল পর্যায়ে বর্তমানে ইউএস হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে চারজন মুসলিম সদস্য রয়েছেন বলে ডিরেক্টরিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

নিউ জার্সিতে সবচেয়ে বেশি মুসলিম জনপ্রতিনিধি

মুসলিম নির্বাচিত কর্মকর্তার সংখ্যায় নিউ জার্সি সবার ওপরে। অঙ্গরাজ্যটিতে ৪৬ জন মুসলিম কর্মকর্তা রয়েছেন। এরপর মিশিগানে ৩৮ জন এবং ক্যালিফোর্নিয়ায় ২০ জন মুসলিম নির্বাচিত কর্মকর্তা রয়েছেন। নিউ জার্সির এই অবস্থান নতুন নয়। ২০২২ সালের কেয়ার -জেটপ্যাকের প্রথম জাতীয় ডিরেক্টরিতেও নিউ জার্সি ৪০ জন মুসলিম নির্বাচিত কর্মকর্তা নিয়ে শীর্ষে ছিল। সে সময় মিশিগানে ৩৯ জন কর্মকর্তা ছিলেন।

২৪ স্টেটে এখনো মুসলিম প্রতিনিধিত্ব শনাক্ত হয়নি

ডিরেক্টরির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো, ২৪টি অঙ্গরাজ্যে এখনো কোনো মুসলিম নির্বাচিত প্রতিনিধিত্ব শনাক্ত করা যায়নি। সিএআইআর অ্যাকশন বলছে, এই তথ্য মুসলিম কমিউনিটিগুলোর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ আরও বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।

সিএআইআর অ্যাকশনের নির্বাহী পরিচালক বাসিম এলকারা বলেন, একজন মুসলিম যখন স্কুল বোর্ড, সিটি কাউন্সিল, স্টেট আইনসভা বা অন্য কোনো সরকারি পদে দায়িত্ব নেন, তখন পরবর্তী প্রজন্মের মুসলিম নেতাদের জন্য নতুন পথ তৈরি হয়। তিনি ভোটার নিবন্ধন, কমিউনিটি সংগঠন এবং আরও মুসলিম আমেরিকানকে নির্বাচনে অংশ নিতে উৎসাহিত করার ওপর গুরুত্ব দেন।

রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান

কেয়ার বলছে, এই ডিরেক্টরি শুধু বর্তমান জনপ্রতিনিধিদের তালিকা নয়; বরং মুসলিম আমেরিকানদের নাগরিক ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণের অগ্রগতি বোঝার একটি মাধ্যম। কোন এলাকায় মুসলিম প্রতিনিধিত্ব রয়েছে, কোথায় ঘাটতি রয়েছে এবং ভবিষ্যতে কোথায় অংশগ্রহণ বাড়ানো দরকার। এসব বিষয় চিহ্নিত করতে এটি সহায়ক হবে।

সংগঠনটির গভর্নমেন্ট বিষয়ক কার্যক্রমের অন্যতম লক্ষ্যও হলো আমেরিকান মুসলিমদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ, ভোটার হিসেবে নিবন্ধন এবং নাগরিক অংশগ্রহণে উৎসাহিত করা।

ইসলামবিদ্বেষের মধ্যেও প্রতিনিধিত্ব বাড়ছে

মুসলিম রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বাড়ার পাশাপাশি দেশজুড়ে ইসলামবিদ্বেষ ও মুসলিম জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক আক্রমণ নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে মিশিগানে মুসলিম প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদের ঐতিহাসিক রাজনৈতিক সাফল্যের পর তাকে ঘিরে ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্যও প্রকাশ্যে এসেছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে মুসলিম জনপ্রতিনিধিদের সংখ্যা বৃদ্ধি দেশটির রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সিএআইআর ন্যাশনাল এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর নিহাদ আওয়াদ বলেন, কিছু ইসলামবিদ্বেষী গোষ্ঠী মুসলিম আমেরিকানদের ক্ষমতার কেন্দ্র থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করলেও ২২৮ জন মুসলিম জনসেবক প্রতিদিন প্রমাণ করছেন যে তারা আমেরিকান সমাজ ও নাগরিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সিএআইআরের ভাষ্য অনুযায়ী, শক্তিশালী রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব শক্তিশালী কমিউনিটি এবং আরও শক্তিশালী গণতন্ত্র গড়ে তুলতে সাহায্য করে।


প্রকাশক: মঞ্জুর হোসেন

সম্পাদক: মিজানুর রহমান

House : 29, Road : 01 Sector : 02, Block :F Aftabnagar, Dhaka:1212 (Opposite China Building) E-mail : deshusdhaka@gmail.com (Advertising & News For Bangladesh)