২৫ হাজার ডলার লুটের অভিযোগ, দুই বাংলাদেশি গ্রেফতার


দেশ রিপোর্ট , আপডেট করা হয়েছে : 06-08-2026

২৫ হাজার ডলার লুটের অভিযোগ, দুই বাংলাদেশি গ্রেফতার

কম্পিউটারে ভাইরাস ঢোকার ভুয়া বার্তা, এরপর ব্যাংকের নিরাপত্তা বিভাগের কর্মকর্তা পরিচয় এবং এফবিআই গ্রেফতারের ভয় দেখিয়ে এভাবেই পরিকল্পিত প্রতারণার মাধ্যমে নিউ জার্সির এক নারীর কাছ থেকে প্রায় ২৫ হাজার ডলার নগদ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দুই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যক্তির বিরুদ্ধে। নিউ জার্সির রিভারসাইড টাউনশিপ পুলিশ অভিযানে তাদেরকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন এমডি এন. ইসলাম (৪৮) এবং মোহাম্মদ জেড. ইসলাম (৫৮)। তাদের বিরুদ্ধে প্রতারণার মাধ্যমে তৃতীয় মাত্রার চুরির অভিযোগ আনা হয়েছে।

পুলিশের অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতারণার ঘটনাটি শুরু হয় একটি সাধারণ কম্পিউটার সমস্যার ভুয়া সতর্কবার্তা দিয়ে। ভুক্তভোগী নারীর কম্পিউটারের স্ক্রিনে হঠাৎ একটি পপ-আপ বার্তা আসে, যেখানে দাবি করা হয় তার কম্পিউটার ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। সমস্যা সমাধানের জন্য একটি ফোন নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়।

পুলিশ জানায়, ওই নম্বরে ফোন করার পর প্রতারকরা নিজেদের ওয়ালস ফার্গো ব্যাংকের নিরাপত্তা বিভাগের সদস্য হিসেবে পরিচয় দেয়। তারা ওই নারীকে বিশ্বাস করানোর চেষ্টা করে যে তার কম্পিউটারের ভাইরাসের কারণে তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।

এরপর শুরু হয় ভয় দেখানোর কৌশল। প্রতারকরা ওই নারীকে বলে, এই ঘটনার জন্য তিনি দায়ী এবং বিষয়টি ফেডারেল তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের কাছে যেতে পারে। এমনকি তাকে গ্রেফতার বা আইনি জটিলতার মুখোমুখি হতে হবে বলেও আতঙ্ক তৈরি করা হয়। ভয় ও আতঙ্কের মধ্যে ওই নারীকে নির্দেশ দেওয়া হয় ব্যাংক থেকে ২৫ হাজার ডলার নগদ টাকা তুলে আনতে। প্রতারকরা জানায়, টাকাগুলো একটি বাক্সে রেখে বাড়ির বাইরে নির্দিষ্ট স্থানে রাখতে হবে। পরে ‘ব্যাংক নিরাপত্তা কর্মকর্তারা’ এসে তা সংগ্রহ করবেন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতারকদের নির্দেশ মেনে ওই নারী নগদ অর্থ বাইরে রেখে দেন। কিছুক্ষণ পর একজন ব্যক্তি এসে সেই টাকা নিয়ে যায়। কিন্তু অর্থ নেওয়ার পরও প্রতারকদের দাবি থামেনি। পুলিশ জানায়, তারা আবার ওই নারীর সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং একই কৌশলে আরো ৩০ হাজার ডলার দেওয়ার নির্দেশ দেয়। এবার বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে ওই নারী পুলিশের সাহায্য নেন। এরপর রিভারসাইড টাউনশিপ পুলিশের গোয়েন্দারা একটি বিশেষ পরিকল্পনা করেন। ভুক্তভোগীকে সঙ্গে নিয়ে তারা প্রতারকদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখেন এবং এমনভাবে পরিস্থিতি তৈরি করেন যাতে অভিযুক্তরা আবার টাকা সংগ্রহ করতে আসে।

পুলিশ জানায়, নির্ধারিত স্থানে টাকা নিতে দুই ব্যক্তি উপস্থিত হলে গোয়েন্দারা তাদের আটক করেন। পরে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করে গ্রেফতার করা হয়। আইনশৃঙ্খলা কর্মকর্তারা বলছেন, এ ধরনের প্রতারণায় অপরাধীরা সাধারণত প্রযুক্তিগত সমস্যা, ব্যাংক নিরাপত্তা, সরকারি সংস্থার তদন্ত কিংবা গ্রেফতারের ভয় দেখিয়ে মানুষকে মানসিক চাপে ফেলে দ্রুত অর্থ আদায়ের চেষ্টা করে। অপরিচিত ফোন কল, কম্পিউটারের পপ-আপ সতর্কবার্তা বা জরুরি অর্থ পাঠানোর অনুরোধের ক্ষেত্রে সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ।

বাংলাদেশি কমিউনিটির সূত্রে জানা গেছে, মোহাম্মদ জেড. ইসলামের গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় এবং এমডি এন. ইসলামের বাড়ি নড়াইল জেলায়।

রিভারসাইড টাউনশিপ পুলিশ জানিয়েছে, একই ধরনের প্রতারণার শিকার হয়ে থাকলে বা এই ঘটনার বিষয়ে কারও কাছে কোনো তথ্য থাকলে তাদের ডিটেকটিভ বিভাগে যোগাযোগ করতে হবে। যোগাযোগের জন্য ফোন নম্বর ৮৫৬-৪৬১-৮৮২০ এক্সটেনশন ১১৪। এদিকে, গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হলেও আদালতে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তারা আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।


প্রকাশক: মঞ্জুর হোসেন

সম্পাদক: মিজানুর রহমান

House : 29, Road : 01 Sector : 02, Block :F Aftabnagar, Dhaka:1212 (Opposite China Building) E-mail : deshusdhaka@gmail.com (Advertising & News For Bangladesh)